1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২৭ অপরাহ্ন

প্রযুক্তিতে জৌলুশ হারাচ্ছে হালখাতা উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১১ বার পঠিত

বাংলা নববর্ষে অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ ‘হালখাতা’। বাংলা সন চালু হওয়ার পর নববর্ষ উদযাপনে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে হালখাতা দ্বিতীয় বৃহৎ অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেনাদার ও পাওনাদারের মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা ও গভীর সম্পর্কের প্রকাশ ঘটত হালখাতার মাধ্যমে। এটা ছিল সৌজন্য প্রকাশের এক ঐতিহ্য।

বাঙালির চিরচেনা মিলনমেলার উৎসব হালখাতা উদযাপনের এমন দৃশ্য আজ আর নেই বললেই চলে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও পারস্পরিক আস্থার সংকটে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব অনেকটাই যেন রং হারিয়েছে। তবে হালখাতার চল এখনো আছে চট্টগ্রামে কিছু কিছু স্থানে।

বাংলা সন চালু হওয়ার পর নববর্ষ উদযাপনে নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পয়লা বৈশাখের দ্বিতীয় বৃহৎ অনুষ্ঠান ছিল ‘হালখাতা’। অনুষ্ঠানটি করতেন ব্যবসায়ীরা। কৃষিভিত্তিক সমাজ ফসল বিক্রি করে হাতে নগদ পয়সা পেত। পাট ছিল নগদ পয়সার উৎস। ফসলের মৌসুমে ফসল বিক্রির টাকা হাতে না এলে

কৃষকসহ প্রায় কেউই নগদ টাকার মুখ খুব একটা দেখতে পেতেন না। ফলে সারা বছর বাকিতে জিনিসপত্র না কিনে তাদের কোনো উপায় ছিল না। পয়লা বৈশাখের হালখাতা অনুষ্ঠানে তাঁরা দোকানিদের বাকির টাকা মিটিয়ে দিতেন। অনেকে আংশিক পরিশোধ করেও নতুন বছরের খাতা খুলতেন। তারা পণ্য

বাকিতে বিক্রি করতেন। সবাই সবাইকে চিনতেন বলে বাকি দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধা থাকত না। টাকা কেউ মেরে দেবে না বলেই বিশ্বাস করতেন তাঁরা। এর আগে পয়লা বৈশাখে নবাব ও জমিদারেরা ‘পুণ্যাহ’ উৎসব পালন করতেন। নতুন বছর শুরু। শুরু নতুন একটি খাতা খোলা, হিসাব–নিকাশ হালনাগাদ করা।

দোকানগুলোতে আগের মতো এ চিত্রের দেখা এখন মেলে না। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হাতে লেখা খাতা থেকে অনেককে নিষ্কৃতি দিয়েছে। ১০/১৫ বছর আগেও আড়ত ও দোকানগুলোতে হালখাতার যে জাঁকজমক অনুষ্ঠান দেখা যেত, তা এখন আর নেই। আগে ব্যবসায়ীরা মুখের কথায় বিশ্বাস করে লাখ লাখ

টাকা বাকি দিতেন। তার বেশিরভাগই উসুল হতো হালখাতার দিনে। এখন লেনদেনটা অনেকে ব্যাংকের মাধ্যমে চুকিয়ে নেন। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে আয়োজনের ধরণ। সেই দিন আর নেই। নেই সেই হালখাতা উৎসবও। অথচ সার্বজনীন উৎসব হিসেবে ‘হালখাতা’ ছিল বাংলা নববর্ষের প্রাণ। বাঙালির হাজার

বছরের ঐতিহ্যর এই প্রাণের হালখাতা উৎসব যেন আজ আধুনিক যুগের অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবীর কাছে ধোপে টিকতে পারছে না।

নগরীর হাজারী গলি, চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জে এ আয়োজন এখনও আছে কিছুটা। ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশই নতুন খাতা শুরু করেন নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তার নামে। হিন্দুরা পয়সায় সিঁদুর মেখে নতুন খাতায় ছাপ দিয়ে থাকেন। এরপর শুরু করেন নতুন বছরের লেনদেনের হিসাব। হালখাতা উৎসব শুধু হিসাবের নতুন

খাতা খোলার বিষয়ই নয়, পাওনা আদায়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের আপ্যায়নের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।

নগরীর খাতুনগঞ্জের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন ঘুরে চিরচেনা হাতে লেখা খাতার ব্যবহার বেশি একটা দেখা যায়নি। দোকানে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনার হিসাব রাখা হচ্ছে। ফলে ক্যাশিয়ারের পাশে থাকা চিরচেনা লাল কাপড় কিংবা কাগজে মোড়ানো হিসাবের হালখাতার বইটিও চোখে পড়েনি তেমন।

টেরীবাজারের চিটাগাং ফেব্রিকস স্যুটিং হাউসের সত্ত্বাধিকারী মো: শওকত ওসমান চৌধুরী জানান, যারা পুরনো ক্রেতা তাদের নিমন্ত্রণ করা হয়। তবে আগে ক্রেতাদের উপহার দিলেও এখন আর তা দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, হালখাতার আবেদন আগের চেয়ে অনেক কমেছে এটা ঠিক, তবে একেবারে ফুরিয়ে গেছে এটা বলা যাবে না। হালখাতায় হিসেব নিকেষ হয়তো বন্ধ আছে, কিন্তু রেওয়াজটা রয়ে গেছে।

হালখাতার বড় পরিসরে আগের উৎসব ঐতিহ্য এবং বর্তমানে এর পরিসর কমে আসা বিষয় নিয়ে নবীণ ব্যবসায়ী এবং নিউমার্কেটের রণি জুয়েলার্সের কর্ণধার রুবেল সাহা বলেন, আগে হালখাতা উৎসবে অন্য রকম একটা আনন্দ ছিলো। যার যার সাধ্য মতো কার্ড ছাপানো। ব্যাপক পরিসরে উৎসব আনন্দে হালখাতা পালন করা হতো।

বর্তমানে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী প্রায় সবাই ইংরেজি মাসের ওপর ভিত্তি করে আয় ব্যয় করেন। নগদ বিক্রি অথবা বাকি লেনদেন সবই হয় ইংরেজি মাসের ওপর ভিত্তি করে। তাই ধীরে ধীরে পয়লা বৈশাখে হালখাতা প্রথা হারিয়ে যাচ্ছে।

আজাদী

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park