1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

বান্দরবানে পানের বরজে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬৯ বার পঠিত

বান্দরবানে জনপ্রিয় হচ্ছে মিষ্টি পানের চাষ। জেলায় পানের বরজে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। নাইক্ষ্যংছড়িতে পান চাষে ভাগ্য বদলেছে চাষিদের অনেকের।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলীকদম ও বান্দরবান সদর উপজেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়েই বেড়েছে পানের চাষ। পানের বরজে স্বপ্ন বুনছেন জেলার কয়েকহাজার কৃষক। জেলায় সবচেয়ে বেশি মিষ্টি পানের চাষ হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এ বছর সাতটি উপজেলায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে চাষ পানের চাষ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৭০ মেট্রিক টন। পান চাষের মাধ্যমে বান্দরবানে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে অনেকের। এদিকে পানের বরজে একবার পান চাষ করলে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত একটানা পান বিক্রি করা যায়। তিন মাস পরপর পান তোলা যায়। তবে পান তোলার পর সেচ, সার এবং ক্ষেত ও বরজ পরিচর্যায় খরচ লাগে। পান চাষে যেমন খরচ কম, তেমনি অধিক লাভজনকও।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই মিষ্টি পানের বরজ। পানের বরজে এ ইউনিয়নে স্বপ্ন বুনছেন তিন শতাধিকের অধিক চাষি। তাদের কেউ ক্ষেত থেকে পান ছিঁড়ে ঢোলাই তুলছেন, আবার কেউ করছেন ক্ষেতের পরিচর্যা।

পানচাষি মো. আবু সৈয়দ ও জাফর আলম বলেন, তাদের দুজনের সাতটি পানের বরজ রয়েছে। ৪০ শতক জমিতে পান চাষে তাদের ৭০-৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। খরচ বাদ দিয়ে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের। বাপদাদার আমল থেকেই তাদের পরিবার পান চাষের সঙ্গে জড়িত। পান চাষের আয়েই তাদের সংসার চলে স্বচ্ছন্দে।

শ্রমিক আব্দুর রশিদ বলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পানের বরজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে সংসার চলে তাদের। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পান ক্ষেতে কয়েকশত শ্রমিক কাজ করে।

সফল পানচাষি সরোয়ার কামাল ও মো. ইসমাইল বলেন, পানের একটি ভাড় ১৫ হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। একেকটি ভাড়ে ৪৫ বিরা পান থাকে। পানের সাইজ ছোট-বড় হিসেবে দাম ওঠানামা করে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় পান চাষে আগের চেয়ে খরচ বেড়েছে, সঙ্গে মুনাফাও।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম শাহনেওয়াজ বলেন, জেলায় মিষ্টি পানের চাষ খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক এবং পরিচর্যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ফলন উৎপাদন হওয়ায় পান চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। বাজারে পানের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। এখানের আবহাওয়াও পান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পোকার আক্রমণে প্রতিকার ও পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক ফলন উৎপাদনে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে চাষিদের।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park