1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:১২ অপরাহ্ন

এবার পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে হয়নি শর্ষে চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৬ বার পঠিত

সময়মতো পানি না নামায় নাটোরের চলনবিল ও হালতি বিলে এবার প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে শর্ষে আবাদ করা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শেষে অতি বৃষ্টি ও বিলের খাল-নদী দখল হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে শর্ষে আবাদ কম হওয়ায় মৌচাষিরাও আশানুরূপ মধু আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর চলনবিলে শর্ষের আবাদ হয় ১৬ হাজার ১২৫ বিঘা জমিতে। চলতি বছরে আবাদ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৫ বিঘা জমিতে। হালতি বিলে গত বছর শর্ষে আবাদ করা হয়েছিল ২ হাজার ১০০ বিঘায়। এবার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫০ বিঘায়। এ হিসাবে এই দুটি বিলে ৪ হাজার ৮০০ বিঘা জমিতে শর্ষের আবাদ কমে গেছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

বিপুল পরিমাণ জমিতে এবার শর্ষে আবাদ না হওয়া প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কৃষিবিদ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এবার বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে ভারী বর্ষণ হয়েছে। বর্ষণের পানি বিলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খাল দিয়ে ভাটিতে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু খাল ও নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সোতি জাল ও বানার বেড়া দিয়ে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ফলে চলনবিল ও হালতি বিলের নাটোর অংশে পানি খুব ধীরগতিতে নামছে। জমি না শুকানোয় চাষিরা সময়মতো (নভেম্বরের শুরুতে) শর্ষে বপন করতে পারেননি।

চলনবিলের সাতপুকুরিয়া এলাকার চাষি বজলুর রহমান বলেন, আগে বর্ষার পানি নভেম্বরের শুরুর দিকে নেমে গেছে। তাঁরা তখন টরি-৭ জাতের শর্ষে বোনেন। বিনা চাষেই এই শর্ষে আবাদ করা যায়। সামান্য খরচে শর্ষে ফলানো সম্ভব হয়। পানি না নামায় এবার তাঁদের অনেকেই শর্ষে আবাদ করতে পারেননি।

হালতি বিলের খোলাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জমসেদ আলী বলেন, ‘বিলের পানি না নামায় আমরা এবার অর্ধেক জমিতেও শর্ষে চাষ করতে পারিনি।’

এদিকে চলনবিল ও হালতি বিল এলাকায় প্রচুর শর্ষে আবাদ হওয়ায় খেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ শুরু হয়েছে। এ খাত থেকেও বাড়তি অর্থ আসে কৃষকের ঘরে। এবার শর্ষে আবাদ কম হওয়ায় মৌচাষিরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন। হালতি বিলের মৌচাষি বকুল হোসেন বলেন, প্রতি বিঘা শর্ষের জমি থেকে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। এ হিসাবে ৪ হাজার ৮০০ বিঘা অনাবাদি জমি থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধু আহরণ করতে পারেননি মৌচাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোরের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আগে চলনবিল ও হলতি বিলে বোরো ধানের আগে ফসল হতো না। কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিরা বোরো চাষের আগে বিনা চাষে শর্ষে আবাদ শুরু করেছেন। এতে তেমন একটা খরচ হয় না। তাই কৃষকের কাছে এ সময়ে শর্ষে আবাদ জনপ্রিয় হয়েছে। তবে এ বছর বিলের পানি নামতে দেরি হওয়ায় বেশ কিছু জমিতে শর্ষে আবাদ করা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park