1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

নারিকেল সংকট: দাম বেড়ে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩
  • ৯৭ বার পঠিত

কক্সবাজারে নারিকেল সংকট দিনদিন প্রকট হচ্ছে। চাহিদামত ফলন হচ্ছে না নারিকেল গাছে। ফলে পানীয় শরবত ডাব পাওয়া দূরহ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারিকেল ও কচি ডাব এনে কক্সবাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও জলাবন্ধতার কারণে নারিকেল উৎপাদন কমেছে বলে মনে করেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নারিকেল অর্থকরী ফল ও তেলজাতীয় ফসল। খাদ্য বা পানীয় হিসেবে নারিকেলের যে শাঁস ব্যবহার করা হয় তা পুরো নারিকেলের ৩৫ শতাংশ মাত্র। বাকি ৬৫ শতাংশ হলো খোসা ও মালা। নারিকেলের মালা দিয়ে বোতাম, অ্যাক্টিভেটেট কাঠ কয়লা, বাটি, খেলনা, কুটির শিল্প, চামচ ও খোসা থেকে আঁশ এবং আঁশজাত দ্রব্য যেমন- দড়ি, মাদুর এসব তৈরি হয়। দড়ি তৈরি করার সময় খোসা থেকে যে তুষ বের হয় তা পচিয়ে উৎকৃষ্ট জৈবসার তৈরি করা যায়।

যশোর ও বাগেরহাট অঞ্চলে নারিকেল খোসার আঁশ ব্লিচিংয়ের মাধ্যমে সাদা করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তাছাড়া সাবান ও কেশ তেল তৈরিতে নারিকেল ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে প্রায় ৩৫ কোটি নারিকেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে প্রায় ১০ কোটি নারিকেল উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ মাত্র ৩ ভাগের ১ ভাগেরও কম চাহিদা মিটানো যায়। আমদানি নির্ভর এই ফল দেশে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন কমেছে।

পুষ্টিবিদদের মতে ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে, পানিশূণ্যদতা প্রতিরোধ করতে ডাবের পানি খুব কার্যকর পানীয়। একটি ডাবের পানিতে চারটি কলার সমান পটাসিয়াম আছে। ফলে শরীরকে সতেজ করে এবং শক্তি দেয়। মোটামুটি সব ঋতুতে ডাবের পানির সমান কদর। তবে গরমে ডাবের কদর অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়কে ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করছিলেন রমজান আলী। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ডাব বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তিনি ডাব হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন কোনটায় কতটুকু পানি আছে, কোনটায় সর বা শাঁস হয়েছে, কোনটার শাঁস শক্ত হয়েছে, কোনটায় পানি কম।

তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীদের জন্য ডাবের প্রয়োজন হয় বিধায় এই এলাকায় কচি ডাব বেশী বিক্রি হয়। কিন্তু এখন যেভাবে ডাবের দাম বেড়েছে তাতে অনেকেই আর ডাব ক্রয় করতে চান না। যে ডাবের দাম ৫০/৬০ টাকা ছিল ওই ডাব এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩০/১৫০ টাকা দরে। রোগীদের চাহিদা ছাড়াও গরমে ডাবের চাহিদা বেশি।

এখন স্থানীয়ভাবে তেমন ডাব নেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাব ক্রয় করে আনতে হয়। মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরের সামনে ডাব বিক্রি করছেন রঞ্জিত দাশ। তিনি বলেন, ১৫০ টাকার কমে ডাব বিক্রি করা সম্ভব নয়। এই ডাবগুলি অন্য একটি জেলা থেকে ১৩০ টাকা করে ক্রয় করে আনা হয়েছে।

ওই এলাকায় উপস্থিত মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এহছানুল করিম জানিয়েছেন, বাঙালি সমাজের মানুষেরা রসনা বিলাসী ফল হিসেবে নারকেলের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। চাহিদা থাকলেও ডাব কিংবা নারিকেল এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

উদ্ভিব বিজ্ঞানী কাউচার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দূর্যাগ ছাড়াও স্থানীয় ভাবে নারিকেল গাছে তেমন যত্ন নেওয়া হয় না। নিদৃষ্ট ভাবে কোন নারিকেল চাষীও নেই। এক বছর ফল না দিলে ওই গাছ কেটে ফেলে অনেকেই। যার ফলে ফলন কমে গেছে। আগামীতে নারিকেল গাছ বৃন্ধি ও ফল বাড়ানোর জন্য কোন কর্মসূচী গ্রহন করা না হলে সংকট আরো তীব্র হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park