1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৪২ অপরাহ্ন

বেশি প্যাকেজ মূল্যের কারণে ফেরত যাচ্ছে হজের কোটা

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ৭ বার পঠিত
  • ৮০ হাজার টাকার টিকিট প্রায় ২ লাখ টাকা
  • সিন্ডিকেট মুক্ত হলে ৫ লাখ টাকায় হজ সম্ভব
  • চতুর্থ দফায় হজ নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। বার বার সময় বৃদ্ধির পরও মুলত: দ্বিগুণের বেশি বিমান ভাড়া আর প্যাকেজের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারনে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনে ভাটা পড়েছে। পূরণ হচ্ছে না স্বচ্ছল মুসলমানের ফরজ ইবাদত হজের কোটা। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে হজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনকে। তবে গতকাল রাতে নিবন্ধনের শেষ সময় পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫ হাজার২৯৬ জন এবং সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ১৬৫ জন। এখনো প্রায় ৪৮ হাজার হজ গমনেচ্ছুদের কোটা ফাঁকা রয়েছে। ফলে গত বছরের মতো এবারও কোটা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মতিউল ইসলাম বলেন,৭ ফেব্রুয়ারি হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি সরকারকে জানিয়ে কোটা সারেন্ডার করতে হবে। বাংলাদেশি কোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রীর জন্য মাথাপিছু সিকিউরিটি মানি হিসাবে ২৮ রিয়াল করে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি সরকারকে মোট সংখ্যা না জানালে বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না।

    হজ এজেন্সিগুলো বলছে, প্যাকেজে বাড়ি ভাড়া, বিমান ভাড়া, সৌদি আরবে যাতায়াত খরচ মাত্রাতিরিক্ত ধার্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ট্যাক্সও অস্বাভাবিক। নির্ধারিত এয়ারলাইন্স ছাড়া হজযাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, সাউদিয়া এয়ার লাইন্স এবং নাস এয়ার ছাড়া অন্য কোন উড়োজাহাজে হজে যাওয়া আসা করার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট হজযাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য থার্ড ক্যারিয়ারের সুযোগ বন্ধ করেছে। সিন্ডিকেটমুক্ত হলে ৫ লাখ টাকার মধ্যে কোরবানীসহ হজ করা সম্ভব। এই মনোপলির বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করে গত জানুয়াারর প্রথম সপ্তাহে হাইকোর্ট রুল জারি করলেও সংশ্লিষ্টরা গা করছেন না।

    এজেন্সি মালিকরা জানান, হজ প্যাকেজের অতি উচ্চমূল্যের কারণে হজ গমনেচ্ছুদের অনেকের বাজেটে কুলাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম। সংসার চালাতে সাধারণ মানুষের হিমশিম অবস্থা। এ ছাড়া শিক্ষা-চিকিৎসাসহ সব খাতে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। হজের জন্য যারা অল্প অল্প করে দীর্ঘদিন টাকা জমিয়েছেন তাদেরও বাজেটে টানাটানি। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা এবার হজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের অনেকেই হজের পরিবর্তে অল্প টাকায় ওমরাহের দিকে ঝুঁকছেন। তবে দেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকা সচল হলে ফের হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুইটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। আর বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। অপরদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুইটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। যদিও গত বছরের চেয়ে এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে ব্যয়। তবুও বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্যকে অনেক বেশি মনে করছেন হজে যেতে আগ্রহীরা।

    হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান, গত ১০-১৫ বছরে আমি এমনটা দেখিনি। এবারের যে লক্ষ্যমাত্রা সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। যে কোনো কারণেই হোক এ বছর হজযাত্রীদের আগ্রহ কিছুটা কম। কোনো কারণে হয়তো মানুষের হাতে টাকা-পয়সা কম। তাই এ বছর হজ করতে চাচ্ছেন না। পরে হয়তো করবেন। আর অনেকে ওমরাহ করে নেওয়ায় হজে এখনই আগ্রহী হচ্ছেন না। শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান,হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য আবারো সময় বাড়াতে আমরা ধর্ম মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছি। গত বুধবার সারাদিন সার্ভার ডাউন ছিল। এ কারণে অনেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি। আশা করি সময় বাড়ানো হবে। গত বছর আট দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল। আল নাফি ট্রাভেলসের মালিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত খরচের কারণে মানূষ হজে যেতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়া বিমান টিকিট হঠাত্ করেই প্রায় ২ লাখ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হজে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিমানের টিকিটের মূল্য কমানোর জন্য আমরা বারবার সরকারের কাছে অনুরোধ করা সত্ত্বেও সরকার আমাদের দাবি মানেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হজ এজেন্ট বলেন,পুরো হজ প্যাকেট নিয়ন্ত্রন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) কোনো কোনো শীর্ষ নেতা টিকিট সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এজন্য বিমানের টিকিটের দাম হঠাত্ করেই বাড়ানো হয়েছে। বিমান টিকিটের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও এবার কোটা পূরণ করতে পারত বাংলাদেশ। এই সিন্ডিকেট বাধা দেওয়ায় তিনটি এয়ার লাইন্স ছাড়া অন্য কোন এয়ার লাইন্স হজযাত্রী বহনের সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তারা যা চাচ্ছে সেই দামে হজ যাত্রার টিকিট কাটতে হচ্ছে।

    এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় চলতি বছরের হজের খরচের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বাড়ি ভাড়া, বিমান টিকিট ও সার্ভিস চার্জ কমেছে আগের বছরের চেয়ে। এ বছর বিমান ভাড়া এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৩ সালে ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।এবার মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া এক লাখ ৬৯ হাজার ৪১০ টাকা। এই খাতে গত বছর হাজিদের দুই লাখ ৪ হাজার ৪৪৫ টাকা ব্যয় করতে হয়েছিলো । ২০২৩ সালে তাঁবু, ম্যাট্রেস, বিছানা, চাদর, বালিশ কম্বল, খাবার সরবরাহে মোয়াল্লেম সেবার সার্ভিস চার্জ এক লাখ ৬০ হাজার ৬৩০ টাকা। এবার এই সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য চার্জের মোট অংক এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৪ টাকা। এর বাইরে পরিবহন ব্যয় বা ভিসা ফি’র মতো খরচগুলো প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে।

    এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় হজের খরচ তুলনামূলক অনেক কম। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ কোন দেশেই হজ করতে এমন উচ্চমূল্য দিতে হয় না।

    Facebook Comments Box
    এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

    ফেসবুকে আমরা

    © স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
    প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park