1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:১৯ অপরাহ্ন

প্রতিযোগিতাহীন প্রক্রিয়ায় খাদ্য হ্যান্ডলিং কাজ পাচ্ছেন বড় ঠিকাদাররা

বণিক বার্তা
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ২১ বার পঠিত

চট্টগ্রামের ১৬ স্থানীয় খাদ্য ডিপো

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) ও লোকাল স্টোরেজ ডিপোর (এলএসডি) খাদ্য লোড-আনলোডের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সম্প্রতি সিএসডির পর এলএসডির দরপত্র প্রক্রিয়াও প্রতিযোগিতাহীন করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন বাতিল হয়ে মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাচ্ছে স্থানীয় খাদ্যগুদামের হ্যান্ডলিং (লোড-আনলোড) ব্যবস্থাপনা। এতে খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি বা অপচয় বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামের দুটি সিএসডিতে ওপেন টেন্ডার মেথডের (ওটিএম) বদলে স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টের (এসটিডি) মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর ১৬টি এলএসডিতে খাদ্য হ্যান্ডলিংয়ের ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে অনুযায়ী, ১২০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে দরপত্রের দুটি বিশেষ শর্তের কারণে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানই বাদ পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে ৮২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে খাদ্য বিভাগ দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতাহীন করার চেষ্টা করছে। এতে করে একচেটিয়াভাবে বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্য লোড-আনলোডের কাজে বাড়তি অর্থ আদায় করবে।

তারা বলছেন, ১৬টি এলএসডির কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেসব শর্ত রাখা হয়েছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই কেবল এসব শর্ত পূরণ করতে পারবে। এভাবে প্রতিযোগিতামূলক একটি দরপত্র প্রক্রিয়াকে সিন্ডিকেটের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

খাদ্য বিভাগের নতুন দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে অভিযোগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এয়ার মোহাম্মদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী এয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘সিএসডিগুলোকে সিন্ডিকেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। নতুন এসটিডি পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশের শত শত স্থানীয় খাদ্যগুদাম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

ব্যবসার সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বিনষ্ট করে শুধু বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করতে সক্ষম এমন শর্ত দিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বাদ দেয়া না হলে সারা দেশের গুদামগুলোর হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে।’

চট্টগ্রামের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুমাইয়া নাজনীন বলেন, ‘আমরা পিপিআরের নিয়মনীতি শতভাগ মেনে দরপত্র আহ্বান করেছি। আগের পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। তা মেনেই কাজ হচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাচ্ছে বা পাচ্ছে না তাতে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা মন্ত্রণালয়ের নতুন দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি।’

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১৬টি এলএসডিতে খাদ্য হ্যান্ডলিংয়ের ঠিকাদার নিয়োগে ১০০ নম্বরভিত্তিক দরপত্রে প্রতিটি ২০ নম্বর করে পাঁচটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। মানদণ্ডের ৩ ও ৪-এ যে বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে তার শতভাগ হাসান অ্যান্ড কোং, জয় কন্সট্রাকশন, আসাদ ট্রেডিং, তানজিলা এন্টারপ্রাইজ, রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের সমন্বয়ে গঠিত কয়েকটি গ্রুপ ছাড়া আর কোনো ঠিকাদারের নেই। অভিযোগ উঠেছে, খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগশাজসে ওটিএম পদ্ধতি বাদ দিয়ে এসটিডি পদ্ধতিতে হ্যান্ডলিং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park