1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

২০ বছর ঘুরেফিরে পূর্ব রেলে আনোয়ার, দুর্নীতিতে শাস্তির বদলে পদোন্নতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৭৫ বার পঠিত

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রভাবশালী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিজস্ব বলয় তৈরি করে দেড় যুগেরও বেশি সময় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য কায়েম করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে এই কর্মকর্তা। ২০২০ সালের অডিটেও ধরা পড়ে তার দুর্নীতি। এরপর শাস্তির বদলে সহকারী নিয়ন্ত্রক থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, সরকারি নিয়ম রক্ষায় বদলির প্রয়োজন পড়লে আনোয়ারকে কখনো সিআরবিতে, কখনোও পাহাড়তলীতে নামমাত্র বদলি করা হয়। সবমিলিয়ে জোর তদবির চালিয়ে ২০ বছর ধরে ঘুরেফিরে পূর্ব রেলেই আছেন তিনি। এমনকি সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক থেকে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও চট্টগ্রামের বাইরে বদলি হতে হয়নি তাকে। নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে তার।

জানা গেছে, ডিরেক্টর অব ইনভেন্টরি কন্ট্রোল (ডিআইসি) ও সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের একটি অংশ প্রকৌশলী আনোয়ারের হাতেই জিম্মি। এ দুটি দপ্তরের সব কিছু ক্রয়ের ক্ষমতাও রয়েছে তার। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

আরও জানা গেছে, চট্টগ্রামে নামে-বেনামে ৫/৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই প্রকৌশলীর। তার শ্যালক রেলওয়ের ক্রয় বিভাগের অফিস সহকারী হৃদয়কে দিয়ে এসব ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি। হৃদয়ের মাধ্যমেই তার অনিয়ম-দুর্নীতির লেনদেন হয়। হৃদয় খালাসি পদে রেলে চাকরি পেলেও আনোয়ারের শ্যালক হওয়ায় তিনি রাতারাতি ক্রয় বিভাগের অফিস সহকারী হয়েছেন।

নাম প্রকাশেঅনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ও সিআরবিতে সাপ্লাই-সরবরাহ ও কেনাকাটার সব কিছু আনোয়ারের দায়িত্বে। যার কারণে পছন্দের ঠিকাদারকে ক্রয় ও সরবরাহের কাজ দিয়ে বিনিময়ে হাতাচ্ছেন মোটা অংকের কমিশন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ডিরেক্টর অব ইনভেন্টরি কন্ট্রোল (ডিআইসি) কাজ করে এমন একটি ফার্মের সঙ্গেও আনোয়ারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অনলাইন টেন্ডার ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আনোয়ার কমিশন বাণিজ্যে তার সহকারী করেছেন জিয়াকে। তার মাধ্যমেই হয় অবৈধ লেনদেন।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের বিষয়ে প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের কোনো বক্তব্য মেলেনি।

অন্যদিকে ২০২০ সালে অডিট অধিদপ্তরের এক আপত্তিতে বলা হয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ ও সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম (বর্তমানে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক-পূর্ব), এমদাদুর রহমান, প্রকৌশলী মারুফ, ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী সাকের আহমেদসহ যোগসাজশে পূর্ব রেলের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন মেশিনারিজ মালপত্র বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে লুট করেছেন কোটি কোটি টাকা।

অডিট রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পূর্ব রেলের কোচের এসি মেরামতের জন্য বিভিন্ন মালপত্র কেনা হয়। এক্ষেত্রেও প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম নেয় তারা। এছাড়া, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ টাকা।

প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের পছন্দের ঠিকাদার দিয়েও নামে-বেনামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন এমন কাণ্ড করতে থাকলেও নীরব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park