1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

চার বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ১৮ বার পঠিত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামার সরই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের চার বছর হয়ে গেলেও সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার শিশুসহ গর্ভবতী নারীরা; অন্যদিকে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবন ও আসবাবপত্র।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলাটির গুরুত্ব অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষ। দ্রুত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে প্রায়ই জীবন হারাচ্ছে গর্ভবতী মা ও শিশু। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবলের পদ মঞ্জুরি না পাওয়ায় জেলা পরিষদ জনবল নিয়োগ দিতে পারছে না।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং স্থানীয় সমাজসেবক মোয়াজ্জেম হোসেন খানের দানকৃত ৪৫ শতক জমিতে ১০ শয্যা হাসপাতালটি নির্মিত হয়। কাজের মধ্যে রয়েছে ১০ শয্যা হাসপাতাল ভবন, একটি স্টাফ কোয়ার্টার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ২০১৭ সালের ২৫ মে হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করেন।

কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও জনবল নিয়োগ হয়নি। ফলে জনবল মঞ্জুরি না পাওয়ায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এই এলাকায় অর্ধলাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় কোনো উপকারে আসছে না। হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে সিকিউরিটি গার্ড শামসুল হক হাসপাতালের অবকাঠামো পাহারা দিচ্ছেন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়নের হাছনাভিটা এলাকার বাসিন্দা শফিকুর রহমান নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ে গত রবিবার সকালে এসেছিলেন সরই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে। এসে দেখেন হাসপাতালের গেট বন্ধ। নিরাপত্তা প্রহরী শামসুল হক তাকে বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার ডাক্তার আসতে পারে, তখন আসবেন।’ এ চিত্র নিত্যদিনের।

লামার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ফ্যামিলি মেটারনিটি অ্যাটেনডেন্ট (এফএমএ), তিনজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন অফিস সহকারী, একজন অফিস সহায়ক, দুজন নাইটগার্ডের প্রয়োজন। দীর্ঘদিন জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় হাসপাতালের আসবাবপত্র ও অবকাঠামো যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি এলাকাবাসীও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে।

পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর লামার মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী মার্মা বলেন, আমরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিকে সাব সেন্টার দেখিয়ে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে সপ্তাহে এক বা দুদিন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যা এলাকার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমান ১০ শয্যা কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিম প্রশিক্ষণে থাকায় সরই এফডব্লিউসির উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রশান্ত কুমার ধরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কল্যাণ কেন্দ্রটিতে জনবল নিয়োগ দিতে পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক স্যার অধিদপ্তরে অনেকবার লেখালেখি করেছেন। কিন্তু জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় ওষুধ ও সরঞ্জাম বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস জানান, গজালিয়া, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা প্রদানে পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর ১০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল নির্মাণ করে। হাসপাতালের অবকাঠামো উদ্বোধন হলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনসাধারণের কোনো উপকারেই আসছে না।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রশান্ত কুমার ধর সপ্তাহে শনি ও বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের কথা জানালেও সেবাপ্রার্থীরা জানান, সপ্তাহে এক দিন সেবা কার্যক্রম চালু থাকলেও প্রায়ই হাসপাতালটি বন্ধ থাকে।

পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা বলেন, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম কোনো রকম সচল রাখা হয়েছে। জনবলের পদ মঞ্জুরি না পাওয়ায় জেলা পরিষদ জনবল নিয়োগ দিতে পারছে না। সারা দেশের ১৪৭টি মা ও শিশু হাসপাতালের পদ মঞ্জুরি পেলেও দুর্ভাগ্যবশত সরই ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালের পদ মঞ্জুরি হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে অধিদপ্তরে পত্র চালাচালি করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park