1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:২২ অপরাহ্ন

নানামুখী অনিয়মে আয় বাড়ছে না চট্টগ্রাম ওয়াসার

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৬ বার পঠিত

বাস্তবায়িত প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধ ও পানির উৎপাদনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। গত অর্থবছরে আয়-ব্যয়ে প্রায় একশ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। পরিচালনাব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ আর গত অর্থবছর থেকে তিনটি প্রকল্পের ঋণবাবদ বছরে প্রায় ২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। শোধনাগারের পানির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু পানি সরবরাহ বাড়লেও আনুপাতিক হারে আয় বাড়েনি। সিস্টেম লসের নামে বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মিটার নষ্ট ও পানি সরবরাহ না পাওয়ার অজুহাত তুলে প্রায় কয়েক হাজার সংযোগের মিটারবিহীন ন্যূনতম চারশ টাকা বিল দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পানির উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ওভারটাইম বাড়ছে। বর্তমানে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে গত অর্থবছরে কিছু টাকা ব্যয় হওয়ায় ঘাটতি বেশি হয়েছে। চলতি বছরে এত ঘাটতি হবে না। পানির দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো চালু হলে ওয়াসায় আর্থিক ঘাটতি থাকবে না।’

ওয়াসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছেন সিভিল সার্ভিসের ডেপুটেশনের ছয় জন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ১৩ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড। পরিচালনা বোর্ডে প্রতিটি সভায় অনিয়ম বন্ধ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি নিয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকর হয় না। এতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বাসা বেঁধেছে ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে। নতুন সংযোগ চার-পাঁচ বছরেও বিলের আওতায় আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কমছে না সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি। অন্যদিকে বিদেশি ও জিওবির অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব বাড়ছে না।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে বিদেশি ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত তিনটি প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ গত অর্থ বছর থেকে শুরু হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-১ জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পে জাইকার ঋণ ৭৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এই ঋণের কিস্তি বাবদ বছরে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া তার আগে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন জেনারেটরের এক্সপ্রেস পাওয়ার লাইন, জরুরি পানি সরবরাহের জন্য কয়েক ধাপে প্রায় ৯০টি গভীর নলকূপ স্থাপন ও বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ধরনের দুটি প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তার মধ্যে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পের বছরে প্রায় এক কোটি টাকা ও ৪৭ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পের বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ গত অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে।

এছাড়া শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পও জাইকা অর্থায়ন করেছে। সামনে এই প্রকল্পেরও ঋণ পরিশোধ শুরু হবে। এছাড়া কোরিয়ার অর্থায়নের বোয়ালখালী ভান্ডালজুরী এলাকায় আরেকটি পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত অর্থবছরে ওয়াসার বার্ষিক আয় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। আর ব্যয় হচ্ছে বছরে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। এতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘাটতির মধ্যে পড়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বলে দেওয়া হয়েছে, সরকার কোনো ভর্তুকি দিতে পারবে না। ওয়াসাকে নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় মেটাতে হবে। তাহলে বিশাল ঘাটতি কীভাবে মেটানো সম্ভব হবে?—জানতে চাইলে ওয়াসা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এফসিএ বলেন, ‘পানির উৎপাদনসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে। লোকসান কমাতে হলে পানির সঠিক বিলিং ও সিস্টেম লস কমাতে হবে। বর্তমানে ৩০ শতাংশের ওপর সিস্টেম লস দেখানো হচ্ছে। পানি সরবরাহ মনিটরিং জোরদার করতে হবে। মিটার নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকাভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম চালুর জন্য পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারিং সিস্টেমের আওতায় আনতে প্রকল্প নিতে হবে।’

ওয়াসা বছরে ১৮ হাজার ১১৭ কোটি লিটার পানি বিতরণ করছে। তার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে ১২ হাজার ৮৩২ কোটি লিটার। বাকি পানির কোনো বিল হচ্ছে না। পানি বিক্রি বাবদ বছরে আয় ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

ওয়াসার সংশ্লিষ্ট বিভাগসূত্র জানায়, বর্তমানে সব মিলিয়ে ৮৩ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। তার মধ্যে বিলিং হচ্ছে ৮০ হাজার ৮০০ সংযোগের। তার মধ্যে ১১ হাজার ন্যূনতম বিলের সংযোগও রয়েছে। তবে রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ন্যূনতম বিলের পরিমাণ আগের চেয়ে ২-৩ হাজার কমেছে। ন্যূনতম বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন সংযোগ দুই-তিন বছরেও বিলের আওতায় আসছে না বলে অভিযোগ করেছেন ওয়াসা পরিচালনা বোর্ডের এক সদস্য। রাজস্ব বিভাগের লোকেরা এসব গ্রাহক থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park