1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে গ্যাস বিপর্যয়ে চরম জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩
  • ২৭ বার পঠিত

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখায় গতকাল শনিবার থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী এলাকায় গ্যাস-সংকট বিরাজ করছে। যদি ঘূর্ণিঝড়ে মহেষখালীতে এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস-সংকট দেখা দিবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন কম। ফলে অন্য জায়গা থেকে চট্টগ্রামসহ সংকটপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে মহেষখালী ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে চট্টগ্রামে গতকাল সারা দিন গ্যাস পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক খাতে গ্যাস মিলছে না। গ্যাস নির্ভর সকল পর্যায়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মহেষখালী থেকে দৈনিক ৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হত।

গতকাল চট্টগ্রামে সারা দিন গ্যাস-সংকটে শিল্পে উৎপাদন ও মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। রান্নার চুলা জ্বলছে না। গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস মিলছে না। গ্যাস চালিত যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে। কাফকো সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এলএনজি মজুত ও সরবরাহ মহেষখালী টার্মিনাল থেকে হয়ে থাকে। এখন এলএনজির নিরাপত্তার কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ছোট সমস্যা হলে সরবরাহ চালু রাখা যায়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা বড় ধরনের দুর্যোগ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে আপাতত:এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যে কোনো সময় এলএনজি সরবরাহ চালু করা হবে।’

চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত ১১টা থেকে গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রাউজানে দুটি ইউনিটের মধ্যে গ্যাস-সংকটে একটি ইউনিট চালু ছিল। এখন গ্যাস না পাওয়ায় শুক্রবার রাত ১১টা থেকে চালু থাকা ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৬ লাখ ২ হাজার গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। তার মধ্যে আবাসিক সংযোগ ৫ লাখ ৯৭ হাজার। এসব সংযোগের জন্য দৈনিক মাত্র ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, দেশে এলএনজি ছাড়াও দৈনিক ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। তা থেকে চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিলে কোনো সমস্যা হবে না। রাত ১২টার পর পাইপ লাইনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঢুকিয়ে দিলে তা দিয়ে সারা দিন আবাসিকের চাহিদা মেটানো যাবে। আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখলে মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park