1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:১৬ অপরাহ্ন

প্রশ্নবিদ্ধ প্রসিকিউশনে লাখ টাকা সাজা!

দৈনিক সংগ্রাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৩১ বার পঠিত

মামলার প্রসিকিউটরই (বাদী) প্রশ্নবিব্ধ! অথচ এমন এক প্রসিকিউটরের প্রসিকিউশনের (অভিযোগের) ভিত্তিতে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রাজীব চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্যারটেক এলাকার ‘নূর সুইটস্’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহান গত ১২ডিসেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানটিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানার আদেশ দেন। আর সেই আদালতের ডিসিআরে প্রসিকিউটর হিসেবে দেখানো হয় মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরী নামক এক ব্যক্তিকে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় নিজ বেতনে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সহযোগি হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মনোয়ারা বেগম মনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়ম অনুসারে ডিসিআর-এ স্থানীয় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বা পুলিশের পরিদর্শক/উপপরির্দক সমমর্যাদার কারো নাম থাকে। যেহেতু এটি নিরাপদ খাদ্য সংশ্লিষ্ট আইনের দণ্ডবিধি তাই স্থানীয় উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরই প্রসিকিউটর (অভিযোগকারী/বাদী) হবেন। তবে এদিনের ডিসিআর-এ দেখা যাচ্ছে প্রসিকিউটর জনৈক মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরী। যিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাহিরে গিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দায়ের করার এখতিয়ার (ক্ষমতা) তার নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ১২ডিসেম্বর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহানের পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদলতের ডিসিআর-এ উল্লেখ রয়েছে, জেলা- চট্টগ্রাম, উপজেলা- কর্ণফুলী, মামলা নম্বর-০৮/২০২৩, দোষি সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ- ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রসিকিউটর- মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরী, দোষি ব্যক্তি- মো. রাজীব, পিতা- ফরিদ আহমেদ, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম। অপরাধের ধরণে উল্লেখ করা হয়েছে- নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৯ ধারা। আর শাস্তির ধরণে লিখা হয় এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড।

যদিও এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরী বলেন, আমি এধরণের কোনো প্রসিকিউশন দায়ের করিনি। মূল প্রসিকিউশন দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আর কর্ণফুলী উপজেলা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত না। এটি ভিন্ন একটি উপজেলা। সেই উপজেলায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগ ও রাষ্ট্রপতির আদেশ ক্রমে গেজেটভুক্ত হয়ে যে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দায়িত্ব পালন করছেন তিনিই এধরণের অপরাধের বিষয়ে প্রসিকিউশন দায়ের করবেন এবং ডিসিআরে তার নাম থাকবে। এখানে কিভাবে আমার নাম এসছে- এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় নিজ বেতনে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সহযোগির দায়িত্বে থাকা হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, নূর সুইটস্-এ অভিযান চালানোর সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম চৌধুরী স্যার আমাকে মুঠোফোনে কল করেছেন। কল পেয়ে আমি সেখানে উপস্থিত হই। নিয়ম অনুসারে ডিসিআরে প্রসিকিউটরে আমার নাম না দিয়ে সেখানে সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরীর নাম কেন উল্লেখ করা হয়েছে বোধগম্য নয়। তিনি এখানে অভিযান চালানো বা প্রসিকিউটর হওয়া এখতিয়ার বর্হিভুত।

তবে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, মনোয়ারা বেগম মনি হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর অর্ডার নিয়ে নিজবেতনে কর্ণফুলী উপজেলায় পটিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সহযোগি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই প্রসিকিউটর হয়ে প্রসিকিউশন দায়ের, অভিযান চালানো, এককভাবে সেম্পল কালেকশন এবং মামলা দায়ের কোনটিই করার এখতিয়ার তার নেই। তাছাড়া মো. ইয়াছিনুল হক চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব স্যানিটারি ইন্সপেক্টর। তিনিও সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাহিরে গিয়ে প্রসিকিউটর হওয়া, অভিযান চালানো, এককভাবে সেম্পল কালেকশন এবং মামলা দায়ের করা কোনটিই বিধি সম্মত নয়।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জেলা বা কেন্দ্রীয় কোনো কর্মকর্তা এই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় গেজেটভুক্ত কোনো স্যানিটারি ইন্সপেক্টর না পেলে পাশ্ববর্তী উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে অভিযানে রাখতে পারেন। তাও আবার অফিসিয়াল রুলস্ মেনে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে সাথে নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করি। তবে নিজস্ব কর্ম এলাকার বাহিরে গিয়ে অন্য কেউ প্রসিকিউটর হতে পারে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ফারহান ইসলাম চৌধুরী বলেন, আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে আপীল করেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন।

নিউজ: দৈনিক সংগ্রাম ই-পেপার।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park