1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২৬ অপরাহ্ন

পর্যটকদের কাছে টানছে পারকি সমুদ্রসৈকতে লাল কাঁকড়া

জাহিদ হাসান হৃদয়, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩
  • ৯৯ বার পঠিত

কারো কাছে সাগরকন্যা, কারো কাছে মিনি কক্সবাজার, আবার কারো কাছে ঝাউবাগান নামে পরিচিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন এলাকা আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকত। একপাশে বঙ্গোপসাগরের আবহমান সৌন্দর্য, অন্যপাশে বাংলাদেশের চলমান সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল। দুইয়ে মিলে পারকি সমুদ্র্রসৈকতকে দিয়েছে নতুন নাম, দিয়েছে নতুন পরিচিতি। কালের বিবর্তনে এই সৈকতের নানাবিধ পরিবর্তন এলেও এবার সমুদ্রচরে দেখা দিয়েছে লাল কাঁকড়ার বিচরণ। সাদা সাদা দুটি লম্বা চোখ। চোখের ওপরে লাল সুতোর মতো দুটি অংশ। চরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত সবখানেই এসব কাঁকড়ার ছুটোছুটি রাঙাতে পারে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমিকের মন।

সরেজমিনে দেখা গেছে শুক্রবার ভোরে পারকি সমুদ্র সৈকতে ঘুরে দেখা যায়, বিচের উত্তর পাশে এবং দক্ষিণ পাশে লাল কাঁকড়া ছড়িয়েছিটিয়ে আছে। দেখতে মনে হচ্ছে যেন লাল রঙের ফুল দিয়ে সাজানো এক নকশিকাঁথা। মানুষের উপস্থিতি পেলেই উধাও হয়ে যাচ্ছে এসব কাঁকড়া। একটু কাছে গেলেই এগুলো ঢুকে যাচ্ছে গর্তে। মানুষের আনাগোনা কমে গেলে তারা আবার গর্ত থেকে বের হয়ে বিচরণ করতে থাকে সৈকতে। ঠিক যেন প্রকৃতির এক লুকোচুরি খেলা।

সৈকতে ঘুরতে আসা পলাশ চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা শহরে থাকি। গতকাল বাড়ি এসেছি। সমুদ্রের পাশেই আমাদের বাড়ি। তা-ই ভোরেই ছেলেকে নিয়ে সৈকতে এলাম। কাঁকড়া দেখে ছেলে আমার ওদের সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করছে। তবে একটা কাঁকড়ারও নাগাল পাচ্ছে না সে। যাওয়ার আগেই গর্তে ঢুকে যাচ্ছে কাঁকড়াগুলো। স্থানীয় আলম নামের এক যুবক জানান, আগে পারকি সমুদ্রসৈকত জুড়ে কাঁকড়ার বিচরণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন এই সৈকতে লাল কাঁকড়া দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরে আবারও সৈকতে লাল কাঁকড়ার বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে।

স্থানীয় বারশত ইউপি চেয়ারম্যান ও পারকি বিচ পরিচালনা কমিটির সদস্য এম এ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, আগে আমাদের ছোটবেলায় এই কাঁকড়ার প্রচুর বিচরণ ছিল পারকি সমুদ্র্রসৈকতে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলো হারিয়ে যায়। করোনার পর থেকে সৈকতে আবারও সেই কাঁকড়ার দেখা মিলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, করোনায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। সমুদ্র্রসৈকতগুলোতে মানুষের পদচারণা কম ছিল। তারপর থেকে দেশের বিভিন্ন চরে লাল কাঁকড়ার বিচরণ শুরু হয়েছে, যা অদ্যাবধি চলমান রয়েছে। তবে দিনকে দিন এই কাঁকড়াগুলো আবারও কমে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সমুদ্রসৈকতে মোটর সাইকেলসহ নানান রকমের যান চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে এসব কাঁকড়া হারিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই পর্যন্ত কাঁকড়ার প্রায় কয়েক হাজার জাত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লাল কাঁকড়া অন্যতম। এরা রোদে বের হয়, শব্দ পেলে ছুটে পালায় নিরাপদে। ঢুকে পড়ে সৈকতের বালিতে নিজেদের তৈরি করা ঘরে (গর্তে)। যখন নিরাপদ আশ্রয় পায় না তখন পা গুটিয়ে বসে যায় এর মধ্যেই। কিন্তু বর্তমানে অনুকূল পরিবেশ না পেয়ে এসব কাঁকড়া হারিয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park