1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

যাদের রোজা না রাখার অনুমতি আছে

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৬ বার পঠিত

ইসলাম ধর্ম এমন এক ধর্ম যার মধ্যে কোন বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি নেই। ইসলাম ধর্ম অতি কঠোর নয়, আবার অতি সহজও নয়। শরিয়ত প্রণেতা আমাদের উপর কোন একটা বিষয়কে ফরয করেছেন, ক্ষেত্রবিশেষ ছাড়ও দিয়েছেন। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের উপর রামাযানের রোযা ফরয করেছেন। তিনি এরশাদ ফরমান, ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। (সূরা বাকারাহ ১৮৫) রোযা একজন সুস্থ-মস্তিষ্ক মুসলমান বালেগের উপর ফরয। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা তরক করে, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো, একটি গোলাম আযাদ করা। যদি সম্ভব না হয় ধারাবাহিকভাবে ষাটটি রোযা রাখা। তা-ও যদি সম্ভব না হয়, ষাটজন মিসকিনকে দুই বেলা আহার করানো। কাফফারা ওয়াজিব হবে তাদের উপর, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওজর ছাড়া রোযা তরক করবে। তবে কিছু ব্যক্তির জন্য ইসলাম ছাড় দিয়েছেন, যাদের আলোচনা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. মুসাফির ব্যক্তি: মুসাফির ব্যক্তির জন্য সফরের হালতে রোযা না রাখার অনুমতি আছে। কারণ সফর মানুষের জন্য একটু কষ্টদায়ক হয়। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ ফরমান, যে লোক মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। (সূরা বাকারাহ-১৮৪) মুসাফির সফর থেকে যখন মুকীম হবে, রোযাগুলোর কাযা করবে। হ্যাঁ, যদি মুসাফির সফরের হালতে কষ্ট না হয় তবে রোযা রাখাই উত্তম। মুসাফির ব্যক্তি সম্পর্কে আনাস রা.কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যে রোযা রাখবে না, সে অবকাশ গ্রহণ করল আর যে রোযা রাখল, সে উত্তম কাজ করল। (রুদ্দুল মুহতার ২/৪২১)

২. অসুস্থ ব্যক্তি: অসুস্থ ব্যাক্তির জন্যও রমাদানের রোযা না রাখার অবকাশ রয়েছে। যদি রোযা রাখার ফলে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা সুস্পষ্ট থাকে কিংবা প্রাণনাশের আশংকা থাকে, তবে তার জন্যও রোযা না রাখার অনুমতি আছে। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ ফরমান, যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। (সূরা বাকারাহ- ১৮৪) হ্যাঁ, যদি কোন অসুস্থ এমন, যার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, পরবর্তীতে কাযা রোযা রাখার সামর্থ্যও নেই- তিনি ফিদইয়া আদায় করবেন। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ ফরমান, এটি (কাযা রোযা রাখা) যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। (সূরা বাকারাহ-১৮৪)

৩. গর্ভবতী মহিলা: রোযা রাখার ফলে যদি গর্ভবতী মহিলা নিজের ও সন্তানের মারাত্মক সমস্যা কিংবা প্রাণনাশের আশংকা থাকে, তাহলে তার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে। (দুররুল মুখতার ২/৪২২)

৪. দুগ্ধদানকারিণী মহিলা: এমন সন্তান যার আহার একমাত্র দুধ, সে সন্তান অন্য খাবারেও অভ্যস্ত নয়, এমন সন্তানের দুগ্ধদানকারিণীর জন্যও অবকাশ আছে। হাদিসে আছে, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণীর জন্য রোযার হুকুম শিথিল করা হয়েছে। (আত-তিরমিযি- ১/১৫২)

৫. দুর্বল বৃদ্ধ, হায়েয ও নেফাছ চলাকালীন অবস্থাতেও রোযা না রাখার অনুমতি আছে। হায়েয-নেফাছ চলাকালীন অবস্থায় নামায ও রোযা মাফ। তবে রোযা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে। দুর্বল বৃদ্ধ যাদের পরবর্তীতে কাযা রোযা রাখার সামর্থ্য নেই- তারা ফিদইয়া প্রদান করবে।

লেখক: ইসলামি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park