1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

নদভীর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন মোতালেব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৭ বার পঠিত

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর ‘দুর্নীতির শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন বিজয়ী এম এ মোতালেব।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মোতালেব এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয় পেয়েছেন এম এ মোতালেব। তিনি সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিল্পপতি মোতালেব উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে ভোটের মাঠে এসেছিলেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১০ বছর সংসদ সদস্য থাকার সময় নদভী ও তার লোকজনের অত্যাচার-নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে মোতালেব বলেন, ‘মাদার্শা, এওচিয়া, সোনাকানিয়া, নলুয়া, চরতীতে বালুমহাল দখল-বেদখল, টপ সয়েল বিক্রির মহোৎসব, কৃষককে গুলি করা, বন উজাড় করা, মানুষের বাড়িভিটা দখল, ইটের ভাটা দখল, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সবকিছুই করেছেন। কথায় কথায় মানুষের সম্মানহানি করা, নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করতে তিনি সাতকানিয়াকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছিলেন।’

‘আমরা তার ও তার পরিবারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র খুব শিগগিরই প্রকাশ করব’- বলেন মোতালেব। শুরু থেকেই নদভী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অনেক চেষ্টা করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এমন কোনো হীনকর্ম নেই যা তিনি করেননি। ঘরে ঘরে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন, হামলা করেছেন, মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন তার লোকজন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হামলা করে, ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচনের ফলাফল অনুকূলে নিতে অপচেষ্টা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে, জনবিরোধী ভূমিকা রেখে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দলবিচ্ছিন্ন হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নদভী ও তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’ করছে। বিভিন্ন ধরনের উস্কানি দিয়ে প্রশাসনকে বিব্রত করার অপচেষ্টা করছেন।’

মোতালেব বলেন, ‘সাতকানিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে ,সেগুলো ব্যক্তিগত বিরোধের ফলে হচ্ছে। কিন্তু তারা সেসব ঝামেলাগুলোতে নির্বাচনি প্রলেপ দিচ্ছেন। সাতকানিয়া এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শান্তিপূর্ণ, সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নিজেদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিরোধ যদি কেউ নির্বাচনের আড়ালে মেটানোর চেষ্টা করে, সে দায় আমি নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে অনেকেই আমার বিরোধিতা করতে পারেন, এটা তাদের নিজ নিজ অধিকার। আমার বিপক্ষে যারা কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও আমার কোনো ক্ষোভ নেই, সুতরাং বৈরিতাও নেই। সবাই মিলেমিশে কাজ করে সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে শান্তির জনপদে পরিণত করতে চাই।’

মোতালেবের প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ডাক্তার আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘সাতকানিয়ায় গত ১০ বছরে সংসদ সদস্য যেসব রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন, সেখানে গীতা পাঠ করতে দেওয়া হতো না, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের আচার পালন করতে দেওয়া হতো না। আমরা এ ধরনের সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া হবে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের। আমরা সকল নাগরিকের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চাই।’

নদভী ও তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনোত্তর সহিংসতার গুজব ছড়াচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ঘটনা নয়। সাবেক এমপি সাহেবের পরিবারের কাছে অসংখ্য মানুষ টাকা পান। অসংখ্য মানুষের জমি কিনে মাছের প্রজেক্ট করেছেন। তাদের টাকাপয়সা ঠিকমতো দেননি। এগুলো নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা লোকজনকে বলেছি, পাওনা থাকলে আপনারা আদালতে যান, আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না।’

উল্লেখ্য, ‘জামায়াত ঘরানার’ নদভীকে দলে এনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথম মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ, যিনি ‘মধ্যপ্রাচ্য লবির’ জন্য আগে থেকেই পরিচিত ও আলোচিত। ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ তাকে দলে নিলেও দলটির পোড়খাওয়া অনেক নেতাকর্মীই সেসময় তাকে মেনে নিতে পারেননি। একাংশের বিরোধিতার মধ্যেই নদভী ‍দুই দফায় সাংসদ নির্বাচিত হন।

তবে এবার তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠজন এম এ মোতালেবের কাছে ধরাশায়ী হন। মোতালেব ৮৫ হাজার ৬২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর নৌকা প্রতীকে নেজামুদ্দীন নদভী পেয়েছেন ৩৯ হাজার ২৫২ ভোট।

সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী মোতালেব ১০০ দিনের মধ্যে পাঁচটি সড়ক, একটি মসজিদ ও একটি কবরস্থান সংস্কারের কাজ শুরু ও ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসময়ে ৮টি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

সংবাদ সম্মেলেনে মোতালেবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও সাতকানিয়ার পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দিকী, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ লিটন, সাতকানিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর লালুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park