1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:২৩ অপরাহ্ন

ফেইক সাংবাদিকতার কবলে ইইউ!

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১০ বার পঠিত

এ যেন যুদ্ধে জয়ের গল্পের মতো। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষতার সাফল্য দেখিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সিদ্ধান্ত বদলে সফল হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক টিমকে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আর সেটাকে তথ্য বিভ্রাট এবং আংশিক তথ্য অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করে গণমাধ্যমগুলো অনৈতিক সাংবাদিকতায় মেতে উঠেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নেটিজেনরা নানান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেন বাংলাদেশে ফেইক সাংবাদিকতার কবলে পড়ে গেল!

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি দুই মাস বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।

ইসি’র অতিরিক্ত সচিব বলেন, চার থেকে পাঁচ সদস্যের পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা নির্বাচনের তফসিলের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে অবস্থান করবেন। তিনি আরো জানান, আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। তারা নির্বাচন শেষে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করবে বলেও জানিয়েছেন।

এই খবর দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়। ইসি যেমন ইইউ’র পর্যবেক্ষক দল নিয়ে তথ্য গোপন ও বিভ্রাট করেছে তেমনি গণমধ্যম কর্মীরাও খবরে তথ্য গোপন এবং তথ্য বিভ্রাট করছে। তারা পাঠকদের বোঝানোর চেস্টা করছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখান থেকে সরে এসে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা সর্বই ফেইক। প্রশ্ন হচ্ছে প্রকৃত চিত্র কি? প্রকৃত চিত্র হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠি দিয়েছেন সে অবস্থানের হেরফের হয়নি। মূলত ৪ সদস্যের কারিগরি দল আসছে। যা ইইউ পর্যবেক্ষন দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের চিঠিতে উল্লেখ করেছিল।

মূলত নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ইইউয়ের ৬ সদস্যের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল গত ৮ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সফর করে। সে সময় রাজনৈতিক দল, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। অতপর ফিরে গিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী বলে মনে করছেন না। ওই প্রাক পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণের চিঠির ভাষ্য হচ্ছে, এ মুহ‚র্তে বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে ইইউ। তবে নিবাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও ‘নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের’ জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হতে পারে।

ওই যে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট দল পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন; সেই দলটি পাঠানো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। আর সেটাকেই নির্বাচন কমিশন রংচং দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাবেন বলে প্রচার করছে। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এমন ভাবে খবরটি মিডিয়াকর্মীদের সামনে তুলে ধরেছেন যে ইইউ সত্যিই তাদের পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পর্যবেক্ষক পাঠানোর নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর গণমাধ্যমের কর্মীরা কেউ ‘না বুঝে’ কেউ ‘বুঝেও না বোঝার ভান করে’ কিছু তথ্য বিভ্রাট ঘটিয়ে ইইউ পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ফেইক খবর প্রচার করছেন। কোনো কোনো গণমাধ্যমে লিখেছে ‘আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল, তাতে পানি ঢেলে দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সংস্থাটি পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে আনুষ্ঠানিক এক চিঠিতে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।’ সত্যিই কি তাই? প্রশ্ন হচ্ছে এ কেমন সাংবাদিকতা? প্রভাবশালী ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ফেইক সাংবাদিকতার কবলে পড়ে গেল? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যখন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিরোধী বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবিতে অলআউট কর্মসূচিতে যাচ্ছে। এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ইস্যুতে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে এবং ইইউ নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলছে, তখন গণমাধ্যমের এমন তথ্য বিভ্রাটের ফেইক নিউজ কী সৎ সাংবাদিকতার মানদÐকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় না?

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park