1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ‘মামলা-কৌশল’

রবিউল রবি, সিভয়েস
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৩১ বার পঠিত

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে (আরসিফুড) আছে ৪৫৭ জন পরিবহন ঠিকাদার। তাদের মেয়াদ শেষ প্রায় ৬ বছর। এরই মধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্রও আহ্বান করা হয়। তবে তালিকাভুক্ত ঠিকাদার নয়— এমন দুজন অসাধু ঠিকাদারদের যোগসাজশে বিভিন্ন অজুহাতে পৃথকভাবে মামলা ঠুকে স্থগিত করে দিয়েছে দুটি নিয়োগ কার্যক্রম। ফলে, মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও বছরের পর বছর ধরে ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোনো ঠিকাদারেরা। বিভিন্ন সময় পরিবহনকালে চাল-গম চুরি করতে গিয়ে তারা ধরা পড়লেও খাদ্য অফিসের কর্তাদের ‘পকেট ভরিয়ে’ পার পেয়ে গেছেন চুরির অভিযোগ থেকে।

তবে, কিছু ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের দাবি— নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হলেও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে খাদ্য ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে যেতে। এরকম হলে ‘দুই নম্বরি ফন্দি’ ভেস্তে যাবে অসাধু ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের। আর যদি পুরনো ঠিকাদাররা কাজে থাকে খাদ্য পরিবহনে অনিয়ম ও চুরি আরও বেড়ে যাবে।

মেয়াদ শেষ ২০১৯ সালেই
২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে নিয়োগ পাওয়া ৪৫৭ জন পরিবহন ঠিকাদার দরপত্র ছাড়াই এখন পর্যন্ত কাজ করছেন। ২০১৯ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হলে ওই সময় করোনা পরিস্থিতির ইস্যু দেখিয়ে তিন মাস করে করে মেয়াদ বাড়িয়েছে অন্তত দেড় বছর। পরবর্তীতে করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাও নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এই ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গন্তব্য স্থানে গিয়ে চাল ও গম চুরি করার উদ্দেশ্যে খালাসের সময় ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। ধরা পড়ার পর সেখানেও বিভিন্ন স্থানে তদবির ও খাদ্যের অফিসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ করে’ চুরির অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে ওই সিন্ডিকেট।

প্রতিমাসে সরকারের লাখ টাকা বেহাত
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল কয়েক বছরে চট্টগ্রাম নগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য বরাদ্ধকৃত চাল ও গম পরিবহন করে নেওয়ার সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে না গিয়ে খালাস হয়েছে চোরাইপথে। গত এক-দেড় বছর ধরে খাদ্য বোঝাই চাল ও গমের ট্রাকগুলো অবৈধপথে খালাসের সময় ধরা পড়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে। এসব চাল ও গম বোঝাই ট্রাকগুলো বের হয়েছিল হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি ও পতেঙ্গা সাইলো ডিপো থেকে। নির্দিষ্ট গন্তব্য না গিয়ে চোরাইপথে চাল ও গম খালাসের বিপরীতে চাল ও গম চোর সিন্ডিকেটরা সরকারের কোষাগার থেকে তুলে নিচ্ছেন প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা।

নিয়োগ স্থগিতে মামলার ‘ফাঁদ’
২০২২ সালের ৬ জুলাইয়ের দিকে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রামে আরসিফুড। ২০২২ সালের ২৬ জুলাই ‘রক্তপাতের আশঙ্কা’ করে ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন এক ব্যক্তি। যিনি এই মামলাটি করেছিলেন তিনি আরসিফুড চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত কোনো পরিবহন ঠিকাদার নন। মামলা দায়ের করার পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

ওই বছর ২৬ জুলাইয়ের পরবর্তীতে তারিখে একই ইস্যু তুলে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করেন আরেক ব্যক্তি। তিনিও আরিসফুডের তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদার নন। এই মামলায়ও নতুন ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

পরবর্তীতে এই মামলার ইস্যু ধরে ৪৫৭ জন পরিবহন ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যাওয়ার আদেশ জারি করে আরসিফুড। এখন পর্যন্ত ৪৫৭ জন পরিবহন ঠিকাদার কাজ করছে।

একই ‘কৌশল’ রাঙামাটিতেও
সম্প্রতি নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না করতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে মের্সাস এয়ার মোহাম্মদ এন্ড ব্রাদার্স। রিটের প্রক্ষিতে রাঙামাটি জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তাদের (এলএসডি) আওতায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার এলএসডি সমূহের আওতায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রম ও হ্যাল্ডলিং কাজ চালিয়ে যাওয়ার আদেশ জারি করে আরসিফুড।

রাঙামাটির মতো চট্টগ্রামেও একই উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাঙামাটির মতো চট্টগ্রামেও মাস্টাররোল অথবা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে খাদ্য পরিবহনে শ্রম ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিৎ। বছরের পর বছর ধরে পুরোনো ঠিকাদাররা যদি কাজ করতে থাকে তাহলে তো একটা সিন্ডিকেট তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই সিন্ডিকেট প্রায়ই চাল-গম পরিবহনের সময় খালাসের আগেই চুরি করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। তবুও তাদের দিয়েই কেন পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে? চুরির দায়ে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ?’

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, ‘রাঙ্গামাটি এলএসডি সমূহের মাস্টারেরোলের ভিত্তিতে ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে সিদ্ধান্তটি মন্ত্রণালয়ের। আরসিফুডের একক কোনো সিদ্ধান্ত না।’

মামলা করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত পর আরসিফুডের তালিকায় ৪৫৭ জন ঠিকাদার কাজ করছেন। চট্টগ্রামের আরসিফুডের ঠিকাদারদের ব্যাপারে অনুরুপভাবে সিদ্ধান্ত আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয় চাইলে হতে পারে।’

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park