1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:২৩ অপরাহ্ন

এ কেমন নির্বাচন! চট্টগ্রামে ভোটে আগ্রহ নেই ভোটারদের

রফিকুল ইসলাম সেলিম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৭ বার পঠিত

আর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট গ্রহণের সব আয়োজন সম্পন্ন প্রায়। অথচ যাদের জন্য এতো আয়োজন সেই ভোটারদের মধ্যে নেই কোন উৎসাহ উদ্দীপনা। চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এ কেমন নির্বাচন? ভোটে ফলাফল কী হবে তা তো সবার জানা, তাহলে ভোট দিয়ে কি হবে। কেউ বলেছেন, ভোট তো একতরফা। মাঠে একদিকে নৌকা, অন্যদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীও নৌকার সমর্থক। এ তো আমি আর ডামির ভোট। আওয়ামী লীগের কথায় বাকি যারা ভোটে আছেন তাদেরও কোন জনসমর্থন নেই। এসব প্রার্থীরা পোস্টারে ঝুলছেন, মাঠে তাদের কোন তৎপরতা নেই। অবস্থা এখন এমন- ভোট যাকেই দেন, বিজয়ী হবে নৌকা। ফলে ভোট দেওয়া আর না দেওয়া- একই বলছেন ভোটারেরা।

মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত এবং সমমনা দল ও জোটের বর্জনের মুখে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হয়ে পড়েছে। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো বলছে, দেশে নির্বাচনের নামে যা চলছে তা প্রহসন। টানা তৃতীয় বারের মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। টানা দশ দিন গণসংযোগ করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচন বাতিলের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। ব্যাপক ধরপাকড় আর ভয়ভীতির মধ্যেই এসব কর্মসূচি সফল করার চেষ্টা করছেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত হলেও তাদের নেতাকর্মীরা এখন চরম দ্বিধাবিভক্ত। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই দ্বিধাবিভক্তি। নির্বাচন জমজমাট দেখাতে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের নেতাদের ডামি হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ায় আওয়ামী লীগে গৃহবিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১২টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে আছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। কোন কোন আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। ফলে নৌকা আর ডামি প্রার্থীর পেছনে দলের নেতাকর্মীরা ভাগ হয়ে গেছেন। কর্মীদের বাগে আনতে কোন কোন প্রার্থী দুহাতে টাকা বিলিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে ১০টি আসেন মুখোমুখি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রতিদিন তারা সংঘাত সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছেন। দলের মধ্যে এমন কলহ বিবাদে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা ত্যাক্ত বিরক্ত। এমন ভোটে তাদেরও কোন আগ্রহ নেই। অথচ ভোট মানেই নেতা কর্মীদের জন্য উৎসব। দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে প্রাণপণ লড়াই। অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন না হওয়ায় এখন ভোটের মাঠে নেই কোন উত্তাপ উত্তেজনা। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নেই কোন উচ্ছ্বাস। ভোটের আগেই ফলাফল জানা। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোট নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। বরং একতরফা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কি হবে তা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা সর্বত্রই। টানা কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগে দেশ থেকে ব্যাপক পুঁজি পাচারের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক।

ব্যাপক লুটপাটের কারণে আর্থিক খাতে চরম নৈরাজ্যে চলছে। নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতিতে মানুষ দিশেহারা। আন্তর্জাতিক মহলের সকল চাপ উপেক্ষা করে তৃতীয় বারের মতো একতরফা ভোটের পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ভোটের পরে কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। রোববারের ভোট অনেকের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ভোটের দিনকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা আয়োজন চলছে। রাস্তায় টহল চলছে, মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। পুলিশ র্যাবের সাথে আধা সামরিক বাহিনী বিজিবির টহল চলছে। শুরু হয়েছে শীতের কামড়। এমন পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন। সরকারি প্রশাসনের সহায়তা পাচ্ছেন তারা। এরপরও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ডামি ভোটে ডামি ভোটার হবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park