1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

বনবিভাগের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি মইজ্জ্যারটেক টোলপ্লাজায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৬৩ বার পঠিত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের আরাকান মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন বিভাগের বিরুদ্ধে। অথচ, কাগজে কলমে মইজ্জ্যারটেকে বন বিভাগের কোন চেকপোস্ট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে বৈধ-অবৈধ সকল কাঠ, বাশঁ ও বনজদ্রব্য পরিবহনকারী ট্রাক থেকে বনরক্ষীরা চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা আদায়ে অংশ নেয়া সকলেই শহর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলে জানা যায়।

জানতে চাইলে কাঠ বোঝাই ট্রাকের চালক মো. রফিক টোলপ্লাজা পার হয়ে নতুনব্রিজে এসে বলেন, মইজ্জ্যারটেক টোলপ্লাজায় বনবিভাগের লোকজন প্রতিটি ট্রাক থেকে ২-৩ হাজার করে টাকা আদায় করেন। কাগজের ভেতরে করে। বড় ট্রাক ও ছোট ট্রাক ভেদে চাঁদার অঙ্কেও হেরফের হয় বলে তিনি জানান।

ওদিকে, অনুসন্ধান বলছে, বন বিভাগের লোকজন বৈধ কাগজপত্র চেকিং করার নামে সুকৌশলে চাঁদা নেন। এমন কি চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলে চাঁদা নেয়া কিছুদিন বন্ধ থাকে। পরে আবারো বন বিভাগের সদস্যরা তাদের নিজস্ব গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-ঠ ১১-৪১৩৭) এসে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে বন বিভাগের একটি মোটর সাইকেলও তাতে অংশ নেন।

ভিডিও চিত্রে স্পষ্টই দেখা যায়, কাঠবহনকারী লরি ও ট্রাকগুলোকে টোলপ্লাজার সামনে দাঁড় করিয়ে বন বিভাগের লোকজনকে চাঁদা নিতে। প্রতিদিন ৪০টিরও অধিক কাঠ বহনকারী ট্রাক এ সড়কে আসা যাওয়া করে। এতে স্থানীয় পুলিশের নামেও কৌটা রাখেন বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানের তথ্য মিলে, প্রায় সময় এ সড়কে কাঠ ও বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ বহন করা ট্রাকগুলো হলো- চট্ট মেট্টো-ট-১১০৮৬৫, চট্ট মেট্টো-ট-১১১১২৩, চট্ট মেট্টো-ঝ-৮০৭২২, শেরপুর ঠ-১১০০০৬, চট্ট মেট্টো-ঠ ২২০০৭১, চট্ট মেট্টো-ঠ-১১১০২২, চট্ট মেট্টো-ঠ-১২০৬৭৯, চট্ট মেট্টো-ঠ-১৪১৪১২, চট্ট মেট্টো-ঠ-১১০১০১, চট্ট মেট্টো-ঠ-৬২০২৪৬, চট্ট মেট্টো-ঠ-১১৪১৩৭ ও ঢাকা মেট্টো-ঠ-১৪১২৪১। প্রতি সপ্তাহে ঘুরে ফিরে এসব ট্রাকগুলো কাঠ পরিবহনে অংশ নেন।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকার তিনটি জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য জেলা থেকে আসা বনজ কাঠ, ফার্ণিচার ও বাঁশসহ বিভিন্ন বনজদ্রব্য জেলায় জেলায় পরিবহনে ট্রানজিট পাসের দরকার হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হন ট্রাক চালকেরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের অধীনে শহর, রাঙ্গুনিয়া, পদুয়া, পটিয়া, কালীপুর, জলদি, বারবাকিয়া, চুনতি, মাদারসা, কুরশিয়া, দোহাজারি, পোমরা পরীক্ষণ ফাঁড়ি, পটিয়া এসএফএনটিসির আওতাধীন ৩৬টি বিট রয়েছে। রয়েছে কোষ্টাল উপকুল, বোটানিক্যাল গার্ডেন, কক্সবাজার উত্তর-দক্ষিণ, লামা, বান্দরবান, পালবোর্ড বান্দরবান, বন ব্যবহারিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন বন বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মইজ্জ্যারটেক টোলপ্লাজায় কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, টোল প্লাজার সিসিটিভিগুলো পরীক্ষা করলে দেখা যাবে বনবিভাগের লোকজন প্রতিদিন এসে কীভাবে চাঁদাবাজি করেন।

যার টিমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সেই চট্টগ্রাম শহর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল আলম এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও মন্তব্য পাওযা যায়নি।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাস ও উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মইজ্জ্যারটেক এলাকায় আমাদের অধীনে দায়িত্বে নেই। দক্ষিণের যিনি দায়িত্বে আছেন। ওনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

এদিকে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মইজ্জ্যারটেক এলাকায় বনবিভাগের কোনো চেকপোস্ট থাকার কথা না। যদিও থাকে তারা টাকা নেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। কোনো তথ্য প্রমাণ ও গাড়ির নাম্বার থাকলে আমাদের কাছে পাঠান আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park