1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়িতে দলীয় কার্যালয়ে আ.লীগ নেতা কর্তৃক দুই এসআই লাঞ্ছিত!

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৪ বার পঠিত

খাগড়াছড়িতে দায়িত্বরত অবস্থায় চেয়ারে বসা নিয়ে পুলিশের দুই সা-ইন্সপেক্টরের সাথে আওয়ামী লীগ নেতার অশালীন আচরণের ঘটনা ঘটেছে। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বিষয়টি মিমাংসা করতে সংগঠনের কার্যালয়ে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। ততক্ষণে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। গুঞ্জন শুরু হয় বিভিন্ন মাধ্যমে। আর এরমধ্যেই উধাও হয়ে যান সেই আ.লীগ নেতা মো. জাবেদ হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের নারিকেল বাগান সড়কের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। জাবেদ হোসেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘটনার সময় জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেন, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি বিউটি রানী ত্রিপুরা, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন টিটুসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ১৭ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকে সংগঠনের কার্যালয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। এরমধ্যেই পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও কার্যালয়ে আসেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের একজন এস আই সুমন দে ও অপরজন এস আই মো. মিনহাজ। এদের দুই জনের সাথেই আ.লীগ নেতা জাবেদ হোসেন অশালীন ও মারমুখী আচরণ করেছেন এমন অভিযোগ ওঠে।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিকবার জাবেদ হোসেনকে থামাতে গেলে কারো কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো তাদের সাথেও দূর্ব্যবহার করা হয়। তাৎক্ষণিক কোন উপায় না দেখে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জেলার সিনিয়র নেতাদের টেলিফোনে বিষয়টি জানান। ততক্ষণে সংগঠনের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে চলে যান জাবেদ।

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা আ.লীগের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপারটি নিয়ে একটি বৈঠক চলছে। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়–য়া, সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, সাংগঠনকি সম্পাদক দিদারুল আলম ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অশালীন আচরণের শিকার হওয়া এস আই সুমন ও মিনহাজও ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করেন নেতৃবন্দ। কিন্তু সেসময়ে ছিলেন না অভিযুক্ত জাবেদ হোসেন।

এসব বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোন ধরণের কথা বলতে চাননি এ প্রতিবেদকের সাথে। একাধিকবার ঘটনা ও কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, এটি উর্ধতনরা দেখবেন।
ভুক্তভোগী এস আই সুমন দে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ করতে চাননি। তবে ঘটনা খুলে বলেন তিনি। বলেন, জাবেদের এ ধরণের আচরণ দেখে তারা রীতিমতো অবাক হয়েছেন।

এস আই মিনহাজ বলেন, কর্মসুচিকে ঘিরে জেলা আ.লীগের কার্যালয়ে আসেন তারা। এরমধ্যে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ডাক দিলে তারা নেতৃবৃন্দের পাশের চেয়ারে বসে কথা বলছিলেন। হঠাৎ করে জাবেদ হোসেন এসে এস আই সুমনের সাথে উচ্চবাক্য করে ওঠেন। ব্যাপারটি দেখে এস আই মিনহাজ জানতে চাইলে তার সাথেও অশালীন আচরণ করতে থাকেন জাবেদ। একপর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওঠলে জাবেদকে থামাতে যান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ আরোও কয়েকজন। তাদের বাধায় কোন ধরণের সাড়া না দিয়ে চিৎকার করে পুলিশকে তুই তকারিসহ বাজে মন্তব্য করতে থাকেন জাবেদ। পুলিশকে বকা ঝকা ও ধমক দিয়ে সংগঠনের কার্যালয় ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন জাবেদ হোসেন।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি বলেন, পুলিশের দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে ডাক দিয়ে পাশের চেয়ারে বসিয়ে আলাপ ও কুশল বিনিময় করছিলেন। এ সময় জাবেদ পার্টি অফিসে ঢুকেই চেয়ারে বসা দুই পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন। তাৎক্ষণিক থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে সিনিয়র নেতাদের ফোন দেন।

এ ধরণের ঘটনা কাম্য নয় মন্তব্য করে ইসমাইল হোসেন বলেন, সংগঠনের কার্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা বা কর্মকান্ড অনভিপ্রেত। সিনিয়র নেতারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ঘটনার খবর শুনে কার্যালয়ে আসেন তিনি। অনাকাঙ্খিত এ ধরণের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের সাথে খারাপ বা অশালীন আচরণের দায় সংগঠন নিবেনা। সাংগঠনিকভাবে যা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা-ই কার্যকর করা হবে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, এ ধরণের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। ব্যাপারটা শুনার পর পার্টি অফিসে এসে খোঁজ খবর নেন। কথা বলেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যদের সাথেও। সামগ্রিক ব্যাপারটা জেলা আ’লীগের সভাপতির নজরে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তের ব্যাপারে সাংঠনিকভাবে বসে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেয়া হবে। এছাড়া ব্যক্তি অপরাধ বা আচরণের দায় সংগঠন কিংবা দল নিবেনা। তিনি সংগঠনের কার্যালয়ে সকলকে নমনীয় ও সহনশীল আচরণ করার ব্যাপারে তাগাদা দেন।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমানের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, এটি নিছক ঘটনা। ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে উভয়ের মধ্যে। হয়রানির শিকার হওয়া দুই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন ওসি।

২০১৯ সালে পৌর আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিতে জাবেদ হোসেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের শেষের দিকে অনুমোদন পায় কমিটি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের পাশ কাটিয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন জাবেদ হোসেন এমন অভিযোগ করেন অনেকে।

২০০৫ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন জাবেদ হোসেন। সেসময়ে কোন পদপদবতেী না থাকলেও জাবেদ হোসেনের হাতে অনেক নেতাকর্মী হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নানা ঘটনা ও মামলার আসামি হয়ে জেলও খাটেন জাবেদ।

পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পৌর শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হোন জাবেদ হোসেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park