1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২৬ অপরাহ্ন

ভেষজ ওষুধ বিক্রি করে অঢেল সম্পদের মালিক দুই ভাই

যুগান্তর
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৩ বার পঠিত

  • ফেসবুক পেজ খুলে প্রতারণার জাল
  • দুই ভাই রিয়াজ ও শুক্কুর। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া দুই ভাই প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যৌনশক্তিবর্ধক ভেষজ ওষুধের বিজ্ঞাপন দিয়ে ও ওষুধ বিক্রি করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

    রিয়াজ-শুক্কুরের গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা এলাকায়। তাদের বাবার নাম জহিরুল আলম। ৫ বছর আগেও যারা রিকশা চালিয়ে ও চায়ের দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা এখন থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর আলিশান ফ্ল্যাটে। দুই ভাইয়ের দুটি ব্যাংক হিসাবে শত কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজও মিলেছে। তাদের একাধিক আত্মীয়স্বজনও এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভেষজ ওষুধ বিক্রির নামে দুই ভাই ৫ বছর আগে প্রতারণা শুরু করেন। বিশেষ করে ফেসবুক পেজ খুলে তারা চটকদার বিজ্ঞাপন দেন। পেজে মোবাইল ফোন নম্বর দেন। মোবাইল ফোন রিসিভ করার জন্য রাখেন বেতনভুক্ত কর্মচারী। অভিযোগ-ওষুধের নামে তারা স মিলের গাছের গুঁড়ি ও ময়দার মিশ্রণ করে বিশেষ ফাইল তৈরি করে। আর একেকটি ওষুধের ফাইলের দাম ৩ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ধরা হয়। ওষুধ কুরিয়ারে পাঠানো হয়। নগদ টাকা না নিয়ে নগদে বা বিকাশে নেওয়া হয়। প্রতারণা করে প্রতারক দুই ভাই ও তাদের চক্র হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ৫ বছরে দুই ভাই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এসেছে। এরই মধ্যে যশোর ও চট্টগ্রামে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।

    প্রতারণার শিকার শাহজাহান প্রতারক রিয়াজ, শুক্কুর ও তাদের বাবা জহিরুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে অভিযোগ দিয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই ভাই সারা দেশে অর্ধশতাধিক সেলস সেন্টার খুলেছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ১৭টি, ঢাকায় ১২টি, গাজীপুরে সাতটি, নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি, রংপুরে চারটি সেলস সেন্টার রয়েছে। এসব সেলস সেন্টারে প্রতারণার কাজে অসংখ্য অনিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা হয়। গত বছর যশোর জেলা পুলিশ শুক্কুরকে গ্রেফতার করে। পরে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সে ফিরে আসে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলাকায় চার-পাঁচ বছর আগেও টং দোকানদারি এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন দুই ভাই রিয়াজ ও শুক্কুর। এখন তারা প্লট, ফ্ল্যাট, জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদের মালিক। ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীতে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা এলাকায় রয়েছে জমি, বিলাসবহুল বাড়ি, নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলি মৌজায় রয়েছে ৭২ দশমিক ৪২ শতক জমি, ১৫ শতক জায়গার ওপর রয়েছে একটি ভবন। নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা মৌজায় প্রায় ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দামের ৩০ শতক জায়গা। নগরীর অভিজাত এলাকা হিসাবে পরিচিত পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার জাকির হোসেন রোডে কিনেছেন কোটি টাকার ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটটিতে বসবাস করেন রিয়াজ।

    চট্টগ্রামে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর পতেঙ্গা থানার দক্ষিণ পতেঙ্গা মৌজায় (চসিকের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড) ৩০ শতক জমি কিনেছেন দুই ভাই। দলিল নম্বর ১৮৮৮২। জায়গাটি চারজনের কাছ থেকে কিনেছেন তারা। দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকৃত অর্থে জমির মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে রিয়াজ ও শুক্কুরের নামে খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে। একইভাবে নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর দুই ভাই মিলে ৭২ দশমিক ৪২ শতক জায়গা (প্লট) কেনেন। দলিল নম্বর ৫৩৫৬। জায়গাটি চারজনের কাছ থেকে কেনেন তারা। দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকৃত মূল্যও ৫ কোটি টাকার বেশি। একইভাবে বিভিন্নজনের কাছ থেকে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

    ভুক্তভোগী শাহজাহান বলেন, যৌনশক্তির ওষুধ বিক্রির নামে প্রতারক চক্রটি নিরীহ ও অসুস্থ রোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে তারা নিঃস্ব করেছে। এ কারণে দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

    প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে দুই ভাইয়ের দুটি মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    Facebook Comments Box
    এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

    ফেসবুকে আমরা

    © স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
    প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park