1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

উদ্বোধনের অপেক্ষায় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩
  • ৬২ বার পঠিত

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ (এসপিএম প্রকল্প) এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। মহেশখালীর মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে গভীর সাগরে স্থাপিত ভাসমান বয়ার মাধ্যমে জ্বালানি খালাসের কাজ ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শিগগিরই হওয়ার কথা। সাগরপথে কম খরচে বিদেশ থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে জ্বালানি খাতের চাহিদা মেটাতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বছরের সরকারের সাশ্রয় হবে ৮০০ কোটি টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বর্তমানে ১১ দিনে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল খালাস করা যায়, প্রকল্পটি চালু হলে সেটির সময় কমে আসবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হবে না। এতে পরিবহন খরচ ও অপচয় হ্রাস পেয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

CIU-JOB-FAIR
২০ জুলাই প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের জিটুজি চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ একর জায়গার উপর ছয়টি স্টোরেজ ট্যাংক ও পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পরিশোধিত তেলের জন্য ও তিনটি অপরিশোধিত তেলের জন্য।

প্রতিটি পরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাংকারের ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজার ঘনমিটার। অপরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাংকারের ধারণ ক্ষমতা ৩০ হাজার ঘনমিটার।

মুরিং পয়েন্ট থেকে ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি আলাদা পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আনলোড করা হবে। এরপর মহেশখালী স্টোরেজ ট্যাংক থেকে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল যাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির শোধনাগারে।

বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে পরিশোধন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এই পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এসপিএম।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় মাদার অয়েল ট্যাংকারগুলো সরাসরি খালাস করা সম্ভব হয় না। সে কারণে এসব ট্যাংকার গভীর সমুদ্রে নোঙ্গর করে ছোট ছোট লাইটারেজ ভ্যাসেলের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল খালাস করা হয়।

এভাবে ১১ দিনে একটি এক লাখ ডিডব্লিউটি ট্যাংকার খালাস করা যায়। গতানুগতিক এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় পাইপলাইন বসানোর প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।

প্রকল্প কর্মকর্তা মনজেদ আলী শান্ত সাংবাদিকদের জানান, ‘জাহাজ ভর্তি অপরিশোধিত যে তেল আসে, সেই তেল মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারিং করে চট্টগ্রামে নেওয়া হত। এতে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগার পাশাপাশি অনেক আর্থিক ব্যয় হত। প্রকল্পটি চালু হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা একটি জাহাজ খালাস করতে পারব।’ এতে করে সরকারের বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ মাসের শুরুতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে তেল খালাস শুরু হয়।

কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্বালানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা চলছে, এরমধ্যে টেকসই জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসপিএম প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মহেশখালীর কালারমছড়ায় স্থাপিত ৬টি ট্যাংকের মধ্যে ৩টি ট্যাংকে ক্রুড অয়েল ও বাকি তিনটিতে ডিজেল সাগর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এনে মজুদ করা হবে। এরপর পৃথক দুটি পাইপলাইনে করে সেটি চট্টগ্রামে রিফাইনানিতে পৌঁছে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, এতদিন গভীর সাগরে নোঙর করা বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিশেষ করে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আনলোড করতে সময় লাগতো ১১ থেকে ১২ দিন। এতে খরচও বেশি হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন এসপিএম প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আনলোড করা যাবে। আর দ্রুত জাহাজ ছেড়ে দেয়া যাবে। ফলে জাহাজ ভাড়া বাঁচবে এবং খরচও কমে আসবে। এতে বছরে সরকারের বাঁচবে ৮০০ কোটি টাকা। এটা দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park