1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

অগস্ত্যযাত্রায় গণতন্ত্র

আবদুল লতিফ মাসুম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৬ বার পঠিত

গ্রিক নগররাষ্ট্র থেকে গণতন্ত্রের সূচনা। গণতন্ত্র মানে জনগণের তন্ত্র বা ব্যবস্থা। সে সময়ে যেহেতু নগররাষ্ট্রসমূহে জনসংখ্যা ছিলো খুবই কম, তাই সম্ভব ছিলো সকল মানুষের সভায় রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে সকল নাগরিকের একত্র হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই সময়ে একবার চীন কিংবা ভারতের কথা ভাবুন। কোটি কোটি মানুষকে একত্র করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। তাই জনগণের পক্ষ হয়ে প্রতিনিধিত্বের ধারণা শুরু। এখন গোটা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রচলিত। প্রতিনিধিত্বের এই ধারণা বাস্তবায়ন হতে লেগেছে অনেক সময়। পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণেও কম সময় লাগেনি।

বলা হয়ে থাকে, ক্রমশ নানা পর্যায় অতিক্রম করে বৃটেনে প্রথম প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠানিকতা (Institutional) অর্জনে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন লক্ষ করা যায়। বৃটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত গ্রন্থ Representative Democracy-তে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের প্রায়োগিক দিক আলোচিত হয়েছে। বর্তমান পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তথা প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের প্রায় নিরঙ্কুশ গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র শাসনব্যবস্থা হিসেবে বর্তমান রয়েছে। অন্য সব রাষ্ট্রে রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েম থাকলেও তারা তাদের শাসনব্যবস্থার বিপরীতে গণতন্ত্র শব্দটিকে ব্যবহার করে। উত্তর কুরিয়ায় চরম স্বৈরতন্ত্র বিরাজ করলেও এর নাম হচ্ছে Democratic Peoples
Republic of North Koria.. এর মানে হচ্ছে, শাসকগণের কেউ কেউ গণতন্ত্রের মূল দাবিটি গ্রহণ না করলেও এর জনপ্রিয়তাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে।

বাংলাদেশ উত্তরাধিকার সূত্রে বৃটিশ গণতন্ত্রের অনুসারী। আমরা প্রায় দু’শ বছর বৃটেনের অধীন ছিলাম। কার্যত ১৯৩৫ সাল থেকে গণতন্ত্রের অনুশীলন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর উভয় দেশ বৃটিশ ধরনের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তানে পরে ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে সংবিধান প্রণয়নে লেগে যায় ৯ বছর। অপরদিকে ভারতের প্রধান নেতা জওয়াহেরলাল নেহেরুর সমকক্ষ এক ডজন নেতা থাকার কারণে ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠানিকতা লাভ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে নির্বাচন। ভারতে ১৯৪৭ থেকে আজ অবধি একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তরে নির্বাচন হয়ে আসছে। পাকিস্তানে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সংসদীয় ধারায় কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের মানুষের চরম ক্ষোভের প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে। এই নির্বাচনে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফন্ট জয়লাভ করে। পাকিস্তানের স্রষ্টা রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের কবর রচিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষ প্রথম বারের মতো হাজার মাইল দূরের পাকিস্তানের প্রতি তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতার বীজ বপন করে। এই রোপিত বীজ ফুলে-ফলে শোভিত হয়ে ১৯৭০ সালে পরিপূর্ণ বিচ্ছিন্নতারূপ বৃক্ষ ধারণ করে।

গণতন্ত্র হচ্ছে মানুষের রাগ, দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষোভ প্রকাশের বাহন। পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৩ বছরের বঞ্চনার প্রকাশ না ঘটাতে পারার কারণে মানুষের ঐ ক্ষোভ ক্রোধের আকার ধারণ করে। স্বাভাবিক নদীর প্রবাহকে যদি বাধাগ্রস্থ করা হয় তাহলে যেমন প্লাবন ঘটে, ঠিক তেমনি পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের শেষ পেরেক ঠুকে দেয় ৭০-এর নির্বাচন। উচ্চারিত হয় শ্লোগান পদ্মা, মেঘনা, যমুনাÑ তোমার আমার ঠিকানা। কার্যত মনস্তাত্ত্বিকভাবে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি দুইভাগ হয়ে যায়। গভীর রাষ্ট্র বা উববঢ় ঝঃধঃব-এর প্রবক্তারা বলে থাকেন, একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী হচ্ছে বন্ধনের বা সংহতির শেষ সম্বল। সে হিসেবে পাকিস্তানের জন্য অবশিষ্ট ছিল এই প্রতিরক্ষা বাহিনী। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো খল রাজনৈতিক নেতা পাকিস্তানকে একত্রিত না রেখে ক্ষমতা এবং শুধু মাত্র ক্ষমতার কারণে খণ্ডিত করার রাস্তা নির্মাণ করেন। আরও দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে।

