1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

হরতালের এ যেন নতুন সংস্করণ, অন্যরূপে প্রতিবাদ, নজিরবিহীন ঘটনা

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৩৫ বার পঠিত
    মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি, বিএনপির পিকেটার না থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মীদের গজারির লাঠি, হকিস্টিক, লগি-বৈঠা নিয়ে মিছিল ও পথে পথে মহড়া

হরতালের এ যেন নতুন সংস্করণ। অন্যরূপে প্রতিবাদ। নজিরবিহীন ঘটনা। হরতালের ঘোষণা দিলেও রাজধানী ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পিকেটিং তেমন ছিল না। অথচ মহানগরীর সাধারণ মানুষ ঘরে বসে থেকেছেন, ঘর থেকে বের হননি। কর্মজীবীদের বেশির ভাগই অফিসে যাননি। হরতাল চলার সময় বিএনপি ও জামায়াতের হাতে গোনা কয়েক স্পটে মিছিল দেখা গেলেও রাজপথ ছিল ফাঁকা। রাস্তায় বাস তেমন ছিল না। তরে রিকশা ছিল প্রচুর। ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ হরতালে বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু হরতালের দিন সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেছেন, যাত্রী একেবারে কম থাকায় বাস নামানো হয়নি। একটি বাস চালালে খরচ আছে। যাত্রী না থাকলে সে খরচ উঠে না। এ জন্য মালিকরা বাস নামায়নি। বাস মালিক সমিতি এবং আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের এই নেতার বক্তব্যে উঠে আসে হরতালে মানুষের প্রচুর সমর্থন ছিল। তবে হরতালে বিএনপি পিকেটিং না করলেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গজারির লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে ‘শান্তি মিছিল’ করেছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্পটে লগি-বৈঠা নিয়ে মোটরসাইকেল ও পিকআপে মহড়া দিয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালনের পর বিএনপি মহাসমাবেশে পুলিশি বাধা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচির মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জামায়াত, গণতন্ত্র মঞ্চ, নাগরিক অধিকার, সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এলডিপিসহ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনরত দলগুলো হরতাল কর্মসূচি পালন করে। প্রতিনিধিরা জানান, সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানি জান্তা সরকার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করায় সর্বাত্মক হরতালে দেশের সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ঘরে বসে থেকে আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে এমন চিত্র দেখা গেছে। ওই সময় আন্দোলনরত তিন জোটের হরতাল, অবরোধ, ঘেড়াও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মানুষ ঘরে বসে থেকেই। এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ হরতাল করে ছিল। প্রায় তিন বছর আট মাস পর এই হরতাল কর্মসূচি পালন করল বিএনপি।

এদিকে ঢাকার বাইরে সারাদেশে হরতালের সমর্থণে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। হরতালের সমর্থক আর হরতাল প্রতিরোধকারীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে ব্যাপক ধর-পাকড় হয়েছে। হরতালের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে বিএনপির এক কর্মী নিহত হযেছে এবং লালমনিরহাটে আওয়ামী লগের একজন নিহত হয়েছে।

গতকাল সকাল-সন্ধ্যা হরতালে রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল তেমন চোখে পড়েনি। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ও লোক চলাচলও ছিল কম। ছুটি নিয়েছিল চিরচেনা যানজট। হরতালের সমর্থনে পিকেটিংও তেমন দেখা যায়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ছিল পুলিশি প্রহরা। দেখা গেছে বিজিবির টহল। হকিস্টিক, লাঠিসোটা হাতে জায়গায় জায়গায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি। গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কম-বেশি এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

হরতালের বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল না প্রতিদিনের স্বাভাবিক চেহারা। অধিকাংশ বাস চালানো হয়নি। হরতালে বাস চালানোর ঘোষণা থাকলেও সকালে ছাড়েনি দূরপাল্লার গাড়ি। ঢাকা বাস মালিক সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে জানান, যাত্রী কম থাকায় বাস নামানো হয়নি। সকাল ১০টা থেকে পর্যন্ত যাত্রাবাড়ি, শনিরআখড়া, চিটাগাং রোড, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ, বাংলামোটর, মতিঝিল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, মিন্টোরোড, আরামবাগ মোড়, খিলগাঁওসহ প্রতিটি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অফিস ও কাজের উদ্দেশে বের হওয়া গুটিকয়েক মানুষকে।

