1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

কৃষিজমি ধ্বংস করে প্রকল্প, ক্ষোভ

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১০ বার পঠিত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন ১১টি খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। এর আওতায় ৩০ কিলোমিটার খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শত শত একর কৃষিজমি ধ্বংস করে সীমানা চিহ্নিতকরণ ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ কিংবা জমি অধিগ্রহণ না করেই এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। খালের প্রস্থ ৮৫ ফুট, গভীরতা ১৬ থেকে ১৮ ফুট এবং নিচে ২০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও নিয়ম মানা হচ্ছে না।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম-কানুন মেনেই খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে একটি মহল। তারা কৃষক ও জমির মালিকদের উস্কানি ও ইন্ধন দিচ্ছে। যদিও স্থানীয় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের সত্যজিৎ বিশ্বাস বলেন, আবাদি জমি খনন করে বেড়িবাঁধের জন্য মাটি নিতে গিয়ে আইল পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। এ কারণে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সীমানা বিরোধের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণও পাননি।

গত সোমবার পটিয়ার ভাটিখাইন ইউনিয়নের করল মৌজায় খননের স্থানে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফরান রানা। তিনি অভিযোগ করেন, খালের পরিবর্তে ফসলি জমিতে পুকুরের মতো গর্ত করে মাটি এনে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। ভরাট করা হচ্ছে ফসলি জমি। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৃষকদের ওপর জুলুম করছে। কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।

লাইভে কৃষিজমির মাটি কাটার চিত্রও তুলে ধরেন কাউন্সিলর। পরে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই মৌজায় তাঁদের প্রায় চার একর জমির মধ্যে আড়াই একর নষ্ট করা হয়েছে। ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পাউবোর কর্মকর্তারা সীমানা চিহ্নিত করলেও, জমি কেটে ফেলেছেন ঠিকাদার। সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে গরিব কৃষক প্রতিবাদ করতে না পারেন; এটি জুলুম। খাল খননের নামে অর্থ লোপাট হচ্ছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, টেন্ডার শিডিউল অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে। মাটি রাখতে হচ্ছে মানুষের জমিতে। এ কারণে কৃষিজমির কিছুটা ক্ষতি হলেও উন্নয়নের কথা ভেবে ভোগান্তি মানতে হবে। ক্ষতিপূরণের জন্য পাউবোর পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হয়নি।

কারা ক্ষতিপূরণের টাকা আটকে রেখেছে বা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ না দিয়ে খাল খনন বা বেড়িবাঁধ নির্মাণের সুযোগ নেই।

খাল খননে অধিগ্রহণের নিয়ম নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, খালটি শিট ধরে কাটা হচ্ছে। সরকার কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর পরও বাধা আসা বন্ধ হয়নি।

সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, কাউন্সিলর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। খালের প্রবাহ যেদিকে, খনন হবে সে পথে। যে জমি থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে, তার মালিক ১০ বছরের খাজনা পাবেন। ষড়যন্ত্র করে কাজ বন্ধ করা যাবে না। কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করতে সাময়িক সমস্যা মেনে উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park