1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

রোয়াংছড়িতে আট লাশ উদ্ধার; ভয়ে গ্রাম ছেড়ে স্কুলে আশ্রয় নিল ৯০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৫ বার পঠিত

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সশস্ত্র দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভয়ে, আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে রোয়াংছড়ি সদরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে ৯০টি পরিবারের ১৭৮ জন মানুষ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে খানতাম পাড়া এলাকা থেকে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম খানতাম পাড়া এলাকায় পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সাথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের অস্ত্রধারীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এবং গতকাল সকালে কয়েক

দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ের ঢালে ৮ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতদের মধ্যে ৭ জন বম জনগোষ্ঠীর সদস্য বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেছে কেএনএ। এরা হলেন ভানদু বম (৩৫), সাংখুম বম (৪৫), সানফির থাং বম (২২), বয়ে রেম বম (১৭), জাহিম বম (৪০), লাল লিয়ান নাং বম (৪৪) ও লালঠা জার বম (২৭)। নিহতরা রোয়াংছড়ি উপজেলার জুরভারাং পাড়া ও পানখিয়াং পাড়ার বাসিন্দা। নিহত অপরজনের নাম–পরিচয় পাওয়া যায়নি।

কেএনএর দাবি, সরকারের মদদে অস্ত্রধারী সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী বম জনগোষ্ঠীর লোককে হত্যা করেছে। তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা বলেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়। তাদের হাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নেই। এদিকে গোলাগুলির

ঘটনায় রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের খানতাম পাড়ার খেয়াং জনগোষ্ঠীর ৯০টি পরিবারের ১৭৮ জন নারী–পুরুষ ও শিশু আতঙ্কে পালিয়ে রোয়াংছড়ি সদরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কারীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

আতঙ্কিত পাড়াবাসী সাথোয়াই খেয়াং ও অংলে খেয়াং বলেন, খানতাম পাড়াটি রোয়াংছড়ি ও রুমা দুটি উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকায়। পাড়ার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে বিকট শব্দে গোলাগুলি হয়েছে। গোলাগুলি কাদের মধ্যে হয়েছে জানি না। কিন্তু আমরা দুই পারের পাড়াবাসী ভয়ে,

আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে রোয়াংছড়ি সদরে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে। তাদের গায়ে জলপাই রঙের পোশাক ছিল।

রোয়াংছড়ির থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, সন্ত্রাসী দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৮ জনের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দুটি সংগঠনের মধ্যকার গোলাগুলিতে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park