পাড়া-মহল্লাগুলোতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মিটিং-মিছিল করতে দেখা গেছে। তাদের হাতে ছিল লাঠি, হকিস্টিক। তাদের দাবি, তারা ‘অগ্নিসন্ত্রাসীদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায়’ পাহারা দিচ্ছেন।

হরতালে ঢাকার চিত্র : নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা গতকাল রোববারের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দূরপাল্লার কোনো পরিবহণ চলাচল করেনি। যাত্রীবাহী বাস কম থাকায় অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা বিড়ন্বনার শিকার হতে হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে হরতালের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বিভিন্নস্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে। অলি-গলিতে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়।

এদিকে বড় কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটলেও হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় আদাবর থানা বিএনপির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ (৪০) নিহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার ধাওয়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিচে পড়ে তিনি মারা যান।

হরতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকার মোহাম্মদপুর, তাঁতিবাজার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ডেমরায় একটি পার্কিং করা বাসে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতিকারীরা। এতে আগুনে পুড়ে নাঈম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন রবিউল (২৫) নামে আরেক যুবক। তারা অছিম পরিবহণ বাসের হেলপার। রাতে দুজনই বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

গতকাল সকাল ৯টা ৬ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শেকড় পরিবহণের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০ টায় তাঁতিবাজার মোড়ে ‘বিহঙ্গ পরিবহণ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দৃর্বৃত্তরা। তাঁতিবাজারে বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় রাজু খান (৩৫) নামে একজনকে আটক করে বংশাল থানা পুলিশ। ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপন করে।

এদিকে হরতালে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল সোচ্চার। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার টহল ছিল অব্যাহত।

হরতালে জন-জীবন স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব সারাদেশে রোবাস্ট প্যাট্রল ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সার্বিক নিরাপত্তায় রাজধানীতে ৮৭টি ও রাজধানীর বাইরে ১৫৯টিসহ সারাদেশে ২৪৬টি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে র‌্যাব।

প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ের কাজকর্মে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। প্রবেশের চারটি গেইটের মধ্যে তিনটি গেইট বন্ধ ছিল। প্রতিটি গেইটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে সচিবালয়ের সামনের রোডগুলো একেবারেই ফাঁকা দেখা যায়। সচিবালয়ে গাড়ি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম।

গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পকেট গেটের পাশে পার্কিংকৃত দুটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করেছে মেডিক্যালের আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তারা বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে লাঠিসোঁটা ও কেরোসিন পাওয়া গেছে।

হরতালে সদরঘাটে লঞ্চ চলাচলে তেমন প্রভাব পড়েনি। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী ছিল একদম কম। যে কারণে লঞ্চ ছেড়েছে কম। সকাল ৮টা পর্যন্ত চাঁদপুর, নড়িয়া, মৃধারহাট, ইলিশার উদ্দেশে ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। আবার কিছু লঞ্চে যাত্রী উঠলেও সংখ্যায় কম থাকায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী কম, আপ-ডাউনে লঞ্চের খরচ উঠবে না। তাই সকালে না গিয়ে বিকেলে যাবে।

ঢাকার নয়াপল্টন ও প্রধান সড়কের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সড়কে প্রচুর রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করেছে। ছিল মোটরসাইকেলও। তবে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত একদমই কম ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিল। চেকপোস্ট কম থাকলেও পুলিশের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো।

উত্তরবঙ্গগামী টাঙ্গাইল বা ময়মনসিংহগামী দূরপাল্লার বাসগুলো মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি। বাসগুলোকে টার্মিনালে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রংপুরগামী এস আর প্লাস পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় এখান থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।

