1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৫১ অপরাহ্ন

কলাগাছের আঁশে স্বপ্ন বুনন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩
  • ১৪ বার পঠিত

বান্দরবানে কলাগাছের আঁশের সুতায় হস্তশিল্পের পণ্য তৈরি করে বাণিজ্যিক স্বপ্ন বুনছেন পাহাড়ের নারীরা। ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত কলাগাছ থেকে তৈরি করা সুতায় ফুলদানি, শতরঞ্জি, ব্যাগ, জুতা, শোপিস, টেবিল ম্যাট, প্যান্টার বক্স, কলমদানি, ফাইল ফোল্ডার, শাড়ি, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পজাত জিনিসপত্র তৈরি হচ্ছে জেলায়। স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ নেয়া পাহাড়ের নারীদের তৈরি করা আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব এসব পণ্য হাট–বাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো দামেই। টেকসই এবং গুণগতমান ঠিক রেখে শিল্পটি সম্প্রসারণ করা গেলে পার্বত্য জনপদে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরবে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অপরদিকে পরীক্ষামূলক সফলতার পর বাণিজ্যিকভাবে কলাবতী শাড়ি তৈরির কাজও চলছে। বাণিজ্যিক উন্নতমানের প্রথম শাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা বান্দরবানের জেলা প্রশাসক। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে উপহারের জন্য বাণিজ্যিক প্রথম শাড়িটি তৈরির কাজ অনেকটা শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সালে প্রথম কলাগাছ থেকে সুতা তৈরির জন্য পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। আর্থসামাজিকভাবে পাহাড়ের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীদের নিয়ে আরম্ভ করা এই প্রকল্পটি দ্রুতই আলো ছড়াতে শুরু করে। জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিল্পটি সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ধাপে ধাপে। ইতিমধ্যে কলাগাছের সুতায় ফুলদানি, শতরঞ্জি, ব্যাগ, জুতা, শোপিস, টেবিল ম্যাট, প্যান্টার বক্স, কলমদানি, ফাইল ফোল্ডার হস্তশিল্পজাত জিনিসপত্র স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দোকানগুলোতে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই উদ্যোগে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাসহ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় কলাগাছের আঁশ থেকে সুতা এবং পণ্য তৈরির প্রকল্পটি আলো ছড়াচ্ছে পাহাড়ে। প্রকল্পের সাফল্য ও উদ্যোক্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে সহস্রাধিক নারীকে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে প্রকল্পটি বর্তমানে সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলায়ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে সফলতার পর কলাগাছের সুতায় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি প্রথম শাড়িটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই শাড়িটি তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কারিগর রাধাবতী দেবী বলেন, জীবনে অনেক রকমের শাড়িই তৈরি করেছি। কিন্তু কলাগাছের আঁশের সুতায় শাড়ি তৈরি প্রথম করলাম। সম্ভবত এটি বাংলাদেশে তৈরি প্রথম শাড়ি। আমার নামের সাথে মিল রেখে শাড়ির নাম দেয়া হয়েছে ‘কলাবতী শাড়ি’। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

প্রল্পপ বাস্তবায়নে সহযোগী বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সাইং সাইং উ বলেন, কলাগাছের আঁশ থেকে সুতা এবং বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি পাহাড়ের নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্রতা নিরসনে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, পরিত্যক্ত কলাগাছের আঁশ থেকে সুতা তৈরির উদ্যোগ নেন ২০২১ সালে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলাগাছের আঁশের সুতায় বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরির জন্য ঢাকা থেকে প্রশিক্ষক এনে পাহাড়ের সহস্রাধিক নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। কলাগাছের সুতায় তৈরি হস্তশিল্পের পণ্যগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি পরিবেশ বান্ধব। পাহাড়ের প্রশিক্ষণ নেয়া নারীরা হস্তশিল্পের পণ্যের বাণিজ্যিক স্বপ্ন বুনছেন। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো কলাগাছের আঁশের সুতায় শাড়ি তৈরি। সম্ভবত এটিই প্রথম বাংলাদেশে। এখন বাণিজ্যিকভাবে কলাবতী শাড়ি তৈরির কাজও চলছে। প্রথম শাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। শাড়িটির কাজ অনেকটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park