1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:২৬ অপরাহ্ন

খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেটের ৬০০ দালাল শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ মে, ২০২৩
  • ৯ বার পঠিত

সিন্ডিকেট করে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির করার সঙ্গে জড়িত চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ৬০০ মধ্যস্বত্বভোগী দালালের নামের তালিকা সংগ্রহ করেছে জেলা প্রশাসন। বাজার অস্থির হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উমর ফারুক রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন মসল্লার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না বাজার মনিটরিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। এর মধ্যে গত এক মাস আগে রমজানের সময়ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা দরে। সেখানে বর্তমানে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা দরে। একইভাবে আদার কেজি যেখানে ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। সেখানে সেই আদা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকা দরে। রসুন যেখানে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকার ওপরে। অথচ এ সময়ে দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ চাহিদার চেয়ে আরও অনেক বেশি মজুদ রয়েছে। তবে রসুন ও আদা আমদানি অব্যাহত রয়েছে চীন থেকে। আমদানিকারক ও আড়তদাররা পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় দাম বৃদ্ধির কথা জানালেও আমদানি সত্ত্বেও আদা ও রসুনের দাম বাড়তি থাকায় বাজার মনিটরিংয়ে নিয়োজিত সংস্থাগুলো বিস্মিত।

এর কারণ অনুসন্ধানে রোববার বেলা ১১টায় অভিযানে নামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে আমদানিকারক, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের কারসাজির তথ্য পান। এক পর্যায়ে দালাল চক্রের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন আদালত। এতে অন্তত ৬০০ দালাল চক্রকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার উমর ফারুক বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ডিমান্ড অর্ডারের (ডিও) বিপরীতে একটি ক্রয় রসিদ ১০ জনেরও বেশি মানুষের কাছে বিক্রি হয়েছে। আর এতেই ভোগ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে।

এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে যেখানে মূল্য তালিকা ও ক্রয় রসিদ সংরক্ষণ করার কথা সেখানে তা না করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যার যার ইচ্ছেমতো দামে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করছে। আর এর মূল্য যোগাতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। তিনি বলেন, অভিযানে দোকানে মূল্য তালিকা না থাকা, ক্রয়-বিক্রয় রসিদ সংরক্ষণ না করার মতো অনিয়মের অপরাধে বার আউলিয়া ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা, ফরিদপুর বাণিজ্যালয়কে ৩ হাজার টাকা ও জাহেদ নামের একজন বেপারিকে ২ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক মূল্যে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ ভোগ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উমর ফারুক বলেন, বাজারে পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীর মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীর একটা সিন্ডিকেট আছে যারা পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে অনেকাংশে দায়ী। সিন্ডিকেট ভাঙতে আমরা বিভিন্ন ট্রেডিংয়ের দোকান থেকে ছয়শর বেশি মধ্যস্বত্বভোগীর নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিয়েছি। তাদের মাধ্যমে হাত বদল হতে হতে একটি পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশাপাশি মিল মালিকদের কারসাজিও আছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে এদের ট্রেড লাইসেন্স চেকিংসহ পরে এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, খাতুনগঞ্জের অন্তত ৬০০ মধ্যস্বত্বভোগী দালালের নামের তালিকা আমাদের সংগ্রহে আছে। যেকোনো ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park