টাঙ্গাইল অভিমুখী জলসিঁড়ি পরিবহণের এক কর্মী বলেন, বাস নিয়ে বের হলে ক্ষতি হলে তো আর মালিক পক্ষ দেখবে না। সেটা আমাদেরই দেখতে হবে। তাই বাস নিয়ে বের হইনি।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ বিএনপির সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে পালিত হয়েছে সকাল সন্ধ্যা হরতাল। দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন। সকাল ১০টার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমবেত কর্মীদের ধাওয়া করে আওয়ামী লীগ। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এদিকে, বেলা সাড়ে ১০টায় বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের গোকুলে যানবাহন চলাচলে বাধাদানকালে পুলিশের সাথে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপি কর্মীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠি চার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তিন দফার সংঘর্ষ ও কয়েকটি অটোরিকশা ভাংচুরের ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ১০ জন।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় ঘটনাস্থল। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের তিন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করে। উপজেলার পাঁচরুখীতে ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হরতাল আহ্বানে গতকাল রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার বক্তারকান্দি নামক স্থানে পারাপার পরিবহণ নামে একটি মিনিবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বাস চালকের সহকারি আবু সুফিয়ান গুরুতর আহত হয়। এছাড়া কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। ব্যাংক, অফিস-আদালত খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। সকাল দশটার দিকে টঙ্গীতে বিআরটিসি বাসে ও সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়া হয়। এসময় হরতালের পক্ষে বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা বিএনপির পক্ষ থেকে হরতালের সমর্থনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, হরতালের সমর্থনে মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে যুবদলের তিন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। সকাল ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাসপোর্ট অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে পুলিশ আসার আগেই নেতাকর্মীরা চলে যান। অপরদিকে পৌনে ১১টায় শহরের চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে বাসে আগুন ধরিয়ে দিলে বাসের ছয়টি সিট পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত। সকাল থেকে জেলা সদর থেকে ঢাকা, সিলেটসহ কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। সকালে বাইপাস সড়কে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। শহরের শায়েস্তানগরে প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেয় ছাত্রদল। বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে মুখোমুখি হলে ছাত্রদল ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরে সীমিতভাবে দূরপাল্লার বাস চলেছে। সব রুটে গণপরিবহন না চললেও সিএনজি, অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। শহরের অল্পকিছু দোকানপাট খোলা ছিল। তবে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে স্টেশন বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম আলতাবকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জ-ঝিটকা-হরিরামপুর আঞ্চলিক সড়কের বাঠইুড়ি এলাকায় সিএনজিতে আগুন দেয়া হয়েছে। হরিরামপুর থানা ওসি সুমন কুমার আদিত্য জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে একটি সিএনজিতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা থেকে জানান, গতকাল কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত হরতাল চলাকালে মাগুরায় একটি বাসে আগুন অপরটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে হরতাল চলাকালে মাগুরা শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

মানিকগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের তরা ব্রিজ এলাকায় আরিচা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী স্বপ্ন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। এসময় মহাসড়কে অন্যান্য যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এছাড়া কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে হরতাল।

বিরল (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালীন সময় সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল, দোকান-পাট খোলাসহ সব কিছু স্বাভাবিক ছিলো। এসময় রাস্তায় বিএনপির কোন নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। সকাল থেকে তালা ঝুলছিলো উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে।

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল না যানবাহনের চলাচল। দূরপাল্লা থেকে কোন যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও জামায়াত ঝটিকা মিছিল করেছে। তবে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে সিএনজি, অটোরিকশা করে। মহাসড়কে নাশকতা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় এইদিনে প্রকাশ্যে বিএনপির দলের কোনো নেতাকর্মীদের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চুয়াডাঙ্গা ছাড়েনি। তবে আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কিছুটা বিলম্বিত হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যাংক বীমা অফিস-আদালত খোলা থাকলেও কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত ছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধায় হরতাল চলাকালে দোকানপাট, বীমা বন্ধ ছিল। তবে অফিস-আদালত খোলা ছিল। এসময় আন্ত:জেলা ও দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করেনি। অন্যদিনের চেয়ে অটোরিকশা ও অটোবাইক অনেকটা কম চলাচল করেছে।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কেরানীগঞ্জে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে হরতাল। এসময় দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য আংশিক বন্ধ ছিল তবে সরকারি ও আধাসরকারি অফিসগুলো যথারীতি খোলা ছিল। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং জিনজিরা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহন কিছুটা কম চলাচল করতে দেখা গেছে। বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকাসহ অন্যান্য যানবাহন কম চলাচল করছে।

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর থেকে জানান, মাদারীপুরে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে হরতাল। সকাল থেকেই শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত খোলা ছিল। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সকালে শহরের রেন্ডিতলা থেকে হরতাল সমর্থনে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার কারণে পণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মধুখালী (ফরিদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, দেশব্যাপী ডাকা হরতালের কোন প্রভাব পরেনি উপজেলায়। এসময় লোকাল বাসসহ যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

