1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৩২ অপরাহ্ন

নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজার

রফিক মুহাম্মদ, ইনকিলাব
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ৬ বার পঠিত

কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে খাদ্যমন্ত্রীর দাম কমানোর হুশিয়ারি এবং ভোক্তা অধিকারের অভিযানেও কমছে না চালের দাম। মুনাফা লোভি ব্যবসায়ীদের চালবাজিতে বাজার এখনো অস্থির। মন্ত্রীর সামনে দাম কমানোর বিষয়ে একমত পোষন করলেও পরে তারা তা ভুলে গেছে। চালের দাম কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও সরকারের এতসব উদ্যোগের পরেও খুচরা পর্যায়ে কমেছে কেজিতে মাত্র ২ টাকা।

গত মাসে নির্বাচনের সময় চালের দাম বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে খুচরা পর্যায়ে মান ভেদে চালের দাম কেজিতে বাড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। আমনের ভরা মৌসুমে চালের দাম এমন অস্বাভাবিক বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন ধারণ খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সংসার চালাতে সবারই নাভিশ্বাস অবস্থা। এ সময় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার নানান উদ্যোগ গ্রহণ করে।

নতুন সরকারের মন্ত্রী সভা গঠনের পর গত ১৭ জানুয়ারি চাল মজুতকারীদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন খাদ্য মন্ত্রী। এ নির্দেশনার পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে মজুতবিরোধী অভিযান শুরু করেছে খাদ্য অধিদফতর। প্রতিদিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। অবৈধ মজুত করা ধান-চাল জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। মাঝে মধ্যে খোদ খাদ্যমন্ত্রী নিজে অভিযানে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে বাজারে কোন প্রভাব পড়ছে না। এসব উদ্যোগের কোন সুফল পাচ্ছে না সাধারণ ভোক্তারা। খুচরায় আগের দামেই চাল কিনে খেতে হচ্ছে।

গত ১৮ জানুয়ারি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ওরিয়েন্টাল অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট নামে এক মিলে অভিযান চালায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় সেখানে অনুমোদিত মজুতের থেকে অতিরিক্ত ২২৫ টন ধানের মজুত পাওয়া যায়। এসব মজুত করা ধান ওই সময় জব্দ করে সরকার। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মিল মালিকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জব্দ ধান সরেজমিনে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এমন ঘটনা শুধু দিনাজপুরে নয়, প্রতিদিন সারাদেশে এমন অবৈধ মজুত জব্দ, ফুড গেইন লাইসেন্সসহ অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, মূল্যতালিকা না থাকা এবং বেশি দামে ধান-চাল বিক্রির জন্য মামলা-জরিমানা করা হচ্ছে সারাদেশে। খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রতিদিন কয়েকশ প্রতিষ্ঠানকে লাখ লাখ টাকা জরিমানার তথ্য দিচ্ছে। তারপরেও স্থিতিশীল হচ্ছে না চালের বাজার।

যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অভিযানের ফলে কোথাও কোথাও ধান ও চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে আগেই উচ্চমূল্যে থাকা চালের দাম কমেছে সামান্যই। অর্থাৎ, নির্বাচনের সময় ও পরের কয়েকদিন চালের দাম ছয় টাকা থেকে সাত বাড়লেও অভিযানের পর মোকাম ও পাইকারি বাজারে কমেছে দেড় থেকে দুই টাকা কেজিপ্রতি। সামান্য এ দরপতনের খুচরায় কোন প্রভাব নেই।

তবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার দাবি করেছেন, অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযানের ফলে মিলগেট থেকে খুচরা সব পর্যায়ে চালের দাম কমেছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ দাবি করেন তিনি। এসময় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু উপস্থিত ছিলেন।

তবে সাধারণ ক্রেতারা খাদ্যমন্ত্রীর এ দাবির সাথে একমত হতে পারছেন না। খিলগাঁয়ে বেসরকারি একটি স্কুলের অফিসসহকারী মো. সালাউদ্দিন বলেন, দেখুন বাজারে চালের দাম কমানোর বিষয়টা আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের সাথে রসিকতা করার মতো অবস্থা। প্রথমে ব্যবসায়ীরা ৫-৬ টাকা দাম বাড়ালো। এরপর সরকার নানা তোড়জোড় দেখানোর পর দাম ১/২ টাকা কমলো। তাতে ব্যবসায়ীরা খুশি। আর আমরা বোকারও সব সয়ে যাচ্ছি। আমাদের এমন বোকা বানিয়ে ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটে যাচ্ছে, যার প্রশ্রয় তারা সরকারের কাছে পায়।

মালিবাগ বাজারের চাল ব্যবসায়ী আল ইসলাম রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মামুন বলেন, পাইকারি চালের বাজার এখনো চড়া। আমরা শুনেছি মোকামে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে গত মাসে দাম বেড়ে যেখানে উঠেছিল, সেখানেই আছে বলা চলে। তাই খুচরা বাজারে দাম কমেনি। পাইকারিতে দাম কমলে খুচরায় কমবে।

ঢাকার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগেই উচ্চমূল্যে থাকা চালের দাম কমেছে সামান্যই। বাজারে মিনিকেট চাল কেজিতে ছয় টাকা বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে কমেছে সর্বোচ্চ দুই টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, যা একমাস আগে বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৬ টাকায়। আর নির্বাচনের পরে ৭১ থেকে ৭২ টাকা বিক্রি হয়েছিল। খুচরা বাজারে এখনো মিনিকেট ৭২ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এভাবে ব্রি-২৮ জাতের চালের কেজি ৫৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হলেও সবশেষ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়, স্বর্ণা ৫০ থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হলেও এখন ৫৩-৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মোকাম ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, দাম আগের মতো নেই। অনেক কমেছে। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সেই তুলনায় দাম কমাচ্ছেন না। তাদের অধিক মুনাফার প্রবণতা বেশি।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন আড়তদাররাই অর্থৎ মিল মালিকরাই চালের বাজার বেশি অস্থির করেছেন। যে কারণে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তারা দাম কমানোর বিষয়ে একমত হলেও তাদের মোকামে এখনো ঠিকভাবে চালের দাম কমাচ্ছেন না। মিল মালিকরা ধান কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। এর ফলে ভরা মৌসুম হলেও এখন কৃষকের কাছে ধান নেই। মৌসুমের শুরুতে এক শ্রেণির মজুতদার ধান কিনে মজুত করেছেন। তারা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে দাম হু হু করে বেড়ে ছিল। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে সারাদেশে নানা অভিযানের কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এ ভাবে অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে।

বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করার প্রবণতা চলছেই। চালকল মালিকেরা ধান ব্যবসায়ীদের দুষছেন। আর চাল ব্যবসায়ীরা এই দায় চাপাচ্ছেন মিলমালিকদের ওপর। করপোরেট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও চালের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park