পূর্ব বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ রায়কে অস্বীকার করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধি-ব্যবস্থা অনুযায়ী, নির্বাচিত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার গঠনের ন্যায্য দাবিকে অস্বীকার করা হয়। দূরবর্তী দুই পাকিস্তানের আজগুবি দাবি নিয়ে গণতন্ত্রকে পদদলিত করে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী। যেহেতু গণতন্ত্রের মূল দাবিকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং ক্ষমাতার পরিবর্তন ঘটেনি, সেহেতু এদেশের মানুষের বিদ্রোহ করার ন্যায়সংগত কারণ ঘটে। এখানে তাৎপর্যের সাথে লক্ষণীয় যে, গণতন্ত্রের মূলনীতিকে অস্বীকার করার কারণে পাকিস্তানের বিপর্যয় ঘটে। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকে তাদের শাসনব্যবস্থার মৌলিক বিষয় মনে করে। এই মূল দাবিকে অস্বীকার করার কারণে বাংলার মানুষ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণে বাধ্য হয়। এক সাগর রক্তের বিনিময় অর্জিত হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পর যথারীতি গণতন্ত্রের পথেই যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তানের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যাতে আবার নিপতিত না হয়, সেজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদীয় ধারার সাথে সংগতিপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন। সৌভাগ্যের বিষয়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃতে মৌলিক অধিকারকে নিশ্চিত করে একটি সংবিধানও রচিত হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষামতা নিরঙ্কুশ করার স্বার্থে সংবিধানকে সংশোধন করতে শুরু করে। বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণীত হয়। এই আইনের ধারায় যে কোনো নাগরিককে অনির্দিষ্ট কালের জন্য আটক রাখার বিধান রাখা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়। প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অর্ডিনেন্স জারি করা হয়। রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে মোকাবেলা না করে শক্তি প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অভিযোগ, ঐ সময়ে তার ৪০ হাজার নেতাকর্মীকে রক্ষীবাহিনী হত্যা করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করতে গেলে জাসদ নির্বিচার গুলিবর্ষণের শিকার হয়। ব্যাপক রক্তপাত ঘটে। বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টে বলেন, কোথায় সিরাজ শিকদার? ১৯৭৪ সালের ৭ মার্চ তিনি লাল ঘোড়া দাবড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। মাওলানা ভাসানী, মেজর জলিল, আ স ম রবসহ সকল বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা-বাকশাল ঘোষিত হয়। ৪টি সংবাদপত্র রেখে আর সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনাবলী। সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। নিপাতনে সিদ্ধ ঘটনার মতো সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করেন। একটি দীর্ঘ বেসামরিকীকরণ (ঈরারষরধহরুধঃরড়হ) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই স্বাভাবিক অবস্থা স্থায়ী হয়নি। সেনাবাহিনীর একটি বিপদগামী অংশ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে দেশকে আবার অস্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বেসামরিক সরকার কার্যকর থাকলেও উচ্চাভিলাসি সেনানায়ক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃতে আবার সামরিক শাসনের প্রত্যাবর্তন ঘটে। প্রায় এক দশক লেগে যায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে। ১৯৯১ সালে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় ফিরে আসে। দেশের তখনকার প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সংসদীয় রীতি মোতাবেক বিরোধীদের সংবিধানসম্মত ভূমিকা গ্রহণ না করে সংসদ বর্জন করতে থাকে। এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেঁধে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কায়েমের আন্দোলন করে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একটি দ্বিদলীয় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সুষম দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা যায়। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান প্রশ্নে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। দেশের মানুষ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তান্ডব প্রত্যক্ষ করে। এ রাজনৈতিক বিরোধকে ব্যবহার করে সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ক্ষমতা গ্রহণ করে। গণতন্ত্রের প্রতি এবং গণতন্ত্রের প্রথা প্রতিষ্ঠান বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে তথাকথিত সেনাশাসনে দু-বছর অতিক্রান্ত হয়। অবশেষে লন্ডনের ঞযব ঊপড়হড়সরংঃ-এর ভাষায়, বস্তা বস্তা ভারতীয় টাকা এবং একটি প্যাকেজ ডিলের আওতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ আজ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় আওয়ামী লীগ হাজার বছর ক্ষমতায় থাকলেও কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কেয়ামত সে কেয়ামত তক দলটি ক্ষমতায় থাকুক জনগণের সম্মতির মাধ্যমে, শক্তি প্রয়োগে নয়Ñ জনগণের দাবি এতটুকুই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ১. রাষ্ট্রীয় অঙ্গসংগঠন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে দলতন্ত্র দ্বারা পরিচালনা করে আসছে।

