1. admin@prothomctg.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

রক্ষক যখন ভক্ষক!

প্রথম চট্টগ্রাম ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
  • ১৪৭ বার পঠিত

চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের প্রধান হিসেবে (চট্টগ্রাম বন সার্কেলের) দায়িত্বে আছেন বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাশ। যিনি চট্টগ্রাম বন সার্কেলের ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ বনবিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ, কাঠ পাচার রোধ, কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি-নিয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকাননে এই বন সংরক্ষকের দপ্তর। তিনি এই দপ্তরে বসে বান্দরবান বন বিভাগ, চট্টগ্রাম জেলার অধীন কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ, পাল্পউড বাগান বিভাগ, লামা বন বিভাগ, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ও বন ব্যবহারিক বিভাগসহ চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এসব বন বিভাগের সফলতা ও ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তার উপরেই বর্তায়। বন বিভাগের মূল কাজ বন-বাগান সৃজন, বন রক্ষা। কিন্তু এই বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিটি স্তরে অনিয়ম-দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য, কাঠ পাচার, পাচারকৃত কাঠ উদ্ধারে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার অভিযোগের দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগের অনুলিপি এসেছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামে পাহাড় ঘেরা বনাঞ্চল আজ হুমকির সম্মুখীন, শুধু কাঠ আর কাঠ পাচার হচ্ছে অবাধে, অবৈধ কাঠে সয়লাব চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। যে পয়েন্টগুলোতে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার কাঠ বাণিজ্য হয়ে থাকে।

কিন্তু—এই ৯ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ নির্বিচারে কেটে চট্টগ্রাম হয়ে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে পাচার করা হচ্ছে হরহামেশাই। এইসব দেখভালের সর্বোচ্চ দায়িত্বরত কর্মকর্তা হচ্ছেন বন সংরক্ষক নিজেই। কিন্তু তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের উদাসীনতা ও চোরাই কাঠ পাচারের সিংহভাগ কমিশন প্রাপ্তির কারণে সবকিছুতেই তিনি নিরব ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তথ্য সূত্র জানা যায়–চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় বেশ কয়েকটি চোরা পয়েন্ট রয়েছে, যেসব পয়েন্টে অবৈধ কাঠে সয়লাব থাকে সারাক্ষণ। প্রতিরাত এসব পয়েন্টে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান হতে কাঠ ভর্তি ট্রাক আনলোড করা হয়। এসব কাঠের সঠিক কোন বৈধ কাগজ পত্র থাকে না।

অবৈধ কাঠগুলি যেখানে ট্রাকে আনলোড করা হয় সেখানকার সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাকে গাড়ী প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। আর সড়কে যেসব স্থানে ফরেস্ট চেক ষ্টেশন রয়েছে সেসব ফরেস্ট চেক স্টেশনে গাড়ীপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক হতে কাঠ আনলোড করা হয়।

কাঠ ভর্তি খোলা ট্রাক চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করার পূর্বেই চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন শহর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে রাতেই প্রতি ট্রাক কাঠের জন্য ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। যদি কাঠ ভর্তি ট্রাক ত্রিপল দিয়ে ঢাকা থাকে অথবা কাভার্ড ভ্যান হয় সেক্ষেত্রে প্রতি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের জন্য দিতে হয় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

এই টাকার ভাগ কমিশন হিসেবে উপ বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক পর্যন্ত পৌছায়। শুধু মাত্র ট্রাক বা কাভারভ্যানেই নয়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রায় শত-শত খোলা জীপ ও পিকআপে অবৈধ গোল কাঠ, রদ্দা, চিরাই সেগুন, গামারী, গর্জন, চাপালিশ, চাম্পাফুল, গোদা, বৈলাম ইত্যাদি মূল্যবান কাঠ এসব পয়েন্টে এসে আনলোড হয়।

পয়েন্টগুলো হলো- চট্টগ্রাম শহরে ঢোঁকার পথে অক্সিজেনের এলাকার বিভিন্ন স’মিল। এসব স’মিলের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর এক্সেস রোডের মোখছেদুর রহমান (কাজল) সওদাগরের স’মিল। হাজী সুফিয়ানের স’মিল, বজল সওদাগরের স’মিল এবং পতেঙ্গা থানার অন্তর্গত কাঠগড় এলাকায় আব্দুল কাদেরের স’মিল। হালিশহরের সবুজ বাগের বিভিন্ন স’মিল, ফিরিঙ্গি বাজার চেয়ারম্যান ঘাটা রোডের জনতা স’মিল, বাংলাদেশ স’মিল।

এদিকে—কাপ্তাই রাস্তার মাথা হতে কালুরঘাট ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পার্শ্বে কমপক্ষে ২০টি স’মিল রয়েছে। বহাদ্দরহাট হতে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পার্শ্বের অবৈধ কাঠের দোকান ও দোকানের গোডাউন সমূহ এবং স’মিল সমূহে প্রচুর অবৈধ মূল্যবান কাঠ অবৈধ ভাবে এসে জমা হয়। আর খাগড়াছড়ির যে সব স্থান হতে অবৈধ কাঠ ট্রাকে, পিকআপ ও জীপে এবং কাভারভ্যানে লোড হয় স্থানগুলো হলো মাটিরাঙ্গা, গচ্চাবিল জামতলা, মানিক ছড়ি ও তিনটহরী অন্যতম।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাশ এক বন বিভাগ হতে অন্য বন বিভাগের রেঞ্জার, ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার, বন প্রহরী, বাগান মালি, অফিস সহকারীদেরকে বদলি ও নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রে তিনি নাম মাত্র তাহার অধীনস্থদের নিয়ে গঠিত বদলি কমিটির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পছন্দের বন বিভাগে বদলি করে থাকেন।

অনিয়ম-দুর্নীতি ও কাঠ পাচারের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাঠ পাচার সিএফ করে না। জীবনে কোন দিন দুর্নীতি করেনি, এগুলো ডিএপো’রা কন্ট্রোল করে, আমার রোলস অব বিজনেস আমি জানি, আমাকে কেউ কোন দিন চা খাওয়াতে পারেনি। দুই নম্বরি ৫ নম্বরি সব উত্তর-দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএপো’রা করে। আপনি লিখতে পারেন, আমি হানড্রেড পার্সেন্ট না, আমি দুইশ পার্সেন্ট সৎ দাবী করে প্রতিবেদকে এবিষয়ে নিউজ করলে মামলার হুমকি দেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন উজাড়, বনভূমি বেদখল, অবৈধভাবে বনভূমি বরাদ্দ কিংবা তার ব্যবহারের সঙ্গে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একাংশের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যোগসাজসে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকরণ করা হয়েছে। এখানে বাস্তবে রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা অন্যদিকে দেখলাম যে, অধিদপ্তরের নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলি এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার আর্থিক অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি জর্জরিত।

উল্লেখ্য—চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ, পাল্পউড বাগান বিভাগ, বান্দরবান বন বিভাগ, লামা বন বিভাগ ও বন ব্যবহারিক বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকতর লোভনীয় বন বিভাগ বলে জানা যায়। যার কারণে বন সংরক্ষকরা সব-সময় অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

প্রিয় পাঠক—দ্বিতীয় পর্বে দেখুন এই বন সংরক্ষক ও উপ-বন সংরক্ষকসহ কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আরও এক্সক্লুসিভ খবর।

সূত্র সকালের-সময়/২২ মার্চ ২০২৩-

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৬ প্রথম চট্টগ্রাম। @ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park