1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

জব্দ করা সরকারি চাল নিয়ে প্রশাসনের চালবাজি

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৫৭ বার পঠিত

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রুমখাঁ চৌধুরীপাড়া এক ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি থেকে দুস্থ মহিলা সহায়তা (ভি ডাব্লিউ বি) প্রকল্পের সরকারি ১১১ বস্তায় তিন হাজার ৩৩০ কেজি চাল জব্দ হওয়ার ঘটনায় জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করে র‍্যাব-১৫।

অভিযানের পর নিয়ম অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না করায় সর্বত্রই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। র‍্যাব-১৫ তাদের প্রতিটি অভিযানের পর সবিস্তারে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিলেও, চাল জব্দের ঘটনায় দায়সারাভাবে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোথা হতে এত বস্তা চাল উদ্ধার হলো তাও গোপন করা হয়েছে। এতে চিহ্নিত চাল চোরদের বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে বলে সবার মুখে সমালোচনা চলছে। বিষয়টি ‘টক অব দ্যা ডিস্ট্রিকে’ পরিণত হয়েছে।

র‌্যাব-১৫-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আবু সালাম চৌধুরী জানান, সরকারি চাল বিক্রির গোপন খবর পেয়ে রোববার মধ্যরাতে অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহ আহমদ জব্দনামা তৈরি করে খাদ্যগুদামে চালগুলো জমা দেন।

চালগুলো পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধারের কথা লিখে প্রেস রিলিজ দিয়েছেন তিনি।

অভিযানের সময় উপস্থিত থাকা স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত ১টার দিকে মোজাহের মিয়া ও তার ছেলে উখিয়া উপেজলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আলমগীরের বাড়ি থেকে এসব চাল উদ্ধার করে র‍্যাব।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে আরিফ নামে এক যুবকের কাছ থেকে এসব সরকারি চাল কিনেছেন তারা। আরিফ হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

ছেলে ও নিজের বাড়ি থেকে চাল উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মোজাহের মিয়া। তিনি প্রথমে উপরকারভোগীদের কাছ থেকে এসব চাল ক্রয় করেছেন বলে দাবি করলেও এক পর্যায়ে তার ছেলে সিরাজ এসব বলতে শিখিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। এবং তার ছেলে আরিফসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এসব চাল ক্রয় করেছেন বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেতা আলমগীরকে কল দেওয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। আরেক অভিযুক্ত আরিফ মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত সিরাজকেও পাওয়া যায়নি।

আওয়ামীলীগ নেতা হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক বলেন, গত নির্বাচনে আমি বর্তমান চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসকে সমর্থন দিয়ে জনগণের কাছে ভোট ভিক্ষা করে নির্বাচিত হতে সহযোগীতা করেছি। কিন্তু নির্বাচিত হবার পর হাজারো দুস্থ মহিলার সহায়তা (ভি ডাব্লিউ বি) প্রকল্পের চাল নিয়ে নয়ছয় করেছে যা এখন দুদক তদন্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, আমি তাকে সমর্থণ দেওযার কারণে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। এ কারনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। যতটুকু জেনেছি র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া চাল গুলো আরিফ নামে এক যুবক বিক্রি করেছে। সে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ।

হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের পাঁচ হাজার দুস্থ নারীর জন্য বরাদ্দ করা চাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হরিলুট চলে আসছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

সরকারি চাল বরাদ্দে চেয়ারম্যানের দুর্নীতি বিষয়ে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ পরিচালাক মো. মনিরুল ইসলাম।

তবে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া দেননি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও তারও জবাব দেননি তিনি।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাল উদ্ধারের বিষয়ে উখিয়া থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

অন্যদিকে, চাল উদ্ধার করলেও রহস্যজনক কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে র‍্যাব ও উপজেলা প্রশাসন একে অপরের দিকে বিষয়টি ঠেলে দিয়ে দায় এড়ানোর প্রতিযোগীতা করছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহ আহমদ বলেন, অভিযান করেছে র‍্যাব তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে র‍্যাবকে। আমি অভিযান শেষে ওখানে গিয়েছি। এখন র‍্যাব কেন মামলা করতে চাচ্ছে না সেটা আমি জানি না। আমি শুধু চাল গুলো জমা রেখেছি।

একই কথা উল্লেখ করে ইউএনও ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, যেহেতু র‍্যাব অভিযান করেছে তাদেরই মামলা করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে জড়িত কাউকে তিনি রক্ষা করতে চাচ্ছে না বলে দাবি করেন।

চিহ্নিত ব্যক্তির বাড়ি থেকে চাল উদ্ধারের পরও তাদের প্রেস রিলিজে এড়িয়ে যাওয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক চাল উদ্ধারের অভিযানটা পরিচালনা করি। ওই সময় কাউকে আটক করতে পারিনি। চাল গুলো নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত করে সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিদের নামও উঠে আসতে পারে যা উপজেলা প্রশাসন করে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টি অবগত করা হলে, এক পর্যায়ে মামলা করা হবে বলে জানান র‍্যাব ১৫’র অধিনায়ক।

অসমর্থিত একটি সূত্র বলছে, চালগুলো চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ ছাড়া অন্য কোনো মেম্বারও বিক্রি করতে পারার কথা নয়। যেহেতু চাল ধরা পড়েছে, মামলা হলে যাদের কাছে পেয়েছে তারসহ চেয়ারম্যান নিয়মানুসারে মামলার আসামি হবেন। তাই, মোটা অংকের বিনিময়ে র‍্যাব ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মামলা এড়ানো হচ্ছে। প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা দূর করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সরকারি চাল আত্মসাৎ করে পার পেয়ে গেলে ভোট ও চাল চোর চক্র সামনের দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ চান হলদিয়া পালংয়ের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি জেলাবাসীও।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park