1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৪২ অপরাহ্ন

আমদানি-রপ্তানি খরচ বাড়ার শঙ্কা

দৈনিক আজাদী
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৯ বার পঠিত

ইউরোপ আমেরিকাসহ সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি রপ্তানি খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রবণতায় এই আশংকা প্রকট হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে বিদ্রোহীদের হামলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অপারেটর জাহাজ ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। শতাধিক কন্টেনার জাহাজ রুট পরিবর্তন করে চলাচল করছে। চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে শুধুমাত্র একটি লাইন ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাদবাকি অপারেটরেরা এখনো ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়নি। তবে আগামী দু’চারদিনের মধ্যে প্রত্যেক লাইনই ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাকসহ নানা আমদানি রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলাচলকারী সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ লোহিত সাগর হয়ে চলাচল করে। চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজ সিংগাপুর, কলম্বো কিংবা মালয়েশিয়া গিয়ে মাদার ভ্যাসেলে তুলে দেয়। ওই মাদার ভ্যাসেল লোহিত সাগর হয়ে ইউরোপ, কানাডা, আমেরিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার দেশসহ নানাদেশে যাতায়াত করে। অপরদিকে আমদানি পণ্যও একইপথ ধরে সিংগাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা কলম্বো বন্দরে আসার পর ওখান থেকে ফিডার ভ্যাসেল চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দরে পৌঁছে। বাংলাদেশসহ এতদঞ্চলের ইউরোপ, কানাডা এবং আমেরিকা অঞ্চলে পণ্য রপ্তানিতে সহজ এবং সাশ্রয়ী পথ হচ্ছে লোহিত সাগর বা রেড–সি অতিক্রম করে যাওয়া। কিন্তু ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটতে শুরু করে। এই হামলার জন্য পরস্পর বিরোধী প্রচারণা থাকলেও বিশ্বের শিপিং সেক্টরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এতে কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কন্টেনার জাহাজসহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আফ্রিকা হয়ে চলাচল শুরু করে। সুয়েজ চ্যানেল হয়ে চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা জাহাজগুলোকে ঘুরপথের কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে প্রচুর জ্বালানি পোড়ানোর পাশাপাশি সময়ও অনেক বেশি লাগছে। ফলে পণ্য পরিবহন খাতে খরচ বাড়ছে হু হু করে। ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং অপারেটরেরা ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

জার্মানির হ্যাপাক–লয়েড আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে আমেরিকা এবং কানাডার পশ্চিম উপকূলে পণ্য পরিবহনে জেনারেল রেট ইনক্রিস (জিআরআই) এবং জেনারেল রেট এডজাস্টমেন্ট (জিআরএ) কন্টেনার প্রতি ২০০ ডলার ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯ জানুয়ারি থেকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার পূর্বাঞ্চল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে প্রতি কন্টেনারের জন্য দেড় হাজার ডলার ভাড়া বাড়িয়েছে। অপরদিকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে কানাডার পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে দেড় হাজার ডলার করে প্রতি কন্টেনারের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কন্টেনার ক্যারিয়ার এইচএমএম অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পণ্য পরিবহন খরচ প্রতি কন্টেনারে দেড় হাজার ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলোর পক্ষ থেকে ভারত উপমহাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে শুধুমাত্র একটি লাইন ঘোষণা দিয়েছে। ওয়ান লাইন নামের কন্টেনার অপারেটর বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী প্রতি কন্টেনারের জন্য ৫শ ডলার করে বাড়ানোর কথা বলে দিয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর করা হবে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই অন্যান্য কন্টেনার অপারেটরেরাও একইভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে বলেও শিপিং বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের নানাদেশে পণ্য পরিবহনে জড়িত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের আভাস দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটির পরপরই ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। যা দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়ার বিষয়টি শুনেছি। বহু পথ ঘুরে জাহাজ গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে জাহাজের পরিচালন খরচ বেড়ে গেছে। তবে জাহাজ ভাড়া বাড়লে গার্মেন্টস খাত নতুন করে সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছি আমরা। অর্ডার কমে গেছে। রপ্তানি কমছে। এরমধ্যে ভাড়ার খড়গ নামলে বিপদে পড়তে হবে। তিনি পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলেও মন্তব্য করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park