1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

‘ঝড়ের আমে’ রমরমা ব্যবসা

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ মে, ২০২৩
  • ১২৭ বার পঠিত

রাজশাহীর বাগানগুলো থেকে আম নামানো শুরু হবে আরও প্রায় ২০-২৫ দিন পর। কিন্তু এরই মধ্যে কাঁচা আমে ভরে গেছে বাজার। ঝড়-ঝঞ্ঝাসহ আবহাওয়ার নানা প্রতিকূলতায় গুটি অবস্থায় ঝরে পড়া কাঁচা আমেও রমরমা ব্যবসা শুরু হয়েছে।

আমচাষিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাজশাহীতে আমগাছগুলো মুকুলে ভরে যায়। এর ৮০ শতাংশের বেশি গুটি হয়। পরে মৃদু, মাঝারি, তীব্র ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় ঝরতে শুরু করে গুটিসহ কাঁচা আম। গত সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রতিদিনই হালকা ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণেও আম ঝরে পড়া অব্যাহত রয়েছে, যা দিয়ে ভরে গেছে রাজশাহীর বাজারগুলো।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা আম রাজশাহীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। এসব কাঁচা আম রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাজারজাত করার প্রস্তুতিও চলছে। ২০-২৫ দিন পর পাকা আমও নামতে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে শুরু করবে রাজশাহী থেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড়ে ঝরে পড়া আম দিয়েই আম মৌসুমে ব্যবসার সূচনা হয়। ক্রেতাদের আমের আগাম চাহিদাও মেটে। এসব কাঁচা আমের কোনোটিতে আঁটি এসেছে, কোনোটি একেবারেই কাঁচা। এর ভর্তা ও জুস স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের কারণে সমাদৃত।

বাজারে নতুন আসা মৌসুমি ফলের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কারণেই এখন কাঁচা আমের দাম একটু বেশি। অন্য সময় ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ঝরে পড়া কাঁচা আম। কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারগুলোতে সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে কাঁচা আম আসতে শুরু করে, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে তেমন ঝড় না হওয়ায় এখনো সেভাবে আমের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। কালবৈশাখী হলে প্রচুর পরিমাণে আম বাজারে আসবে। তখন কাঁচা আমের দাম আগের মতোই কমে যাবে।

নগরের সাহেববাজারে থাকা মাস্টারপাড়ার পাইকারিবাজার, জিরোপয়েন্ট বড় মসজিদের সামনে, রেলস্টেশন কাঁচাবাজার, শালবাগান বাজার ও নওদাপাড়া বাজার ঘুরে কাঁচা আম বিক্রি হতে দেখা গেল। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, কোর্ট বাজার ও কাটাখালি বাজারেও উঠছে বিভিন্ন জাতের কাঁচা আম।

সরেজমিনে দেখা যায়, মান ও জাতভেদে কাঁচা আম এখন ২৫ থেকে ৩০ ও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেবল ফজলি আম (মাঝারি) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি করে চাইছেন অনেকে।

নগরীর শালবাগানে ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন যে ফলই বাজারে আসুক তার প্রতি ক্রেতাদের একটু ঝোঁক বেশি থাকে। কাঁচা আমের চাহিদা এখন বেশি। তিনি ২৫ টাকা কেজি দরে কাঁচা আম কিনেছেন বলে জানান।

মাস্টারপাড়া বাজার এলাকার আম-বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, গত দুদিন হালকা ঝড়ে অনেক কাঁচা আম ঝরে পড়েছে। গোদাগাড়ীর কদম শহর থেকে সেগুলো নিয়ে বাজারে এনেছেন। বড় আকারের ফজলি আম প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, চলতি বছর রাজশাহীতে ১৮ হাজার হেক্টর বাগানে ২ লাখ ৩০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। কিছু এলাকায় হালকা ঝড় ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আম ঝরেছে। এতে উৎপাদনের কোনো ঘাটতি হবে না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park