বরগুনা জেলা সংবাদদাতা জানান, বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী সকাল-সন্ধা হরতালে বরগুনা শহরে জীবনযাত্রা ছিলো প্রতিদিনের মত স্বাভাবিক। জেলা সদর থেকে ঢাকামুখী পরিবহন সকালে ছেড়ে না গেলেও আন্তঃজেলা বাস চলাচল করছে। জেলা সদরসহ উপজেলা সদরে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিলো। হরতালের সমর্থনে বিএনপি, জামাত বা বিরোধী দলের কোনো নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিল না। জেলা বিএনপির তালাবন্ধ কার্যালয় চত্তরে সকাল থেকে পুলিশ অবস্থান করছে।

সদরপুর (ফরিদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি ফরিদপুরের সদরপুরে। জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। চলছে ছোটবড় গাড়ী তবে সদরপুর থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে হরতাল। তবে এ কর্মসূচির সমর্থনে উপজেলার কোথাও মিছিল বা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিটি পয়েন্টে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।সাতকানিয়া থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, হরতালের আগের দিন রাতে সাভারে একটি বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃওরা। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হেমায়েতপুরের আলমনগর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে পাকিং করে রাখা সাভারের মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃওরা।

সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। জেলা বিএনপি ও সহযোগিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হয়ে পিকেটিং এর চেষ্টাকালে পুলিশ বাধা দেয়। দূরপাল্লার কোন যানবাহন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ছেড়ে যায়নি।

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, হরতাল উপলক্ষে টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। মহাসড়কের কোথায় কোন বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হরতালের সমর্থনে সকালে কোর্ট চত্ত্বরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উখিয়া (কক্সবাজার) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে চলেছে। হরতালের সমর্থনে কোন পিকিটিং, মিছিল-মিটিং করতে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবে চলছে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি আনোয়ারায়। সকাল থেকে প্রতিদিনের মত সব গাড়ি চলাচল করেছে। সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস খোলা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার কর্ণফুলীর তলদেশ নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্ভোধনের পর গতকাল ছিল জনসাধারণের জন্য প্রথম দিন। স্বপ্নের টানেল দেখার জন্য ভোর থেকে কার, মাইক্রোবাসে টানেলের এপার-ওপার ঘুরেছে মানুষ।

বাজিতপুরে (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হরতালের কোন প্রভাব দেখা যায়নি উপজেলায়। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া হয়েছে আটকের ভয়ে। ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলে হরতালের বড় ধরনের প্রভাব না পড়লেও যানবাহন চলাচল যথেষ্ট কম ছিল। দিনভর নগরীর রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটাই সিমিত ছিল। মহানগরী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তেমন কোন পিকেটিং লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ছাত্রলীগ ও যুব লীগ নেতা-কর্মীদের সতর্ক অবস্থানসহ মোটরসাইকেল মহড়া জনমনে কিছুটা ভীতি সৃষ্টি করলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় কোথাও হরতাল পালন হয়নি। সকল প্রকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সরকারি অফিসসহ সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। বিভিন্ন ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করে।

যশোর ব্যুরো জানান, ঝিনাইদহে বিএনপির ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। জেলার অন্যান্য উপজেলায় পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি। সকালে শহরের সরকারি মহিলা কলেজ সড়ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. মো. সৈয়দ হোসেন ও সদস্যসচিব অ্যাড. শাহাদাৎ হোসেন। পরে মহিলা কলেজের সামনে এসে সমাবেশ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হরতাল ছিলো ঢিলেঢালাভাবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সড়কে যানবাহণ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। বিভিন্ন জায়গায় সড়কে অগ্নিকাণ্ড ও গাছে ফেলা রাখতেও দেখা গেছে হরতাল সমর্থনকারীদের। তবে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ ও আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান, সারাদেশের ন্যায় হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি রাজবাড়ীতে। সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়কে চলছে অটোবাইক, মাহেন্দ্রসহ যানবাহন। ট্রেন চলাচলও রয়েছে স্বাভাবিক। বেশিরভাগ দোকানপাট খোলা ছিল। কোথাও হরতাল আহ্বানকারী বিএনপির দেখা যায়নি। কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে, নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জে হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকালে উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের জিন্দা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আধুরিয়া এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

ময়মনসিংহ ব্যুরো জানায়, হরতাল আতঙ্কে জেলার সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময় নগরজুড়ে রিকশা, সিএনজি ও অটোরিকশার চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে হরতালের মাঠে বিএনপি, জামায়াত বা সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীদের কোন তৎপরতা বা উপস্থিতি দেখা যায়নি। হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদল।

গাবতলী (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার গাবতলী বিএনপিসহ সকল অঙ্গদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপি সদস্য ও পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু প্রমুখ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park