২. যে নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের প্রাণ, সে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যত কবর দিয়েছে। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে এবং ২০২৪ সালের সমাগত নির্বাচনকে ডামি নির্বাচনে পরিণত করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে দেশে-বিদেশে অগ্রহণযোগ্য, অকার্যকর এবং অপ্রোয়োজনীয় করে তুলেছে। ৩. গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থা অনুযায়ী বিরোধী দল অপরিহার্য। আওয়ামী লীগ সরকার সেই সংসদীয় গণতন্ত্রেকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে হাস্যকর করে তুলেছে। অপরদিকে নানামতের, নানা পথের সকল বিরোধী দলকে কার্যত নিষিদ্ধ করে রেখেছে। তাদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। যেমন খুশি নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তাদের ন্যূনতম মানববন্ধনও করতে দেওয়া হয় নাই। দৃশ্যত কোনো কোনো সময় প্রধান বিরোধী দলকে জনসভা করতে দিলেও ছলে-বলে, কলে-কৌশলে তাদের নিগ্রহ করা হয়েছে। ৪. সরকার নীতিগতভাবে একটি নিপীড়নকৌশল গ্রহণ করেছে। হামলা-মামলা, গুম-খুনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নির্মূল করা হয়েছে। এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন সমাগত। অথচ, এই সময় বিরোধী দলের প্রায় সকল শীর্ষনেতা অন্তরীণ রয়েছে। ৫০ লক্ষ লোকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ কোটি বিরোধী নেতাকর্মী ঘর-বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজধানী এবং অন্যত্র উদ্বাস্তু জীবনযাপন করছে। ৫. নির্বাচন থেকে প্রধান বিরোধী দলকে বিতাড়ন করার জন্য ২৮ অক্টোবরের সমাবেশ পন্ড করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে জন্য প্রতিদিন সুপারসনিক গতিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং মামলার চার্জশিট দেয়া হচ্ছে।

১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত উপরোক্ত বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অনুশীলন, অনুসরণ ও অনুশাসন নিরঙ্কুশ ছিল না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে শাসক আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা মুখে বললেও বাস্তবে বিপরীত। গণতন্ত্র সফল হওয়ার জন্য দুটো শর্ত অপরিহার্য। প্রথমত শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের প্রয়োগ ও পদ্ধতিগত বিষয়টি সবসময়ই অবাধ, নির্দিষ্ট ও নিরঙ্কুশ থাকতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা নির্বাসনে পাঠালে গণতন্ত্রের বদলে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্র যে শুধু প্রথা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা নয় সেটি বুঝতে হবে। বরং গণতন্ত্র যে একটি জীবনব্যবস্থা (অ ডধু ড়ভ খরভব) সেটি আচার-আচরণ, কাজ-কর্ম ও কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। সহনশীলতা, সমঝোতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বা সিভিক কালচারকে নাগরিক জীবনের অনুসঙ্গ হিসেবে অনুসরণ করতে হবে। ‘সকলের তরে সকলে আমরা,’ এই নীতিবাক্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ, পারস্পারিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর করে যদি আমরা দাঁড়াতে পারি মুক্তিযুদ্ধের মতো আর একবার, তাহলে গণতন্ত্রের বিজয় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে। অবশেষে টি, এইচ, গ্রিনের ভাষায় বলি: উবসড়পৎধপু সধুনব ভধরষবফ রহ সধহু নধঃঃষবং নঁঃ রঃ রিহং ঃযব ষধংঃ.

লেখক : অধ্যাপক ও সাবেক ভিসি পটুয়াখালী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park