1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

রেলপথে ৩৭০ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট, ‘‌নাশকতা’ প্রতিরোধে নেই পর্যাপ্ত জনবল

বণিক বার্তা
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩১ বার পঠিত

তেজগাঁওয়ে মঙ্গলবার ভোরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয়ার ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের নাশকতার কবলে রেল। ওইদিন রাত ১১টা নাগাদ দিনাজপুরের বিরামপুরে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয় কংক্রিটের স্লিপার। দায়িত্বরত এক আনসার সদস্যের তৎপরতায় অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেস। সাম্প্রতিক সময়ে রেললাইন কেটে ফেলা, নাট বল্টু ও ফিশপ্লেট খুলে ফেলা, ট্রেনে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ, রেলপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে ‘‌হামলা’ বা ‘‌নাশকতার’ ঝুঁকিতে থাকা রেলপথের ৩৭০টি স্পট চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব স্পটে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০০ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

গত ১৬ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে রেলপথে ও ট্রেনে পাঁচটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর জন্য ‘দুষ্কৃতকারীদের’ দায়ী করেছে রেলওয়ে। প্রথম বড় দুর্ঘটনাটি হয় ১৬ নভেম্বর। ওইদিন রাতে টাঙ্গাইল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনে আগুন লেগে দুটি কোচ পুড়ে যায়। ১৯ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একইভাবে আরেকটি ট্রেনে আগুন লাগে। এতে দুটি কোচ পুড়ে যায়, একটি কোচের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২২ নভেম্বর সিলেটে আগুনে ট্রেনের একটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৩ ডিসেম্বর গাজীপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে ঢাকা-নেত্রকোনার মধ্যে চলাচল করা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। ‘‌দুষ্কৃতকারীরা’ প্রায় ২০ ফুট রেলপথ কেটে ফেললে ওই পথে চলতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায় ট্রেনটি। এতে একজন নিহত হন। ট্রেনটির ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও ছয়টি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ঠিক পাঁচদিন পর আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রেনটি। ঢাকা স্টেশনে (কমলাপুর) প্রবেশের আগে তেজগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যান ট্রেনের চার যাত্রী। সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় তিনটি কোচ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, এসব ঘটনা ছাড়াও গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে রেলপথে ১৯টি অগ্নিসংযোগ, আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ও রেলপথের ফিটিংস খুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

রেলের হিসাবে, বর্তমানে সারা দেশে সক্রিয় রেলপথ আছে ৩ হাজার ২০১ কিলোমিটার। রেলের এ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয় চারটি বিভাগের অধীনে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগভিত্তিক ৩৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে রেলওয়ে। এর মধ্যে রেলের চট্টগ্রাম বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ স্পট রয়েছে ১৬৮টি। একইভাবে পাকশী রেলওয়ে বিভাগে ১০৫, ঢাকায় ৬৭ ও লালমনিরহাটে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্পটের নিরাপত্তায় সারা দেশে ২ হাজার ৭০০ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৫৭ জন, পাকশীতে ৬৩০, ঢাকায় ৭৬৩ ও লালমনিরহাট বিভাগে ১৫০ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘‌নাশকতা প্রতিরোধে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা কাজ করছেন। এর বাইরে যে ওয়েম্যানরা রেলপথ পরিদর্শনের দায়িত্বে আছেন, নাশকতা প্রতিরোধে তারাও তৎপর রয়েছেন। আমরা পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছি। তবে রেলের এ বিশাল নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন। কেউ যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে নাশকতা করলে সেটা প্রতিরোধ করা কঠিন। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারাই এ ধরনের কাজ করছে, আমি তাদের অনুরোধ করব জনগণের নিরাপদ বাহন রেলকে টার্গেট করবেন না। পাশাপাশি রেলে নাশকতা প্রতিরোধে আমরা যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চাই। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশে রেলপথ পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রাথমিক কাজটি যারা করেন তাদের বলা হয় কি-ম্যান। একজন কি-ম্যানের দায়িত্বে থাকে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার রেলপথ। রেলপথ পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কি-ম্যানের এক ধাপ ওপরের পদ মেট। তারাও হেঁটে বা সম্ভব হলে ট্রলি নিয়ে রেলপথ পরিদর্শন করেন। রেলপথে কোথাও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা সারিয়ে দেয়া বা বড় ধরনের অসংগতি থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা তাদের কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে কি-ম্যান ও মেটদের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রাখার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

রেলপথ ও ট্রেনের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে নিজস্ব বিশেষায়িত বাহিনী। এ বাহিনীতে কর্মরত সদস্যের সংখ্যা ২ হাজার ২০১। রেলপথে চলাচলে যেকোনো বাধা দূর করা, পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ির নিরাপত্তা প্রদান, স্টেশন, প্লাটফর্ম, রোলিং স্টকসহ রেলের সার্বিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা বিধান এ বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব।

এর বাইরে ট্রেন, রেলপথ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং রেলপথে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছে রেলওয়ে পুলিশ নামে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। সারা দেশে ২৪টি রেলওয়ে থানা ও ৩২টি ফাঁড়ির মাধ্যমে কাজ করছে এ বাহিনী।

ট্রেন, রেলপথ ও রেলের অবকাঠামো রক্ষায় নিয়োজিত কি-ম্যান ও মেট, আরএনবি ও রেলওয়ে পুলিশে প্রয়োজনীয় জনবল নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান বলেন, ‘‌ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাতের ট্রেনগুলোয় আমরা গতি কমিয়ে দিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোয় কয়েক ঘণ্টা পরপর ট্রলি চালিয়ে দেখছি লাইন ঠিক আছে কিনা। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমরা সবসময় তৎপর রয়েছি। তবে রেলের জনবল কম। আমরা রেলের নিরাপত্তায় বাড়তি জনবল সম্পৃক্ত করতে কাজ করছি।’

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park