1. admin@prothomctg.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

হাতি চলাচল ব্যাহত; বন্যপ্রাণীর অভয়রণ্য মানুষের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩
  • ১৮ বার পঠিত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বন্য জীবজন্তুর জন্য সংরক্ষিত ও নিরাপদ বসবাসের স্থান। কিন্তু বাস্তবে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। অভয়ারণ্যের ভেতরে মানুষের অবৈধ স্থাপনা ঘর বাড়ি নির্মাণ করে মানুষ বছরের পর বছর বসবাস করে যাচ্ছে। যার ফলে বন্যপ্রাণী বিলুপ্তি ও হুমকির মুখে, চুনতি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে রোডের পাশে কয়েকটি স্থানে হাতি পারাপারের সাইনবোর্ড দেয়া থাকলেও মূলত এখন আগের মত আর হাতি চলাচল করে না।

সরেজমিনে চুনতি বনাপুকুর নামক স্থানে নামাজের যাত্রা বিরতিকালে মোস্তাক নামে এক বয়স্ক চট্টগ্রাম কক্সবাজার রোডের ট্রাক চালকের কাছে জানতে চাইলে, এই রোডে কত বছর যাবত গাড়ি চালান, তিনি বলেন প্রায় ২০-২৫ বছর যাবত। এই রোডে কি হাতি পারাপার হতে দেখেছেন, তিনি বলেন ১০-১৫ বছর আগে দেখা যেত কিন্তু এখন তো দেখা যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু স্থানীয় এক বাসিন্দা হাতি পারাপারের ব্যাপারে বলেন, আগের মত তেমন হাতি চলাচল করে না। কারণ হিসাবে বলেন, অভয়ারণ্যের ভেতরে শত শত ঘরবাড়ি করে মানুষ বসবাস করে যাচ্ছে। যার ফলে হাতি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের সমাগমে হাতির মনে একটা ভীতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে হাতির চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে অভয়ারণ্যের ভেতরে সরেজমিনে স্থানীয়দের ভিন্ন ভিন্ন মতামত জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষকের কাছে অভয়ারণ্যের ভেতরে এত ঘরবাড়ি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই যে দেখছেন দুই পাহাড়ের মাঝখানে নালধানি জমিগুলো এইসব খতিয়ানভুক্ত, কিছু টিলাও খতিয়ানভুক্ত আছে আবার অনেকে খতিয়ানভুক্ত জায়গার আশপাশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধ দখল করে স্থায়ী ঘরবাড়ি করছে। আবার কেউ কেউ ক্ষেত-খামার হাতির তান্ডব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টিলার ওপরে ছোট ছোট ঘর কিংবা গাছের উপরে টংঘর বানিয়ে পাহারা দেয়। হাতির তা-বের কারণ জানতে চাইলে বলেন, পাহাড়ে হাতির খাবার কমে যাওয়ায় ধানক্ষেতের ওপর হানা দেয়।

কি কারণে কমে গেছে জানতে চাইলে বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী বন কর্মকর্তার অগোছরে চুরি করে অভয়ারণ্যের ফলজ ও অন্যান্য গাছ কেটে পাচার করে। ফলে হাতি কিংবা অন্যান্য প্রাণির খাবার কমে গেছে এবং ক্ষুধা নিবারনের জন্য আমাদের ক্ষেত-খামারে এসে কিছু খায় কিছু নষ্ট করে ফেলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি ক্ষোভের সাথে বলেন, বন বিভাগের লোকেরা জানায় হাতির সাথে মানুষের চলাচলের সাংঘর্ষিক হয় সেই জন্য হাতি ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে।

মূলত তারা বাগান করার কথা বলে পাহাড়ের গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয় কিনা জানি না। শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে, সাধারণ মানুষের দোষ দেয়। আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, পরবর্তী বর্ষাকালে চারা রোপন করার সময় আর জঙ্গল পরিষ্কার করতে হয় না, কিন্তু চারা রোপন করার জন্য সুফলের আওতায় জঙ্গল পরিষ্কার করার যে বাজেট আসে তা তারা পরিষ্কার না করে খেয়ে ফেলে যে পরিমাণ বাগান করার কথা বলে গাছ কেটে ফেলে, সেই অনুপাতে বাগান করা হয় না। কিছু কিছু লোক দেখানো বাগান করে, যা বন্যপ্রাণীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে দিনে দিনে অভয়ারণ্যে প্রাণীদ্বয়ের খাদ্য কমে যাচ্ছে। এবং বন্যপ্রাণীর বসবাসের নিরাপদ স্থান সংকুচিত হচ্ছে। ফলে তারা মানুষের কষ্টে করা চাষাবাদ ও ক্ষেত নষ্ট করে। মানুষ দিনরাত কষ্ট করে পাহারা দিয়ে ও ধান ঘরে নিতে পারেনা।

এ প্রসঙ্গে চুনতির ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনুর কাছে হাতি আগের মত আছে কিনা এবং মহাসড়ক পার হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতি আছে তবে আগের মত মহাসড়ক পারাপার হতে শোনা যায় না, অভয়ারণ্যর ভেতরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদের ব্যাপারে বলেন- আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভয়ারণ্য সংরক্ষণ কিংবা সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় বন কর্মকর্তারা যদি আমার কাছে সহযোগিতা চায় আমি সর্বদা সহযোগিতা করব।

এই ব্যাপারে চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জার মাহমুদের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তার ধারাবাহিক বক্তব্যে বলেন, ১৯৮৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৩ একর জায়গা নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের সূচনা হয় এবং সেখানে হাতি সজারু, মায়া হরিণ, বন্য শুকুর, বনরুই, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির কাঠবিড়ালি, বনমোরক, সর্প, খরগোশ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জোন হিসাবে গড়ে তোলা হয়।

তবে হাতির সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০টি হবে এবং হাতির প্রজনন সবচেয়ে বেশি চুনতি অভয়ারণ্যে হয় এবং ২০১২ সালে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি হাতি প্রজননের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক চুনতি অভয়ারণ্য পুরস্কার লাভ করেছিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন, পরিবেশের, ও জলবায়ু এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রাণীদ্বয়ের জন্য খাদ্য ও বাসস্থান হিসেবে হরিতকি, বহেরা, চাপালিস, তেলচর, সিভিট, গামার, শিমুল, মহুয়া, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছের বাগান করা হচ্ছে, অভয়ারণ্যের পূর্ব থেকে কিছু লোক নিজ খতিয়ান ভুক্ত জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জায়গা অবৈধ দখল করে বসতি স্থাপনা করছে এবং এগুলো উদ্ধার কাজ চলমান জবর দখলের পরিমাণ ৭১৩.৮২ একর।

২৩২৪ জনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা চলছে ২০২১ সালে ১৮ নভেম্বর আমি যোগদান করার পর ৬০ থেকে ৬৫ হেক্টর জায়গা অবৈধ উচ্ছেদ করে মোট ১২০ হেক্টর বাগান সৃজন করছি এবং অবৈধ উচ্ছেদ চলমান থাকবে। আমরা পাহাড়ে কখনো আগুন দিই নাই এবং পাহাড়ে আগুন দেয়ার কোন আইন নাই। দুষ্কৃতকারীরা হয়তো দিতে পারে, এটা আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার তিনি আরো জানান- চুনতি অভয়ারণ্য হাতি প্রজননের জন্য এখনো এগিয়ে বন সংরক্ষণের জন্য আমরা নতুন নতুন বনায়ন করে যাচ্ছি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park