1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:০২ অপরাহ্ন

ফিরে দেখা ২০২৩: দেশের শোবিজ হারিয়েছে যেসব তারকাদের

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪০ বার পঠিত

জীবন মানেই মৃত্যুর পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা। মৃত্যু বরাবরই কষ্টদায়ক, অপ্রত্যাশিত। তবে জন্মালে মরতে হবেই, এটাই চিরন্তন সত্য। যদিও এই সত্য মেনে নিতে কষ্টই হয় সবার। তবু যেতে হয়। চলে যায় মানুষ। রেখে যায় তার হাজারও স্মৃতি। প্রতি বছর বিনোদন অঙ্গনের অনেক প্রিয় মুখ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ২০২৩ সালেও বিনোদন জগতের অনেক গুণীজনকে হারিয়েছে দেশ। প্রয়াতরা তাদের নিজ নিজ কাজে দক্ষতার সঙ্গে অবদান রেখে গেছেন। প্রত্যেকেই অগণিত দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান নান্টু
শ্রোতাপ্রিয় গানের সংগীত পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহান নান্টু ৭৮ বয়সে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। আনোয়ার জাহান নান্টু দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ভাই। ‘তুমি আমার মনের মাঝি’, ‘চোখের জলে ভেসে চলেছি’, ‘তুমি ডুব দিওনা জলে কন্যা’, ‘আমার সুখের সাথী আয়রে’র মত শ্রোতাপ্রিয় গানে সংগীত পরিচালক ছিলন তিনি।

নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুল
চলতি বছরের ৬ মার্চ নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুল আমাদের ছেড়ে চলে যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় দেড় হাজারের বেশি সিনেমার কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন। নৃত্যে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তিনবার জাতীয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

অভিনেতা এম খালেকুজ্জামান
একই মাসে গত ২১ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা এম খালেকুজ্জামান মারা যান। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে নিজ বাসায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নায়করাজ রাজ্জাক ও কবরীর সঙ্গে ‘অনিবার্ণ’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’।

চিত্রনায়ক ফারুক
ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক গত ১৫ মে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই অভিনেতা। ২০২১ সালের ৪ মার্চ থেকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে প্রায় দুই বছর চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক ফারুক বড় পর্দায় আসেন। অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে ভূষিত হয়েছেন আজীবন সম্মাননায়।’

নাট্য নির্মাতা মোহন খান
জনপ্রিয় নাট্যকার ও নাট্য পরিচালক মোহন খান গত ৩০ মে পরলোকগমন করেন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নাট্যকার। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ নাটক পরিচালনা ও ২০০ নাটক রচনা করেছেন মোহন খান। সমুদ্রে গাংচিল, গাংচিল ভালোবাসা, জোনাকীর গল্প, দূরের মানুষ, মধ্যরাতের অশ্বারোহী, বেলাভূমি, সেই আমরা, নীড়ের খোঁজে গাঙচিল, জেগে উঠো সমুদ্র,আঙ্গুর লতা, হৃদয়পুরের গল্প, মেঘবালিকা ও সমুদ্র সীমানায় তার উল্লেখযোগ্য নাটক।

অভিনেত্রী মিতা চৌধুরী
প্রথিতযশা অভিনেত্রী মিতা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ২৯ জুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর প্রথম ধারাবাহিকের নাম ‘শান্ত কুটির’। শুধু টিভি নাটকই নয়, মঞ্চে ‘সূচনা’ ও ‘গুড নাইট মা’-এর মতো প্রযোজনায় নিজেকে জড়িয়েছিলেন তিনি। নাটক ছাড়াও একাধিক সিনেমাতে কাজ করেছেন গুণী এই অভিনেত্রী। মিতা চৌধুরী অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে–বিষ, আন্ডার কনস্ট্রাকশন ও মেড ইন বাংলাদেশ।

পান্না কায়সার
চলতি বছরে বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, শিশু সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য, শহীদজায়া পান্না কায়সার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পান্না কায়সার ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের স্ত্রী এবং অভিনেত্রী শমী কায়সারের মা।

নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান
চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান মারা যান। বহু সফল চলচ্চিত্রের নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। সোহানুর রহমান সোহানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- কেয়ামত থেকে কেয়ামত, স্বজন, আমার ঘর আমার বেহেশত, অনন্ত ভালবাসা।

নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতউল্লাহ
চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী জিনাত বরকতউল্লাহ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ১৯৮০ সালে জিনাত বরকতউল্লাহ বিটিভির নাটক ‘মারিয়া আমার মারিয়া’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন। নৃত্যশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২২ সালে একুশে পদক পেয়েছেন জিনাত বরকতউল্লাহ।

সংগীতশিল্পী সুজিত রায়
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজিত রায় গত ২৩ অক্টোবর রাতে প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা।

অভিনেতা তারেক মাহমুদ
নির্মাতা, অভিনেতা ও কবি তারেক মাহমুদ। তিনি একাধারে নাট্যনির্মাতা, অভিনেতা ও কবি ছিলেন। তার অকাল প্রয়াণে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ বছর ২৬ অক্টোবর দিবাগন রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

হুমায়রা হিমু
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু গেল ০২ নভেম্বর মারা যান। অভিনেত্রীর মৃত্যু রহস্যজনক মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। ২০১১ সালে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে হুমায়রা হিমু’র অভিষেক হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park