1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩২ অপরাহ্ন

টানা তিন দিন অবরোধ

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৪৬ বার পঠিত

    মঙ্গল-বুধ-বৃহস্পতিবার সড়ক-রেল-নৌপথে অবস্থান

মার্কিনী ‘ভিসানীতি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক-শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরামর্শের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে ফের পাতানো নির্বাচনের পথে হাটতে শুরু করেছে। এমনকি মাঠের বিরোধী দল বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে দেয়ায় দেশের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ৩ বছর ৮ মাস পর বিএনপি হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে। বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ ‘ঘরে বসে থেকে’ হরতালকে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালনের পর বিএনপি টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন সারাদেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে পুলিশি বাধা ও বিএনপি মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনে দেশবাসীকে পথে নেমে আসার আহবান জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আইন শৃংখলা বাহিনী বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ‘ক্রাইম সিন’ ঘোষণা করায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সুত্র জানায়, বিএনপি নেতারা টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার আগে এক দফা দাবিতে যুগপথ আন্দোলনে রাজপথে থাকা দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে সব দলের নেতারা আনুষ্ঠানিক বৈঠক না করে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করেন। আন্দোলনরত সব দল কঠোর কর্মসূচি দেয়ার দাবি জানান। অতপর টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে চলমান বিচারহীনতা, অপশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার, অর্থ পাচার ও সিন্ডিকেটবাজীর ফলে দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত উর্ধগতিতে বিপর্যস্ত জনগণের জীবন জীবিকা রক্ষার স্বার্থে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবী আদায়ের লক্ষে আয়োজিত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে হামলা, নেতা-কর্মীদের হত্যা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আন্দোলনরত বিভিন্ন দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, বাড়ী বাড়ী তল্লাসি, হয়রানী, ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং এক দফা দাবী আদায়ের লক্ষে দেশব্যাপী সর্বাত্নক এই অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আহবায়ক গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক বলেন, বিএনপি এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৩০ অক্টোবর গ্যাপ দিয়ে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করবো। সড়ক, রেল ও নৌ-পথ এ অবরোধ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।

২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি। মাঝে সোমবার বাদ দিয়ে আগামী মঙ্গলবার থেকে পুনরায় টানা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিল ১৭ বছর ক্ষমতা বাইরে থাকা দলটি।

দেশি বিদেশী চাপে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল দলটি। সে সময় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে রাজধানী ঢাকাকে মাসের পর মাস সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। ২০১৫ সালে ওই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ পালন করে দলটি সরকারের ভীত কাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শে ৬ মাসের মধ্যে ফের নির্বাচন দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতিতে আন্দোলন থেকে সরে আসে দলটি। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়েনি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়নি।

ভারতকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগ সরকার ৫ বছর মেয়াদ ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘সংলাপ নাটক’ করে বিএনপিসহ সকল দলকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণে রাজী করে। পরে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে জনগণের ভোটের অধিকার চূর্ণবিচূর্ণ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক পর্যায়ে দলের ঐক্য টিকিয়ে রাখতে দলটির মাত্র ৬ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। অবশ্য ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এমপিরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় সমাবেশ করে। দুপুরের পর কাকরাইল এলাকায় বিএনপির সমাবেশে আসা লোকজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী লাঠিয়াল বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এসময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি তুলতে যাওয়া অনেক সাংবাদিককে তখন মারধর করা হয়। কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। একদল যুবক কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ঢুকে কয়েকটি মাইক্রোবাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ বড় ধরনের অ্যাকশনে যায়। সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়ে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া শুরু করে।

এক পর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে তারা নয়াপল্টনের মহাসমাবেশও পণ্ড করে দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন। টিয়ার গ্যাসে ঝাঁজে টিকতে না পেরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসমাবেশে বক্তব্য না দিয়েই মঞ্চ ত্যাগ করেন। পরে কাকরাইল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন মোড় ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-পুলিশ-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়। এসব বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পাশাপাশি অনেক পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকরা আহত হন। এক পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

একইসময় আরো এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে গণপিটিুনি দেওয়া হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এসব ঘটনা চলাকালে এবং পরে সন্ধ্যা ও রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৫টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় পুলিশ হাসপাতালের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা মারা যান। ঢাকার এসব ঘটনার আঁচ লাগে জেলা পর্যায়েও।

রাতে সাভার, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে গতকালের হরতালে বিএনপি পিকেটিংয়ে না নামলেও আওয়ামী লীগের লোকজন লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ায়। সকালেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ছাড়াও বিএনপির আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতারের চেস্টা করা হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park