1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১১ অপরাহ্ন

শীতের সবজি বীজের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৫৪ বার পঠিত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের সবজিচাষি আফজাল হোসেন (৫৮)। তাঁর ১২ কাঠা জমিতে প্রতি বছরই শীতকালীন সবজি চাষ করেন। এবারও তিনি শীতকালীন সবজি চাষের জন্য শনিবার তাড়াশ বাজারে এসে দেখেন সব ধরনের বীজের দাম গত বছরের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি। এতে এ বছর সবজি উৎপাদন ব্যয় নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

তাড়াশ পৌর এলাকার কোহিত তেঁতুলিয়া গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, দেশি জাতের সবজি বীজের চেয়ে আমদানি করা বীজে প্রায় দ্বিগুণ ফলন হয়। তবে আমদানি করা বীজের দাম দেশি বীজের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি।

চলনবিলাঞ্চলের হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে, দেশি জাতের কাঁচামরিচের প্যাকেটজাত দানাবীজের দাম প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। আমদানি করা প্রতি কেজি কাঁচামরিচের বীজ গত মৌসুমে ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা, এ বছর তা ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুলা বীজ ৬০০ টাকা, গত বছর ছিল ৫৩০ টাকা। আমদানি করা মুলাবীজ গত মৌসুমে ছিল ৪ হাজার টাকা, এবার তা ৪ হাজার ৫০০ টাকা কেজি।

দেশি জাতের করলা বীজের কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা, গত বছর ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আমদানি করা প্রতি কেজি ফুলকপির বীজ এখন প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গত মৌসুমে ছিল ৪৮ হাজার টাকার মতো। দেশি জাতের শিম বীজ গত বছর প্রতি কেজি ছিল ৭০০ টাকা, এবার ১০০ টাকা বেড়েছে। দেশি জাতের বেগুনের বীজ ৬০০ টাকা, গত মৌসুমে ১০০ টাকা কম ছিল। দেশি জাতের পালং বীজ গত বছরের চেয়ে ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। আলু বীজ প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ টাকা, গত মৌসুমে ছিল ২ হাজার টাকা। গত বছর দেশি গোটা পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা, এ বছর তা ২ হাজার ৭০০ টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি গোটা রসুন বীজের দাম। এ বীজ মণপ্রতি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত বছর ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ।

তাড়াশ বাজারের সবজিবীজ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাইকারি মোকামে দেশি ও আমদানি করা সব সবজি বীজের দাম গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। তাই বিক্রেতারা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উর্বর মাটির কারণে চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে শিম, ফুলকপি, বেগুন, মরিচ, লাউ, মুলাসহ অন্যান্য সবজির আবাদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হয়ে থাকে। এ জন্য এ অঞ্চলে সবজি বীজের একটি বড় বাজার গড়ে উঠেছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের সবজি চাষে দেশি জাতের বীজ কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণত আমদানি করা সবজি বীজ ভারত, থ্যাইল্যান্ড, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। এসব বীজের মান ভালো না হলে তাদের কিছু বলারও উপায় নেই। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কৃষি বিভাগে যে বীজ পাওয়া যায় তা মানসম্মত, দামে সাশ্রয়ী এবং আবাদে সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, বীজের দাম তুলনামূলক বাড়লেও দেশি জাতের সবজি বীজের দাম খুব একটা বাড়েনি। জলবায়ু সহনীয় দেশি জাতের সবজি বীজ দিয়ে চাষাবাদ করলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। বাজারের প্যাকেটজাত বীজের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে কোনো ব্যবসায়ী বেশি নিলে তা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park