1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে বালু বিক্রি, প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৬ বার পঠিত

দক্ষিণ-চট্টগ্রাম লোহাগাডার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে কম বেশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। তার মধ্যে প্রকৃতির রূপের অধিকারী চুনতি ইউনিয়নের লম্বা শিয়া নামক অভয়ারণ্য সংযুক্ত স্থানে পাহাড় কেটে বৈধতার মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতায় মেতেছে বালু ব্যবসায়ীরা।

গত ১৪ ই নভেম্বর মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে এই বালু ব্যবসায়ীদের অভিনব কায়দায় বড় বড় পাহাড় কেটে বালুতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। তারা প্রথমে মেশিনের সাহায্যে পানির প্রেসার দিয়ে পাহাড়ের নিচের অংশ পানিতে নিমজ্জিত করে, এবং পরে পাহাড়ের নিচের অংশ হতে আস্তে আস্তে মাটি সরে গিয়ে পুকুর সমান কুয়ার মধ্যে পাহাড়ের উপর অংশ ভেঙ্গে পড়ে, এবং পরবর্তীতে কুয়ার পানির মধ্যে সেলু মেশিন বসিয়ে বালুতে রূপান্তরিত করে।এভাবে বড় বড় পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলছে দিনের পর দিন।

একটি কিংবা দুটি নয়, এ লম্বা শিয়াই প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি সেলু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। জানা যায়, এই বালু প্রথমে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উত্তোলন করার পর প্রশাসনের দৃষ্টি গোছর হলে প্রশাসন বালু জব্দ করে। এবং জব্দকৃত বালু প্রশাসন নিলামে বিক্রি করে দেয়, এবং নিলাম বৈধভাবে ক্রয় করার সূত্রে,বৈধতার অজুহাতে তারা জব্দকৃত বালু ছাড়াও নতুন করে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করে । কিন্তু নতুন করে সেলু মেশিন বসিয়ে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করার বৈধতা তাদের নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক শ্রমিক জানান, বালু নিলাম খরিদ করে এক দুইজনে এবং এই দুই এক জন হতে ৬ থেকে ৭ জনে খরিদ করে নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে বালু বিক্রি করে।

স্থানীয়রা রাগের সহিদ বলেন, এ বালু বহনকারী ডাম্পার ট্রাক চলতে চলতে রাস্তাঘাট সব ধ্বংস করছে। কাঁচা রাস্তার মধ্যে প্রায়, ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি বালু, হাঁটা যায় না। ধুলোবালি সারা শরীরে এমনকি নাকের ভিতর ঢুকে যায়, যা পরবর্তীতে শ্বাস কষ্ট হয়। জানা যায় লম্বাশিয়া পাহাড়ে হাতি সহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র। এই পাহাড় নিধনের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঝুকির মধ্যে, যা পরিবেশ প্রকৃতির জন্য এক মহাবিপদ সংকেত।

এভাবে দিন কিংবা বছরের পর বছর পাহাড় ধ্বংসের ফলে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। যার দায় মানুষ এড়াতে পারে না।এ ব্যাপারে চুনতির স্থানীয় বাসিন্দা পরিবেশবাদী কর্মী ও শিক্ষক সানজিদা রহমান বলেন, বালু উত্তোলন এখানকার একটি নিয়মিত ব্যবসায় পরিণত হয়ে গেছে। এখানকার মানুষ এইটা ধরে নিয়েছে বা এটা শিক্ষার অভাব বা সচেতনতার অভাব হতে পারে। এই বালু উত্তোলন একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে, আমি প্রায় দেড় বছর যাবত পরিবেশ নিয়ে কাজ করতেছি, এখানে দেখা যাচ্ছে অবৈধ বালু যখন প্রশাসন এসে জব্দ করে নিলামে, বিক্রি করে দেয়, তখন ওই সিন্ডিকেটরা কিনে নেয়। কিন্তু যে পরিমাণ বালু জব্দ করে সে পরিমাণ বালু থেকেই থাকে।

প্রতিদিন দেড়শো থেকে দুইশত ট্রাক করে বালি নেওয়ার পরও কমেনা। এবং সেলু মেশিন দিয়ে পাহাড় কেটে বালু উঠাতে থাকে,কাজেই, নিলাম কোন সমাধান না , যে পরিমাণ বালু সিন্ডিকেটরা বের করছে প্রশাসনের সাহায্যে সে পরিমান বালু ওই স্থানে ফেরত এর ব্যবস্থা করতে হবে। এবং প্রচুর অর্থ দন্ড কিংবা অন্যান্য আইনি দন্ডে দণ্ডিত করতে হবে, এবং দুর্গম পাহাড় কেটে যে রাস্তা করছে তা বন্ধ করে দিয়ে সিলগালা করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের এ সি এফ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা গত ১৬ ই নভেম্বর ২০২৩ বৃহস্পতিবার লম্বাশিয়ার পাহাড়ে স্টাডি করার জন্য গিয়েছিলাম, যাতে পরবর্তীতে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

সেলু মেশিন দেখছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, দেখি নাই হয়তো আমরা যাওয়ার আগে সরিয়ে ফেলছে। পথে পথে ওদের পাহারাদার থাকে আমাদের গাড়ি দেখে হয়তোবা ফোন করে দিয়েছে মেশিন সারানোর জন্য, তাই দেখি নাই। তিনি আরো জানান, দুষ্কৃতকারীরা লম্বাশিয়ে নামক স্থানে অনেকদিন যাবত বালু উত্তোলন করে আসছে।বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন থেকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলে পরবর্তীতে সেখান থেকে কিছু সেলু মেশিন জব্দ করা হয়, এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে জব্দকৃত বালি স্পর্ট নিলামের মাধ্যমে সেখানে বালু বিক্রি করার ব্যবসা করা হয়।স্পট নিলামের কারণে পরবর্তীতে দুষ্কৃতকারীরা স্পট নিলামের মাধ্যমে ক্রয় কৃত বালি বিক্রি করার সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী আশপাশের পাহাড় থেকেও বালি উত্তোলন করার সুযোগ পেয়েছে।

আমরা বন বিভাগ পরবর্তীতে আমরা নিজেরা ব্যবস্থা নিয়েছি, এবং দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের বন বিভাগ হতে তিনটি মামলা দাখিল করা হয়েছে। এবং অলরেডি দুটি বন মামলার রায় ও আমরা পেয়েছি, এবং এখানে কয়েকজনের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে। আমরা দীর্ঘদিন যাবত এই সমস্যা ফেইস করে আসছি, কিন্তু আসলে আমাদের বন বিভাগের জনবল সংকটের এবং আমাদের লজিস্টিক সংকটের কারণে আমাদের একার পক্ষে আসলে সেখানে শক্তিশালী কার্যকরী পদক্ষেপ এর মাধ্যমে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে আমি অনুরোধ জানাবো আমাদের জেলা প্রশাসন উপজেলা প্রশাসনকে যেন একটা যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এবং সেখানে দীর্ঘদিন যাবত দুষ্কৃতকারীরা সেলু মেশিন বসানোর মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার নাজমুন লায়েলক অবহিত করা করা হলে তিনি বলেন, জব্দকৃত বালি নিলামে দেওয়ার পর নতুন করে বালু উঠানোর কোন সুযোগ নেই। এবং লম্বা শিয়াসহ অন্যান্য পাহাড় কাটা বন্ধের ব্যাপারে আমরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসে আলোচনা করে একটা স্থায়ী পদক্ষেপ নেব। উল্লেখ্য এই অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি কিংবা বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতিও পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। সেখান থেকে উত্তরণের সবাইকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park