1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর এখন দুর্নীতির আতুরঘর, দুদকে অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০২৩
  • ৪০ বার পঠিত

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল যেন দুর্নীতির এক আতুরঘর। যেখানে অনিয়ম, ঘুষ ও অরাজকতাকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছে। আর এই দূর্নীতি ও অরাজকতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রেল পূর্বাঞ্চল’র প্রধান প্রকৌশলী (চীফ ইঞ্জিনিয়ার) আবু জাফর মিয়া।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি এতই বেপরোয়া যে, নগদ ঘুষ আদায় ছাড়া ফাইল ছাড়েন না। আর এতে ত্যক্ত-বিরক্ত উন্নয়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। সম্প্রতি তার এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও অরাজকাতার বিস্তারিত তুলে ধরে দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা।

অভিযোগের বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদেন আবু জাফর মিয়া। আর এই সময় থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অরাজকতাকে সঙ্গি করে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরটিকে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিনত করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ (কমিশন) আদায় করে থাকেন। তবে ঘুষের (কমিশনের) টাকা নগদ আদায় ছাড়া তিনি একটি ফাইলও ছাড়েন না। তাছাড়া উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ বা পরিস্থিতি বুঝে তিনি পাঁচ থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের চুক্তিতে উন্নয়ন কাজের উপকরণের মূল্য বাজারের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন। আবার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের খরচ ঠিকাদারদের কাঁধে ঝুঁলিয়ে দেন। যার কারণে কোনো উন্নয়ন কাজের ৩০ শতাংশও সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এতে টেকসই উন্নয়ন জলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, কালুরঘাট সেতুসহ রেলপথের সকল সেতুর সংস্কার ও মেরামত কাজের প্রাক্কলন তৈরি, ঠিকাদার নিয়োগ ও বাস্তবায়ন সব কিছুই হয়ে থাকে রেলওয়ে সেতু বিভাগের ফোকাল পারসন আবু জাফর মিয়ার দপ্তরে। আর এই সুযোগে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে পছন্দের ঠিকাদার নিযুক্ত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান প্রকৌশলীর অধীনস্থ ডিএন-১ ডিএন-২ ও ডিএন-৩ প্রকৌশলীদের দিয়ে ইচ্ছেমত উন্নয়নকাজ হাতে নেয়া হয়। আবার ইচ্ছেমত কমিশন আদায় করে এসব কাজ থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ঠিকাদার জানান, ছয় লাখ টাকার একটি উন্নয়ন কাজ হতে পাঁচ শতাংশ হারে কমিশন নিয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর মিয়া। এই কমিশন না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেননি। আর এই কমিশন আদায়ে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের স্টোনোগ্রাফার কাম পিএ হেমায়েত হোসেন। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি হয়েও তিনি ঘুষের টাকায় চলাফেরা করেন শিল্পপতির মতো। ইতোমধ্যে তিনি হজ্বও করে এসেছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, কাজের চুক্তির সময়েই প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া পাঁচ শতাংশ থেকে দশ শতাংশ কমিশন নিয়ে নেন। আর কাজ বাসবতায়ন কালে ধাপে ধাপে বিভিন্ন নামে ২৮% থেকে ৩০% ঘুষ আদায় করে নেন। প্রতি অর্থবছর এপিপির আওতায় অন্তত ৩০০ কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করা হয়। যার ৩০% অর্থাৎ শতকোটি টাকা চলে যায় প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের পকেটে।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি কেল রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য মেলেনি।

একইভাবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথেও যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে হিউম্যান এইড ইউনিটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আয়াত উল্লাহ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হবে, অসৎ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা না যাবে, সরকারের কোনো উন্নয়ন কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হবে না।

তিনি আরও বলেন, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে দুর্নীতি কমছে না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান ও তদন্তে সোচ্চার হতে হবে বলেন এই আইনজীবি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park