1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

লামায় বন্যা: সরকারি দেড়শ মেট্রিক টন চাল-গম নষ্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩
  • ১২৬ বার পঠিত

#নষ্ট হল হাসপাতালের কয়েক কোটি টাকার মিশিন-যন্ত্রপাতি #হাজারের অধিক বাড়িঘর বিধস্ত

বান্দরবানের লামায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে সরকারি খাদ্যগুদামের প্রায় দেড়শ মেট্রিক টন চাল ও গম। নষ্ট হয়ে গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অপরারেশন থিয়েটার ও পরীক্ষাগারের কয়েক কোটি টাকার মিশিন-যন্ত্রপাতি। পাহাড় ধসের ঘটনায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে অন্তত দেড় হাজার বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে বাজার, বাড়ি-ঘর, মাছের প্রজেক্ট, আবাদকৃত কৃষিজমি ও বীজতলা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লামা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এবারের বন্যায় প্রাথমিক হিসাবমতে পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাজারে অধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। প্রায় চার হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল প্রায় ৩০ হাজারে অধিক পরিবার।

পিআইও মনিরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় কোন চেয়ারম্যান-মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাত থেকে আপাতত ১৫ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব খাদ্যশস্য লামা পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে খাদ্যশস্য বিভাজন করে দেয়া হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো হিসাব করা যায়নি।

লামা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম হেলালী জানান, এবারের বন্যায় লামা উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি মজুদকৃত প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন (৩ হাজার বস্তা) চাল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে।

লামা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) তিমির কুমার দে জানান, গত সোমবার রাতের দিকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাদ্যগুদাম থেকে চাল-গম নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তবে। তবে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সড়ানো আর সম্ভব হয়নি।

তিমির কুমার দে বলেন, খাদ্য গুদামে প্রায় ২৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ছিল। এমরমধ্যে প্রায় ১১৫-১২০ মেট্রিক টন চাল ও গম বন্যা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরের এমন কোন ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দা নাই যাদের বন্যা বা পাহাড় ধসে ক্ষতি হয়নি। দুর্গতের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যার পানি থেকে কোন ব্যবসায়ীই মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। বাজারের প্রতিজন ব্যবসায়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানান, এই ইউনিয়নে এক হাজারের অধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্ধী ছিল অন্তত ২০ হাজার মানুষ। নদী পাড় হওয়ার সময় মধ্য বয়সি এক উপজাতি পুরুষ পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছেন। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গ্রামীণ সড়ক গুলো অধিকাংশ ভেঙ্গে গেছে। সেইসাথে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জানা যায়, এবারের বন্যায় উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী বাজার পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় করিমা বেগম (৩৫) নামে এক নারী ঘরের মাটির দেয়াল চাপা গড়ে মারা গেছেন। তিনি ওই এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী।

বুধবার সকাল থেকে বন্যার পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় লামা-আলীকদম-চকরিয়া সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে লামা-চকরিয়া সড়কের ইয়াংছা বেইলি ব্রিজ পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহন যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।

লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, টানা ৬/৭ দিনের বৃষ্টিতে ৪ দিনের স্থায়ী বন্যায় উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ একেবারে বিধস্ত হয়ে গেছে। কাঁচা পাঁকা রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। বেশকিছু ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারনা মতে অবকাঠোমোগত ক্ষতি অর্ধশত কোটি টাকার অধিক।

লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ভয়াবহ বন্যার পানিতে হাসপাতালের এক তলা পানির নিচে ডুবে যায়। এতে করে এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসন্রোগাফি মেশিন, এয়ারকন্ডিশন, প্যাথলজি বিভাগ, জরুরি বিভাগ, প্রশাসনিক শাখা পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, চার দিন ব্যাপী স্থায়ী বন্যার পানিতে লামা উপজেলার কমপক্ষে ২০টির অধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ডুবে গেছে। বিদ্যালয়গুলোর বড় এলইডি টিভি, সিলিং ফ্যান, আইপিএস, ল্যাপটপ সহ বেশকিছু আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

আকস্মিক বন্যায় লামা উপজেলার অধিকাংশ সরকারি অফিস পানির নিচে ডুবে যায়। ভয়াবহ বন্যার পানিতে ডুবে যায়- লামা উপজেলা পরিষদ, লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামা থানা, সহকারী পুলিশ সুপার কার্যালয়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি অফিস, প্রাণীসম্পদ অফিস, খাদ্য গুদাম, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাচন অফিস, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা তথ্য অফিস লামা, বিআরডিবি অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, গণপূর্ত অফিস।

লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে গেছে। অসংখ্য স্থানে গাছ পড়ে তাঁর ছিঁড়ে গেছে। লামা সাব স্টেশনে ইয়াংছা সহ কয়েকটি ফিড চালু করা হয়েছে। অসংখ্য বিদ্যুতের লাইন ও মিটার এখনো পানির নিচে। লামা পৌরসভা, রূপসীপাড়া, গজালিয়া, লামা সদর ও বমু বিলছড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করতে সময় লাগবে বলেন পিডিবির এই প্রকৌশলী।

উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার বর্মন বলেন, অধিকাংশ আবাদী জমি ও ফসলের মাঠ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সবধরনের ফসল ও শাক-সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। দু/এক দিনের মধ্যে বন্যা ও বৃষ্টির অবস্থা উন্নতি না হলে কৃষিখাত চরম বিপর্যস্থ হবে। প্রচুর মজুদ সার নষ্ট হয়ে গেছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার বলেন, উপজেলা সদরের সকল অফিস-আদালতসহ সরকারি সকল দপ্তর পানির নিচে প্রায় দিন দিন ডুবে ছিল। বিভিন্নস্থানে ৫২টি আশ্রয়নকেন্দ্রে প্রায় চার হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। প্রায় চারদিন পর লামা পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পৌরশহরসহ উপজেলার প্রায় এলাকা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েজানমালের পাশাপাশি জনসাধারণ ও সরকারের আর্থিক এবং অবকাঠানো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তা নির্ণয়ের কাজ চলছে।##

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park