1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০২ অপরাহ্ন

কুজেন্দ্র লাল’র লাখ টাকার আয় ছাড়িয়েছে কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৯ বার পঠিত

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি আসনে টানা তৃতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তার পথচলা শুরু। ২০১৮ সালেও দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। খাগড়াছড়ি আসনে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা-ই একমাত্র ব্যক্তি যিনি টানা তিন মেয়াদে দলীয় মনোনয়ন পেলেন।

টানা দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ডের মতোই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনেরও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়ির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গত ২৯ নভেম্বর জমা দেওয়া হলফনামা ও বিগত দুই নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে মিলেছে এসব তথ্য। ১০ বছরে বাৎসরিক লাখ টাকার আয় ছাড়িয়ে গেছে কোটি টাকা। কিনেছেন শত একর জমি, বেড়েছে ব্যবসা, এফডিআর, স্বর্ণালংকার, গাড়ি ও বাড়ির সংখ্যা। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের হলফনামায় কেবল খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালায় সম্পত্তি থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও ২০২৩ সালের হলফনামায় রাঙ্গামাটি ও ঢাকায় সম্পত্তির হিসাব দেখানো হয়েছে।

ব্যবসা, সম্মানি, লভ্যাংশ ও বিনিয়োগে বেড়েছে
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার হলফনামায় ইটভাটা, কৃষি খামার ও মৎস্য খামার, কাঠ ব্যবসাসহ মৌসুমি ব্যবসার খাত থেকে বাৎসরিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৫৭ হাজার ৩ শ ৭৫ টাকা। ২০১৮ সালে যেটি দাড়ায় ৭৫ লাখ ১৪ হাজার টাকায়। ২০২৩ সালের হলফনামায় এ আয় বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬ শ ৮০ টাকা। আয়ের সবচেয়ে বড় খাত রাঙ্গামাটির সাজেকে রিসোর্ট ব্যবসা। সেখান থেকে তিনি ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ২৪৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় আয়ের খাত ইট, বালুসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ ব্যবসা। এই ব্যবসা থেকে আয় এসেছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৪ টাকা। ইট ভাটা থেকে আয় ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন এফডিআর, সঞ্চয়ী জামানত ও অংশীদারী বিনিয়োগ থেকে আয় দেখানো হয়েছে। নিজের পাশাপাশি আছে স্ত্রীর নামে আছে কোটি টাকার সম্পদ। ২০১৮ সালে কৃষি, ব্যবসা, সংসদ সদস্য এবং টাস্কফোর্স চেয়ারম্যানের সম্মানি, খামার, গাড়ির ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ছিল ৭৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। আর ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৫ টাকা।

কমেছে দেনার পরিমাণ
২০১৪ সালের হলফনামায় ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ঋণ নেওয়ার তথ্য না থাকলেও ২০১৮ সালের হলফনামায় সিসি লোনের দায় লেখা হয়েছে। পূবালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ টাকা করে ১ কোটি টাকার সিসি লোন নেওয়ার তথ্য দেখা যায় ২০১৮ সালের হলফনামায়। তবে ২০২৩ সালে এসে কমেছে দায়ের বোঝা। এবার জনতা ব্যাংকের অনুকূলে ৫ লাখ ১১ হাজার ৮৫০ টাকার সিসি লোন দেখানো হয়েছে।

স্ত্রীর চেয়ে বেশি স্বর্ণালংকার
পোশাক পরিচ্ছেদে সাদামাটা ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফোটে ওঠে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার। বিলাসবহুল পণ্যের প্রতি আকর্ষণ নেই বললে চলে। তবে সংগ্রহে রেখেছেন অর্ধশত তোলা স্বর্ণালংকার। ২০২৩ সালের হলফনামায় প্রার্থীর নিজের নামে ৫০ তোলা স্বর্ণের হিসেব দেখিয়েছেন। এছাড়া স্ত্রী মল্লিকা ত্রিপুরার রয়েছে ৩০ তোলা স্বর্ণালংকার। ২০১৪ সালের হলফনামায় স্ত্রীর নামে ছিল ১২ ভরি সোনা ও নিজের নামে ২টি আংটি এবং একটি চেইন। ২০১৮ সালের হলফনামায় একটি আংটি ও একটি চেইন এবং স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রার্থী ও স্ত্রীর নামে স্বর্ণালংকারের দাম উল্লেখ করা হয়েছিল ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে বেড়ে হয় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় স্বর্ণালংকারের বাজার মূল্য কম দেখানো হয়েছে। প্রার্থী ও স্ত্রীর নামে ৮০ তোলা স্বর্ণালংকারের দাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাঁচ বছরে ৮ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন
২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় সম্পদ, আয় ও আর্থিক বিবরণী একই রকম দেখা গেলেও ২০২৩ সালে তা বেড়েছে। ২০২৩ সালে হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের পর থেকে ২০২৩ পর্যন্ত পাঁচ বছরে আনুমানিক আট কোটি টাকার সম্পত্তি বেড়েছে। যার মধ্যে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির কংলাকে ৪ দশমিক ৮ একর ভূমির উপর খাস্রাং নামে রিসোর্টে বিনিয়োগ করেন ৪ কোটি ৪২ লাখ ১ হাজার টাকা। খাগড়াছড়ি সদরের আলুটিলায় খাস্রাং রেস্টুরেন্ট নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন ২ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ঢাকার পূর্বাচলে ভূমি কেনা বাবদ অগ্রিম বিনিয়োগ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ঢাকার উত্তরায় ১ হাজার ৭৮৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় ৪২ লাখ টাকায়। স্ত্রীর ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম টাকা দিতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

খাগড়াছড়িতে কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি
খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুর, খবংপুড়িয়া ও দীঘিনালায় বাড়ি রয়েছে তিনটি। ২০২৩ সালের হলফনামায় যার দাম দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৬ টাকা। শুল্কমুক্ত ল্যান্ডক্রুজার, জিপসহ আছে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি গাড়ি।

আরও যা যা আছে
দুই বারের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ২০২৩ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তির কলামে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫ হাজার ১৫৬ টাকার এফডিআর, ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৪১ টাকার ডিপিএস, সংসদ সদস্য ও টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান থেকে বাৎসরিক আয় ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া কৃষি খামারের জন্য ১০৭ একর জমি উল্লেখ করেছেন। ২০১৪ সালে যেটি ছিল ৭০ একর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park